মঙ্গলবার ১৫ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

ক্রসফায়ারের ভয়ে নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসীরা আতঙ্কে রয়েছে

আপডেটঃ ১২:৩৮ অপরাহ্ণ | জুন ২১, ২০১৯

মোঃসাইফুল ইসলাম একা- বিশেষ প্রতিনিধি- ( ক্রাইম )-: পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জের যোগদানের পর পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উন্নতির চরম শিখড়ে আহরণ করেছে। মাত্র কদিনের ব্যবধানে বদলে গেছে গোটা নারায়ণগঞ্জের চিত্র। নানা দুর্নীতি আর অনিয়মের প্রতি কঠোর অবস্থানে থাকার কারনেই অনেকটাই স্বস্থিতে নারায়ণগঞ্জবাসী। আর সেই সাথে যেনো অস্বস্থি আর আতঙ্কে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত সদস্য লিপু নিহত হওয়াত মাধ্যমেই যেনো আবারও নারায়ণগঞ্জে ক্রসফায়ারের সূচনা হলো বলেই পুলিশের সূত্রে জানা যায়।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ডাকাতদের ‘বন্দুক যুদ্ধে’ লিপু (৩০) নামে এক ডাকাত নিহত হয় বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ভোর সকালে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আর এই পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জে আসার পরই এটিই প্রথম ক্রসফায়ার। বিগত দিনে মাদক ব্যবসায়ীদের ধর পাকড়াও নারায়ণগঞ্জে অনেকটাই মাদক থেকে দুরে। অধিক টাকায়ও মাদক সংগ্রহ করতে পারছে না মাদক ব্যবসায়ী, সেবীরা এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ইতিপূবে।

সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পুলিশের কঠোরতার মাধ্যমেই চিহ্নিত দুধর্ষ ডাকাত, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারী এবং চিহ্নিত ছিনতাইকারী তালিকা তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ও অপরাধীদের দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকায় আতঙ্কে রয়েছে অপরাধীরাও। গত ক্রসফায়ারের ঘটনায় আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়েছে চিহ্নিত অপরাধীরা।

মীর হোসেন মীরু:  ইতিপূর্বে, ফতুল্লা থানার তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরুকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কিন্তু বর্তমানে জামিনে থাকলেও গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবকলীগের কুতুবপুর ইউনিয়ণের সভাপতি পরিচয়ে একটি সুরক্ষিত বাহিনী গঠন করে হেন কোনো অপকর্ম নেই যা করেনি। তিনি ফতুল্লা থানার তালিকাভূক্ত ১০ নম্বর শীর্ষ সন্ত্রাসী।
মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু: 

অপরদিকে, ফতুল্লা নয়ামাটির দুর্ধষ সন্ত্রাসী ভূমিদুস্য ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু যিনি বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে সর্বত্র পরিচয় দিয়ে থাকেন। গত ২০ এপ্রিল রাতে ফতুল্লার লামাপাড়ার নয়ামাটি এলাকার নিজ বাসার সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তাকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পুলিশের। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে তিনটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এছাড়া তালিকাভুক্ত ওই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় পূর্বেও ১০টি মামলা ও সিদ্ধিরগঞ্জ ৯টি রয়েছে বলেও জানা যায়।
সুত্রমতে, ক্রসফায়ারে নিহত দুর্ধষ কিলার রেকমত বাহিনীর প্রধান রেকড নিহত হওয়ার পর তার অস্ত্রভারের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে তারই উত্তরসূরি মোফাজ্জল হোসেন চুন্নুর কাছে। স্থানীয়দের মতে, চুন্নু ও তার বাহিনীর কাছে অজ¯্র পরিমাণের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। যার কিছু একাধিকবার গ্রেফতারে উদ্ধারও করেছিলো র‌্যাব ও পুলিশ।
বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুসন্ধান করে জানা গেছে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন চুন্নুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা, সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে।

এরমধ্যে ফতুল্লা থানায় ই¯্রাফিল হত্যা মামলা ১৭(১৩/১০/৮৮ইং), চিফ জুডিশিয়াল আদালত (খ অঞ্চল) একটি চাদাঁবাজি সিআর মামলা ৫০৭ (২০০৯ইং)। র‌্যাব-১১’র ডিএডি আব্দুল জলিল মোল্লা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অস্ত্র মামলা করেন চুন্নুর বিরুদ্ধে যার নং ৪(৩/৩/১৫ইং), সদর মডেল থানায় একটি নাশকতা-জ্বালাও পোড়াও মামলা ১৫ (১৯/১/১৫ইং)। যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন জুয়েলকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফতুল্লা থানায় মামলা ৭১ (২৩/৮/১৪ইং), চুরির দায়ে শরীফ হোসেন বাদী হয়ে চুন্নুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন যার নং ৮৪ (৩০/১০/১৫ইং), খোরশেদ আলম বাদী হয়ে চুন্নুর বিরুদ্ধে একই থানায় মামলা দায়ের করেন যার নং ৫৫ (১৬/২/১৪ইং), সাংবাদিক আসিফ ইকবাল মুকুটকে প্রাণ-নাশের হুকমির মামলা ১০৫ (৬/২/১৫ইং), আলোচিত ব্যবসায়ী সাঈদ অপহরন ও গুম এর মামলারও আসামী সে।

সালাউদ্দিন বিটু

অধরা রয়েছেন শহরের শীতলক্ষ্যা এলাকার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বিটু। তবে সূত্র বলছে বিটু পার্শ্ববতি দেশ ভারতে অবস্থান করেই চালাচ্ছেন নিজের কর্মকান্ড। এখনও রয়েছে অধরা। সালাউদ্দিন বিটু একজন সাবেক কাউন্সিলর ও একজন জনপ্রতিনিধির আত্মীয়ের ছত্রছায়া দীর্ঘদিন ধরে শহর ও তার আশপাশের এলাকায় পাইকারি ও খুচরা ইয়াবা ব্যবসা করে থাকে। শহর ও শহরতলিবাসী বিটুকে এক নামেই চিনেন এবং জানেন মাদকের ডিলার হিসেবে। নারায়ণগঞ্জ শহরের তামাকপট্টি এলাকার আবিদ আলী চৌধুরী ওরফে হাবলু চৌধুরীর ছেলে সে। তাঁর রয়েছে বিশাল মাদকের নেটওয়ার্ক। পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা হিসেবেই তাঁকে চেনে এবং জানে শহর ও শহরতলীর মাদক বিক্রেতারা। আরেক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হাজী ইব্রাহিমের অন্যতম শীষ্য এই সালাউদ্দিন বিটু। তাঁর মাদকের নেটওয়ার্ক শহর এবং শহরতলীতে বিস্তৃত। বেশ কয়েকবার বড় বড় মাদকের চালান নিয়ে আটক হলেও ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদে ফের জামিন নিয়ে বের হয়ে আসে এই ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসায়ী।

গত ২০ জুনের ক্রসফায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা গোয়ান্দে পুলিশের পরিদর্শক এনামুল হক জানান, জেলার পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের নির্দেশনায় মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গতকাল ডাকাত দলের সদস্য বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় নিহত হয়েছে। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। এছাড়াও মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া ক্রসফায়ের পর জেলা জুড়ে সন্ত্রাসীরা আতঙ্কে রয়েছে।