রবিবার ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

‘ডিআইজি মিজানের সঞ্চয় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বেশি হয় না’

আপডেটঃ ১২:০২ অপরাহ্ণ | জুলাই ০৩, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ১৯৯১ সালের ব্যাচ। তার সারা জীবনের সঞ্চয় এক কোটি ৬৬ লাখ টাকার বেশি হয় না বলে জানিয়েছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল।

তিনি বলেন, ‘দুদক বলছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, দুর্নীতিকে উচ্ছেদ করবো, দমন করবো। আর সেটার জন্য আইনের প্রয়োজন আছে। আইন ছাড়া তো কিছু করা যাবে না। সুতরাং আইনের যে পরিবর্তন, সংশোধন হয়েছে সেই সংশোধনের এক নম্বর মামলা হলো ডিআইজি মিজানের মামলা। সোমবার উচ্চ আদালতে জামিন নিতে গিয়েছিলেন ডিআইজি মিজান। উচ্চ আদালত তাকে জামিন না দিয়ে গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়ে পুলিশের মাধ্যম দিয়ে আদালতে হাজির করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাড়ে ৪ কোটি টাকার সম্পদ তার কাছে পাওয়া গেছে। ডিআইজি মিজান ১৯৯১ সালের ব্যাচে পুলিশের চাকরিতে যোগদানকারী। তার সারা জীবনের সঞ্চয় এক কোটি ৬৬ লাখ টাকার বেশি হয় না।

মঙ্গলবার ডিআইজি মিজানের জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মোশাররফ হোসেন কাজল।

তিনি বলেন, ‘ডিআইজি মিজান যে কাগজপত্র দাখিল করেছেন, তথ্য দিয়েছেন, যে বক্তব্য দিয়েছেন সেই বক্তব্যের আলোকে দুদক প্রাথমিক তদন্ত করে একমত হয়েছে যে, তিনি তথ্য গোপন করেছেন। তিনি তার সম্পদকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে করে পরবর্তী সময়ে এফডিআরসহ হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ডিআইজি মিজানের মামলাটি ব্যতিক্রমধর্মী মামলা। সাধারণভাবে মানুষ তথ্য গোপন এবং আহরণ করে। সেখানে সম্পদকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রাখাটা কেমন যেন দেখা যায়। এ কারণে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ। প্রথমটি হলো, সম্পদের তথ্য গোপন ও আহরণ এবং দ্বিতীয় অভিযোগ হলো হস্তান্তর, রূপান্তর।’

দুদকের এ প্রসিকিউটর বলেন, ‘উনার মামলার তদন্ত চলছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক রিপোর্ট কমিশনের কাছে আছে। এগুলো আদালতে দাখিল করার বিষয় না। সেগুলো তদন্ত কর্মকর্তার বিষয়। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেই দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী তিনি যদি সঠিক দিতেন তাহলে তো তিনিই দেখাতে পারতেন। তিনি যেটা দিয়েছেন সেটার আলোকে গড়মিল হওয়াতেই তথ্য গোপন এবং সম্পদের বিষয়টি এসেছে।’

মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘ব্যতিক্রম মামলার মধ্যে সেটা হলো এই, দুদক প্রত্যেক ব্যক্তিকে ডাকে। ডেকে বলে আপনাদের কাছে যে কাগজপত্র আছে তা দাখিল করেন। আর সেই দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ডিআইজি মিজান যেটা দিয়েছেন সেটার মধ্যে গড়মিল পাওয়া গেছে। গড়মিল পাওয়ার আলোকেই মামলাটি এসেছে। তিনি ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। সেখান থেকে এক কোটি ৬৬ লাখ টাকার সম্পদ বৈধভাবে আয় করতে পারেন। এর বাইরে যে সম্পদ আছে সেগুলো অবৈধভাবে করেছেন।

ডিআইজি মিজানকে রিমান্ডে নেওয়া হবে কি না সাংবাদিকদের- এ প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে রিমান্ড চাইবেন।’