রবিবার ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

কে এই ভুয়া এএসপি রাকেশ

আপডেটঃ ১:০১ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ০৭, ২০১৯

আব্দুল আলীম-চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোর শহরের দড়াটানা হতে গ্রেফতারকৃত এএসপি পরিচয়দানকারী রাকেশ কে ? এই নিয়ে জনমনে উঠেছে গুঞ্জনের ঝড়। যশোরের চৌগাছার প্রত্যেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকার দোকান-পাঠ, বাজার-ঘাটে চলছে এই নিয়ে জল্পনা-কল্পনা।শুক্রবার ৫ জুলাই সকালে ভুয়া এএসপি রাকেশ কুমার ঘোষের গ্রামের বাড়ি চৌগাছার বহেলাপোতায় অবস্থান করে তার বাবা সন্তোষ কুমার ঘোষের সাথে কথা হয়। রাকেশ কুমার ঘোষ তার বাবার একমাত্র ছেলে। তার একটি বোন আছে বিবাহিত। বাড়িতে শুধুমাত্র মা-বাবার বসবাস। রাকেশের বাবা বলেন, আমার ছেলে যশোর ক্যানটনমেন্ট কলেজে বাংলা বিভাগে অনার্স শেষ করে এবার মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছে। যশোরে মেসে থাকে বলে জানি। মাঝে ভিসা অফিসে কাজ করতো। এখন করে কিনা জানিনা। তবে কয়েক মাস আগে বড় চাকুরী হচ্ছে বলে আমার নিকটে পাঁচ লক্ষ টাকা চায়। আমি গরীব মানুষ, ছেলের চাকুরী হচ্ছে শুনে খুশিতে আত্মহারা হয়ে অতি কষ্ট করে জমিজমা নষ্ট করে ও আত্মীয় স্বজনের কাছে হাত পেতে টাকা জোগাড় করে পাঁচ লক্ষ টাকা দিই। কিন্তু ছেলেকে নিয়ে আমার স্বপ্ন এভাবে ভেঙ্গে যাবে আমি ভাবিনি। আমার ছেলে যে অবৈধভাবে এতদুর পর্যন্ত এগিয়ে গিয়েছে আমি এবং আমরা তার কিছুই জানিনা। আমার জীবনে কি ফল আছে তা সৃষ্টিকর্তায় ভালো জানে। এই বলে সবার সামনে বিলাপ করে কাঁদতে থাকে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সফিকুর রহমান বলেন, আমরা জানি রাকেশ যশোরে লেখাপড়া করে। কিছুদিন আগে চাকুরীর জন্য বাবার নিকট থেকে টাকা পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়।

কিন্তু পুলিশের ভুয়া এএসপি পরিচয় দিয়ে অপরাধ করায় কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশের হাতে ধরা খাওয়ার বিষয়টি আমরা পরে নেটে জানতে পারি। কিন্তু আমরা তার বাবাকে জানায় নি। হতাশ হয়ে ক্ষতি হতে পারে বলে।

উল্লেখ্য, পুলিশ প্রধানের প্রোটোকল অফিসার আবার কখনও সহকারী পুলিশ সুপার পরিচয়দানকারী প্রতারক রাকেশ ঘোষকে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার কোতয়ালি মডেল থানার এসআই সাহিদুল আলম ও এএসআই মোল্লা শফিকুজ্জামান চ্যালেঞ্জের মুখে দুপুরে শহরের প্রানকেন্দ্র দড়াটানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।কোতয়ালি মডেল থানার এসআই সাহিদুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাকেশ ঘোষ একটি নাম্বার থেকে এসআই সহিদুল আলমের মোবাইল নাম্বারে ফোন দেয়। ফোন দিয়ে নিজেকে এএসপি পরিচয় দিয়ে সাহিদুল আলমকে বলেন উচ্চস্বরে বলেন তোমার চাকুরী খেয়ে ফেলা হবে। সাহিদুল আলম তার অবস্থান জানতে চাইলে রাকেশ ঘোষ শহরের প্রাণ কেন্দ্র দড়াটানা মোড়ের কথা জানান। পূর্ব তদন্ত সূত্র মোতাবেক সেই ভুয়া এএসপি হিসাবে পরিচয়দানকারী রাকেশ সেখান থেকে গ্রেফতার হয়।