বৃহস্পতিবার ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

কলমাকান্দায় ২৮ লক্ষ টাকার পাউবো মহাদে ও নদী সংরক্ষণ বাঁধে ধস……….

আপডেটঃ ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ০৭, ২০১৯

কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) সংবাদদাতা:নেত্রকোণার কলমাকান্দায় নিম্মমানের কাজ হওয়ায় চিকুনটুপ এলাকায় প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মহাদেও নদী সংরক্ষণ বাঁধ ধসে পড়েছে।
টেকসই বেড়িবাঁধ না হওয়ার কারণে এ পযন্ত্য নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী রংছাতী ইউনিয়নের চিকুনটুপ গ্রামের শতাধিক পরিবারের বসতঘর জমি পাহাড়ি মহাদেও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ বছর আবারও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদী ভাঙ্গনের আশঙ্কা রয়েছে। বিলীন হয়ে যেতে পারে বরুয়াকোনা বাজার, বিওপি ক্যাম্প, চিকুনটুপ গ্রামে ৩৫০ পরিবার বসত ঘর জমি।
স্হানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায় বাশঁ ও বালু বস্তা দিয়ে দায়সাড়া ভাবে কাজ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ কাজের কোন উপকার আসেনি স্থানীয় বাসিন্দাদের। পাহাড়ি ঢলের কারণে নদী ভাঙ্গনের আশঙ্কা রয়েছে। বিলীন হয়ে যেতে পারে বরুয়াকোনা বাজার, বিওপি ক্যাম্প, চিকুনটুপ গ্রামে ৩৫০ পরিবার বসত ঘর জমি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আতাউল হক গনি জানান গেল বছর উপজেলার সীমান্তবর্তী মহাদেও নদী পাড় চিকুনটুপ এলাকায় পাহাড়ি ঢল এর আকস্মিক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য নেত্রকোণার পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৮০ মি: (১ হাজার হাত লম্বা) একটি বাঁধ প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্ধারণ করে প্রকল্পের দরপত্র আহবান করেন। পরে নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রাক্কলন অনুযায়ী কোন কাজ করেননি বলে জানান ওই ইউপি সদস্য । তিনি আরো বলেন বাশঁ ও বালু বস্তা দিয়ে দায়সাড়া ভাবে কাজ করেন। যার ফলে এ কাজের কোন উপকার আসেনি স্থানীয় বাসিন্দাদের। পাহাড়ি ঢলের কারণে নদী ভাঙ্গনের আশঙ্কা রয়েছে। বিলীন হয়ে যেতে পারে বরুয়াকোনা বাজার, বিওপি ক্যাম্প, চিকুনটুপ গ্রামে ৩৫০ পরিবার বসত ঘর জমি।
ভূক্তভোগী চিকুনটুপের বাসিন্দা আ: রব হাওলাদার জানান প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা বরাদ্ধের প্রাক্কলন কাজ করেনি ঠিকাদার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও তদারকি করেনি। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শেষ হওয়ার দু,মাস পর পাউবো মহাদেও নদী সংরক্ষণ বাঁধ ধসে পড়ে।
বরুয়াকোনা বাজারের ব্যাবসায়ী মো. মজনু মিয়া বলেন অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ হওয়ায় সুফল পায়নি এলাকার মানুষ । তবে লাভবান হয়েছে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অসাধু কিছু কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে রংছাতী ইউপি চেয়ারম্যান মোছাৎ তাহেরা খাতুন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান মহাদেও নদী সংরক্ষণ বাঁধ অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।পাহাড়ি ঢল থেকে বরুয়াকোনা বাজার, বিজিবি বিওপি ক্যাম্প, চিকনটুপ গ্রামের সাড়ে তিনশ পরিবারকে রক্ষা করার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ করার দাবী জানিয়ে তদন্ত পূর্বক ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্হা নেওয়ার দাবী জানান তিনি।
এ ব্যাপারে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান এর ০১৭৫৬৭৭৭৭৯২ মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে বলেন আমার এস,এ,ও, সাথে কথা বলেন। উনার কথা মত উপসহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম এ ০১৬১২০০৩৮৭৬ মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি প্রতিনিধিকে বলেন আমি নেত্রকোনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে সদ্য যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমি এখন কিছুই বলতে বা তথ্য দিতে পারছি না। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবো।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.জাকির হোসেন তিনি বলেন মহাদেও নদী সংরক্ষণ বাঁধ নিম্মমান কাজের স্থানীয় লোকজনের মৌখিক অভিযোগ পেয়ে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাক্কলনে কি কি দিয়ে কাজ করার কথা, কোন দপ্তর করেছে আমার অফিসে এর কোন কাগজ নেই। তবে নিম্মমানের কাজ হওয়ায় চিকুনটুপ এলাকায় মহাদেও নদী সংরক্ষণ বাঁধ ধসে পড়েছে। সরেজমিনে বাঁশ ও বালু বস্তা দিয়ে দায়সাড়া ভাবে মহাদেও নদী সংরক্ষণ বাঁধ কাজ করার সত্যতা পেয়েছি। ওই নদীর ভাঙ্গন এলাকায় জরুরীভিত্তিতে একটি স্থায়ী গাইডওয়াল নির্মাণ করার জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃকপক্ষের নিকট প্রস্তাব পাঠানো হবে।