শুক্রবার ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

কুষ্টিয়ায় স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা

আপডেটঃ ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ০৯, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীনের দিং এর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছেন বাদী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্বস্তিপুর গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে খোরশেদ আলম। আসামী হলেন সদর উপজেলার আলামপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে রুহুল আমীন ও সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের কাথুলিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন। দন্ডবিধি ৪২০/৪৬৮/৪৭১ ধারায় এই মামলা করা হয়। মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় একটি এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়। ১নং আসামী রুহুল আমীন গত ১৫/১১/২০০৯ তারিখে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করতঃ দায়িত্ব পালন করিতেছেন। ২০০৯ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিতষ্টানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রঃ বিধান মালার বিধি বিধান অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও পরিচালিত হয়। ১নং আসামী উক্ত প্রঃ বিধানমালার বিধান অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক হিসেবে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সচিবও বটে। স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের শুন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় এবং বিধি বিধান মোতাবেক নিয়োগ নির্বাচনী ও বোর্ড গঠন করা হয়। বাদী নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের সভাপতি মনোনিত হন। বর্ণিত নিয়োগবিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে ২নং আসামী সহ অনেক প্রার্থী আবেদন করেন। ৭জন বৈধ প্রার্থী হিসেবে ১৩/০৩/২০১৯ ইং তারিখে বেলা ২.৩০ ঘটিকা হইতে প্রধান শিক্ষক জেলা স্কুল কুষ্টিয়ার দপ্তরে নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। প্রশ্ন পত্র ১নং আসামী হেফাজতে রক্ষিত ছিল। ১নং আসামী অসৎ উদ্দ্যেশ্য ২নং আসামীর নিকট হইতে প্রচুর অংকের টাকা লইয়া নিজে লাভবান হইবার জন্য ২নং আসামীকে নির্বাচন করার জন্য গোপন পরিকল্পনা আটে এবং ২নং আসামীর সাথে যোগসাজস করিয়া তাহাকে নির্বাচন করিবার মানসে নিয়োগ নির্বাচনী সভা শুরুর পূর্বেই বাদী ও অপরাপর সদস্যগণ কে ভুল বুঝাইয়া রেজুলেশন খাতায় ৮৩ পাতায় উপস্থিত অগ্রীম স্বাক্ষর গ্রহন করেন এবং গোপনে বাদী সহ অন্যান্য সদস্যের অজ্ঞাতে ২নং আসামীকে পরীক্ষার পূর্বেই প্রশ্নপত্রের ফটোকপি প্রদান মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেন। বাদী লিখিত পরীক্ষার অনুষ্ঠানে প্রায়ই শেষের দিকে তার লোক পরস্পর যোগে এবং লিখিত পরীক্ষার পক্ষে ২নং আসামীর নিকট ১নং আসামীর অধিক্ষন উপস্থিত থাকায় এবং প্রশ্নের উত্তর বুঝাইয়া দেয়া ইত্যাদি মাধ্যমে ১-২ আসামী পরস্পর আতাতের বিষয়টি জানাজানি হইলে একপর্যায়ে বাদী নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য বলেন। ১নং আসামী নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে বলে বাদীকে জানান এবং বন্ধ রাখা সংক্রান্ত রেজুলেশনের স্বাক্ষর লাগবে বলে রেজুলেশন খাতার ৬৪ পাতায় মাঝামাঝি অংশের ডান দিকে অলিখিত রেজুলেশনে বাদীকে ভুল বুঝাইয়া বাদীর স্বাক্ষর হাসিল করেন। বাদী পরীক্ষার স্থল হইতে বাড়ীতে ফিরে আসেন। ১নং আসামী রুহুল আমীন একজন জালিয়াত শ্রেনীর ব্যক্তি । তিনি ২নং আসামীর সহিত যোগসাজশে ২নং আসামী নির্বাচিত দেখানোর জন্য ২নং আসামীর নিকট হইতে প্রচুর অর্থ নিয়ে উল্লেখিত ১৩/০৩/২০১৯ তারিখে বিদ্যালয়ের রেজুলেশন খাতায় ৬৪ পাতায় অলিখিত স্খানে অপরাধ মুলক বিশ্বাস ভঙ্গ করতঃ প্রতারনা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ২নং আসামীকে নির্বাচিত দেখানো মর্মে একটি জাল যোগসাজশি, তঞ্চকী রেজুলেশন সৃষ্টি করে। প্রকৃত পক্ষে উক্ত সিদ্ধান্তটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারনে বর্ণিত নিয়োগ নির্বাচন বন্ধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ছিল।
১নং আসামী প্রতারনামূলক যোগসাজশী রেজুলেশন সৃষ্টি করে তাহা দ্বারা ম্যানেজিং কমিটির সভায় ২নং আসামীর নিয়োগ অনুমোদন করিয়া লইয়ার প্রয়াশ করেন। ০৬/০৪/২০১৯ ইং তারিখে ম্যানেজিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বর্নিত নিয়োগ কার্যক্রম ১নং আসামী কর্তৃক প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া এবং ২নং আসামীকে ১নং আসামী কর্তৃক তাহা সরবরাহ করা এবং ২নং আসামীর উত্তরপত্রের পাতা পরিবর্তন বা নম্বর পরিবর্তন করার বিষয়ে উত্থাপিত হইলে কমিটির সভ্যগণ উদ্ধত বিষয়ে সেখ মইনুদ্দিন আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ আব্বাস এর সমন্বয়ে ৩সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। তদন্ত কমিটি নিয়োগ নির্বাচন যথাযথ হয়েছে কিনা তা তদন্ত করতঃ প্রতিবেদন দিবেন। প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর নিয়োগ বিষয়ে চুড়ান্ত বিষয় হইবে এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। সভায় প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ৮ম ও ৯ম শ্রেনীর বোর্ড নিবন্ধিত রেজিষ্ট্রেশন ফিসের টাকা হইতে অধিক টাকা গ্রহনের বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয় আলোচনা হয়। সেখ মইনুদ্দিন আহমেদ কে প্রধান ৫সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তের খসরায় ১নং আসামী নিজ হস্তে লিপিবদ্ধ করেন। যাহাতে বাদী দেখিলাম লিখিয়া অনুস্বাক্ষর দেন। গত ০৬/০৪/২০১৯ ইং তারিখে সভায় জাল-জালিয়াতি ভাবে কথিত ৩নং সিদ্ধান্ত গ্রহন দেখান যাহাতে ১৬/০৩/২০১৯ ইং তারিখে নিয়োগ নির্বাচন বোর্ডের সভায় ২নং আসামীকে নির্বাচিত দেখান এবং উহা বাস্তবায়নের জন্য তাহার প্রতি সভায় অনুরোধের সিদ্ধান্ত দেখান।