শুক্রবার ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

অসহায় কবিতনকে গড়ে দিলেন চিলমারীর ইউএনও স্বপ্নের ঘর-সুখের ঠিকানা !

আপডেটঃ ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১০, ২০১৯

এম.জি.ছরওয়ার: চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ বামী হারা কবিতন কখন বৃষ্টিতে কখনো রোদে কষ্টেই ছিল তার জীবন। রোদ বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে একটি ছোট্ট ভাঙ্গা ঘরেই ছিল তার সংসার। ইচ্ছা থাকলেও কখনো উপায় হয়নি স্বামী রেখে যাওয়া ভাঙ্গা ঘরটি মেরামত করে একটু সুখের মুখ দেখার। শুধু তাই নয় বৃদ্ধ বয়সে এসেও কখনো ভাবেনি দেখবে একটি সুখের আশ্রয়। সরকারী সহযোগীতায় তার সেই আশা পুরন করলো চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ শামসুজ্জোহা আর দেখালো সুখের একটি ঠিকানা একটি আশ্রয়। সেই সাথে সেই ঠিকানায় এখন স্বপ্ন বুনছে কবিতন। জানা গেছে, আশ্রয়ণের অধিকার-শেখ হাসিনার উপহার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অফিসের তত্বাবধানে “জমি আছে, ঘর নেই” প্রকল্পের অধীনে অসহায় গৃহহীন পরিবারের মাঝে গৃহ নির্মাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সেই সাথে এই প্রকল্পের অধিনে ঘর পান কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের খড়খড়িয়া গ্রামের মৃত আলিপুদ্দিনের স্ত্রী কবিতন। প্রায় ৬ বছর আগে স্বামী হারান কবিতন, ৪ ছেলে মেয়ে নিয়ে ছিল তার অভাবের সংসার অন্যান্য ছেলে মেয়ের বিয়ে হলেও মানসিক প্রতিবন্ধি ছেলে লাবলুকে নিয়ে ছিলেন বড় বিপাবে। স্বামী রেখে যাওয়া একটি ভাঙ্গা ঘরে প্রতিবন্ধি ছেলেকে নিয়ে কখনো রোদে কষ্ট করতেন আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজতেন। অভাবের সংসার তাই কখনো ঠিক করতে পারেননি ঘরের সমস্যা গুলো এবং ভাবতেও পারেননি তা ঠিক করতে পারবেন বা একটি নতুন ঘর তুলতেন পারবেন। বিষয়টি জানতে পেরে তার পাশে দাড়ালেন চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ শামসুজ্জোহা আর সেই সাথে সরকারী সহযোগীতায় তার সেই স্বপ্ন পুরন হলো। তাকে দেখালেন স্বপ্নে বাড়ি, গড়ে দিলেন স্বপ্নের ঠিকানা। কবিতন বলেন খুব কষ্টে দিনাপাত করতাম তাই ভাঙ্গা ঘর মেরামত বা নুতুন করে তোলা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি কিন্তু আজ সরকার আমার সেই স্বপ্ন পুরন করেছে আমাকে দিয়েছে একটি সুখের ঠিকানা একটি আশ্রয়। এলাকাবাসী জানান, সত্যি কবিতন খুব অভাবী আজ সরকারের সহযোগীতায় তিনি একটি ঘর পেয়েছেন এটা খুব আনন্দের। ঘরের কাজ সমাপ্ত হওয়ায় পর মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে কবিতনের বাড়ি পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, শতভাগ নিয়ম মেনে এবং হত দরিদ্র ও গৃহহীনদের বাছাই করে এই ঘর দেয়া হয়েছে। কাজের মান ১০০ ভাগ নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসাবে এই প্রকল্প এখানে সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এবং প্রকৃত সুবিধাভুগিরা সুফল পাচ্ছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের সরকার জনগনের সরকার এটাই তার একটি প্রমান আমরা চেষ্টা করছি যেন সকল অসহায় মানুষ তাদের একটি আশ্রয়ের ঠিকানা পায়। চলতি বছরে এই প্রকল্পের অধিনে ৭২টি ঘর প্রদান করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিএ মোঃ জোবাইদুল ইসলাম।