শনিবার ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

নানান অপরাধে খোকসাতে বদলী ……….. ঘুষের ৯০ হাজার টাকা ফেরৎ দিলেন দুর্নীতিবাজ কর্মচারি-(ডিসি অফিসের অফিস-সহকারী ) আনোয়ার …..?

আপডেটঃ ১১:৫৯ অপরাহ্ণ | জুলাই ১২, ২০১৯

শামসুল আলম স্বপন-: অবশেষে ঘুষের ৯০ হাজার টাকা ফেরৎ দিলেন কুষ্টিয়া ডিসি অফিসের অফিস-সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আনোয়ার হোসেন । তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ পাওয়ার কারণে খোকসাতে শাস্তিমুলক বদলী করেছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন । বিএনপির কট্টর সমর্থক এই কর্মচারি দীর্ঘ দিন কুষ্টিয়াতে চাকরি করার সুবাধে নিজ নামে ও বে-নামে কুষ্টিয়াতে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড় ।
শাস্তিমুলক বদলী হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানাযায়, কুষ্টিয়া সুগার মিলের কর্মকর্তা সেতাফুর রহমান তার নিজ নামে একটি বন্দুকের লাইসেন্স করেন। কিছুদিন পূর্বে তিনি মারা গেলে পরিবারের সকল সদস্য একমত হয়ে মৃতু সেতাফুর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমান এলেনের নামে বন্দুকের লাইসেন্স হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এলেন সমস্ত কাজপত্র নিয়ে হাজির হন অস্ত্র লাইসেন্স নবায়ন করার দায়িত্বে থাকা অফিস-সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আনোয়ার হোসেনের কাছে । সুযোগ বুঝে আনোয়ার হোসেন এলেনের কাছে ২ লক্ষ টাকা দাবি করেন । ঘুষের টাকা না দেয়ায় কাজ না করে এলেনকে ঘুরাতে থাকেন দিনের পর দিন। ঘুষ ছাড়া কাজ হবে না বিষয়টি স্পষ্ট জানিয়ে দেন আনোয়ার । এলেন বাধ্য হয়ে আনোয়ার হোসেনকে ৯০ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করেন। ফাইলের কিছু কাজ এগিয়ে এলিনের কাছে আরো অতিরিক্ত ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন আনোয়ার । এলেন আর কোন টাকা দিতে পারবে না জানালে তার আবেদন ফাইল বন্দি করে রেখে দেন আনোয়ার । পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এলেন স্মরনাপন্ন হন সাংবাদিকদের। গত বুধবার দৈনিক কালের কন্ঠের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তারিকুল হক তারিক, প্রথম আলোর প্রতিনিধি তৌহিদি হাসান শিপলু ও সমকালের প্রতিনিধি সাজ্জাদ রানা ঘুষ নেয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করালে অফিস-সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আনোয়ার হোসেনকে তাৎক্ষনিক খোকসাতে বদলী করেন । বিষয়টি নিশ্চিৎ করেন অভিযোগকারী সাংবাদিকরা। জেলা প্রশাসক ঘুষের টাকাও ফেরৎ দেয়ার নির্দেশ দেন

এরই প্রেক্ষিতে দুর্নীতিবাজ এই কর্মচারি গত বৃহস্পতিবার এলেনকে ঘুষের ৯০ হাজার টাকা ফেরৎ দেন। ঘুষের টাকা ফেরৎ দেয়ার ব্যাপারে আনোয়ার হোসেন বলেন উর্ধতন কর্তৃপক্ষে নির্দেশে টাকা ফেরৎ দিয়েছি । কিন্তু তিনি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যসব অভিযোগ অস্বিকার করেন। ভুক্তভোগী এলেন জানান,জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আনোয়ার হোসেন আমাকে তার ভাইয়ের কুষ্টিয়া ইসলামী ব্যাংকের থাকা হিসাবের মাধ্যমে ঘুষের ৯০ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আনোয়ার হোসেন অবৈধ অর্থ আয় করে নামে ও বে- নামে কুষ্টিয়াতে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড় ।
কুষ্টিয়া ষ্টেশন রোডে জাকারিয়া গার্মেন্টেসের সাথে কাপড়ের ব্যবসা, কুষ্টিয়া আদর্শ স্কুলের সামনে মাসুদের সাথে ও কুমারগাড়ার নজুর সাথে রয়েছে ইট,পাথর,কয়লা ও বালির ব্যবসা, নিজ নামে রয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার এসকেভেটর ,কুষ্টিয়া হাউজিং ডি ব্লকে রয়েছে প্রায অর্ধকোটি টাকার আলীশ্বান বাড়ি,এন,এস রোডে ভায়ের নামে রয়েছে কোটি টাকার দোকান । দুর্নীতিবাজ এই কর্মচারির বিরুদ্ধে দুদকে মামলা/অভিযোগ আছে বলে জানা গেছে । আনোয়ার খোকসায় বদলী হলেও তিনি কুষ্টিয়ায় থাকার জন্য জোর তদ্বীর শুরু করেছেন। ভুক্তভোগী মহল দুর্নীতিবাজ এই কর্মচারির বিরুদ্ধে তদন্ত করে তার অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থ গ্রহনের জন্য দুদককে অনুরোধ জানিয়েছেন।