রবিবার ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

গুজবে কান দিবেন না– নড়াইল পুলিশ সুপার……

আপডেটঃ ৪:২১ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৩, ২০১৯

নড়াইল প্রতিনিধি: পদ্মা সেতু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে নড়াইলের মাকড়াইল গ্রাম থেকে শহিদুল ইসলাম সোহেল (২৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, সকালে থানায় তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে। সোহেল নড়াইলের মাকড়াইল গ্রামের খসরুজ্জামানের ছেলে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-৬ এর এএসপি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে সোহেলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে-সোহেল তার দু’টি ইউটিউব চ্যানেল থেকে এমন গুজব ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। সোহেল যশোর শহরের শিশু হাসপাতাল এলাকায় একটি আইটি অফিসে কাজ করে। এ ঘটনায় তার কাছ থেকে একটি করে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে। নড়াইলের লোহাগড়া থানার ওসি মোকাররম হোসেন, আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধিকে জানান, পদ্মা সেতু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে শহিদুল ইসলাম সোহেলকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। নড়াইলে ছেলে ধরা গুজবে কান না দিয়ে অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানান। জেলা পুলিশ সুপার ছেলে ধরা গুজব নিয়ে আতঙ্ক, সচেতনতার আহবান নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম (বার), গত কয়েকদিন ধরে ছেলে ধরা (শিশু চোর) গুজব আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে জেলার সর্বত্র শিশু শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে। সম্প্রতি ছেলে ধরা সন্দেহে একাধিক মানসিক বিকারগ্রস্থ ব্যক্তিকে গণপিটুনি ও আটকের ঘটনা, লোকমুখে ছড়ানো অপ্রমাণিত খবর এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার (ফেসবুক) এর কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গুজবে কান না দিয়ে অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানান পুলিশ সুপার। এসব ঘটনাকে পুঁজি করে একটি চক্র ছেলে ধরা হিসেবে অপপ্রচার চালায়। যা ফেসবুক ও লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এতে করে বর্তমানে জেলার শিশু শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ রয়েছে চরম আতঙ্কে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির সংখ্যা কমেছে বলে জানান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এমন পরিস্থিতি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। এসময় তিনি ছেলে ধরা আতঙ্ককে গুজব উলে­খ করে বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে ছেলে ধরা সন্দেহ ইতিমধ্যে আটককৃত ঘটনার কোনটিতেই সত্যতা মেলেনি। আর এসব ঘটনায় আটককৃতরা সবাই মানসিক বিকারগ্রস্থ বলে মনে হচ্ছে। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম (বার), আরো বলেন, ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণে আইন শৃংখলা বাহিনী সচেষ্ট অবস্থানে রয়েছে। যারা এসব অপকমের সঙ্গে জড়িত তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনাসহ সকলকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান তিনি। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নড়াইলের চারটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ, নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখা ও বিশেষ শাখার কর্মকর্তাবৃন্দসহ নড়াইল জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যবৃন্দ এ সময় পৌর কমিশনার মাহাবুর আলম, ভোরের বাংলা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ হিমেল মোল্যা, আকতার মোল্যা, দৈনিক সমাজের কাগজ নড়াইল জেলা প্রতিনিধি বুলু দাস, জাহাংগীর সেখসহ ক্লাবের সকল সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।