রবিবার ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

চিলমারীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ॥ভাঙ্গছে নদী প্লাবিত হচ্ছে লোকালয় !

আপডেটঃ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৫, ২০১৯

এম.জি.ছরওয়ার:- চিলমারী (কুড়িগ্রাম)-কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও কয়েকদিনের টানা প্রবল বর্ষণে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি অসাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে অষ্টমীরচর, চিলমাারী ও নয়ারহাট ইউনিয়নে গত ৪/৫ দিনে নদী ভাঙ্গনে প্রায় ১৬১টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। জানাগেছে, উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের বৈলমনদিয়ারখাতা, কড়াইবরিশাল, মনতোলা, শাখাহাতি, গাজীরপাড়া, ঢুষমারা, অষ্টমীরচর ইউনিয়নের খোর্দ বাঁশপাতারী, নটারকান্দি, মুদফাৎকালিকাপুর, ডাটিয়ারচর, নয়ারহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ খাউরিয়া, গয়নার পটল, তেলীপাড়া, বজরাদিয়ারখাতা, খেরুয়ারচর, ফেইচকার চর, রমনা ইউনিয়নের পাত্রখাতা, উত্তর রমনা, টোনগ্রাম, ডাটিয়া পাড়া, মাঝিপাড়া থানাহাট ইউনিয়নের পুটিমারী কাজলডাঙ্গা, পুটিমারী, হাটিথানা, রাজারভিটা, রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল, মজারটারী, ফকিরেরহাট, নয়াবস, কালিরকুড়া এলাকাসমুহ প্লাবিত হয়ে এসব এলাকার পানিবন্দি মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। পানি দ্রুত বৃদ্ধির ফলে, কোন বাড়িতে কোমর পানি এবং বসত ঘরে হাটু পানি হওয়ায় লোকজন চৌকি উঁচু করে রাত্রী যাপনসহ রান্না বান্না করছে। প্লাবিত এলাকার মানুষ গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। অনেকে বাধের রাস্তা, আশ্রয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উচু স্থানে অবস্থান করছে। স্রোতের তোড়ে অনেকের পাটের জাগ ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে গেছে। পুকুরের পাড় ডুবে গিয়ে নদীতে মাছ ভেসে গেছে। পুটিমারী এলাকার আনোয়ার (৪৫) জানান, গত রাতে ৩‘শ পাটের বোঝার জাগ নদীতে ভেসে যায়। কাঁচকোল এলাকার আব্দুল মজিদ (৫৩) জানান, বসত ঘরে হাটু পানি হওয়ায় পরিবারের মহিলা ও শিশুরা কষ্ট করে উচু চৌকিতে আশ্রয় নিয়েছে। গবাদি পশু নিয়ে পুরুষরা পাউবো বাঁধে অবস্থান করছে।
এদিকে অষ্টমীরচর ইউনিয়নের চর মুদাফৎকালিকাপুর ও কালিকাপুর এলাকায় ৯০টি, নয়ারহাট ইউনিয়নের খেরুয়ারচর ও ফেইচকা এলাকায় ৫৬টি ও চিলমারী ইউনিয়নে ১৫টি বাড়ী মিলে গত ৩দিনে প্রায় ১৬১টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। এছাড়াও শত শত একর আবাদী জমি নদীতে ভেঙ্গে যাচ্ছে। ভাঙ্গনের শিকার আব্দুল আলিম (৩৫) জানান, ভাঙ্গনের তীব্রতা এত বেশি যে ঘর সরানোর সময় পাওয়া যাচ্ছে না। আনোয়ার হোসেন (৫৫) জানান, নদী গর্ভে বসতবাড়িসহ সব বিলিন হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছি। অষ্টমীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তালেব জানান, নদী ভাঙ্গন ও বন্যা কবলিত লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। বন্যার্তদের সাহায্যে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাউবো জানায়, ব্রহ্মপুত্র নদে চিলমারী পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪৫ সে.মি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি  মানুষের মাঝে এখন পর্যন্ত সরকারী কিংবা বে-সরকারীভাবে কোন সাহায্য দেয়া হয়নি। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানাগেছে, জেলা ত্রাণ শাখা থেকে চিলমারী উপজেলার পানিবন্দি মানুষের জন্য ৫ মে.টন চাল, ২‘শ প্যাকেট শুকনো খাবারের প্যাকেট ও নগদ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম বলেন, গত ৪/৫ দিনে উপজেলার অষ্টমীরচর, নয়ারহাট ও চিলমারী ইউনিয়নে প্রায় ১৬১টি বাড়ী নদীতে ভেঙ্গে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াবশ, রমনা ইউনিয়নের ভরট্টপাড়া ও চিলমারী ইউনিয়নের মনতোলা এলাকাসমুহ। বন্যার্তদের জন্য সরকারীভাবে যা বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সরকারীভাবে ত্রাণ সামগ্রী আসতে শুরু করেছে পর্যায়ক্রমে আসতে থাকবে। বন্যা পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রনের বাইরে যায়নি। ইতোমধ্যে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।