রবিবার ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

চিলমারীতে বন্যায় পানিবন্ধি লাখো মানুষ! শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে ॥ এলাকায় আতঙ্ক………

আপডেটঃ ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৭, ২০১৯

এম.জি.ছরওয়ার:চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ-কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীতে গত কয়েক দিনের মশুলধারে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তানদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরো নতুন করে ৩৫ হাজার পরিবার  পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এপর্যন্ত পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে প্রায় লাখো মানুষ। সেই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের ও তিস্তানদীর তোড়ের মুখে চিলমারী রক্ষা বাঁধটিও রয়েছে হুমকির মুখে। তা রক্ষায় এলাকার মানুষের সহায়তায় চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

মানুষজনের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক। বাঁধে আশ্রয় নেয়া প্রায় তিন হাজার পরিবারের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা বাড়ছে আতঙ্ক। জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তানদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার সাথে সাথে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল, খামার, হাটিথানা, রাজারভিটা, ভরট্টপাড়া, খরখরিয়া এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ডেবে যাওয়া ও ছিদ্র দেখা দেয়ায় তা পড়েছে হুমকির মুখে।

টানা বৃষ্টি আর ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তানদীর তোড়ের মুখে চিলমারী শহর রক্ষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ ডানতীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কয়েকটি পয়েন্টে ডেবে যাওয়ায় আশঙ্কা নিয়েই আতঙ্কে কাটাচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষ। শুধু তাই নয় বাঁধ ভেঙ্গে গেলে প্রায় ৩শতাধিক পরিবার ভেসে যাওয়াসহ আরো ৫০  হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। রমনা ইউনিয়নের খরখরিয়া ভরট্টপাড়া বাঁধ এলাকার বুলেট, লিচুসহ অনেকে জানান, বরাবরেই এই এলাকাটি আতঙ্কে থাকলেও সময় মতো পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষ নজরদারী না করায় এখন তা বেশি হুমকির মুখে রয়েছে।

এই এলাকার রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে গেলে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার ভেসে যাবে এবং পুরো এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়বে। কাঁচকোল, খামার এলাকার মানুষজন জানান বন্যার সময় এই এলাকার মানুষ বাঁধে আশ্রয় নেন। কিন্তু বাঁধ সংস্কার না করায় প্রতি বছর কিছু না কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও বন্যার সময় তো সমস্যার সাথে সাথে দেখা দেয় বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র আর স্থানে স্থানে ডেবে যায়।

তখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষ নজর দিলেও তা সঠিক ভাবে কাজ করেন না ফলে এই এলাকার হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে থাকে। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোড নির্বাহী প্রকৌশলী সাথে কথা হলে তিনি জানান, সরেজমিনে গিয়েছিলাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সাথে সাথে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অপর দিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার, টোলোর মোড়, টোনগ্রাম, মাছাবান্দা, পাত্রখাতাসহ বিভিন্ন এলাকার নতুন করে আরো ৩৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

এসব মানুষের মাঝে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে পাউবো সূত্রে জানা গেছে, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ১২৫ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত)।

সরকারীভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৩হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হয়। এদিকে বন্যার্ত এলাকায় ডায়েরী প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল এবং আজকে ১০জন রোগী ভর্তি হয়েছে।

তার মধ্যে বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী আনোয়ারুল ইসলামের মা, জয়ীতা নারী, সমস্ত ভান আজ ভোর পৌনে ৪টায় চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তিনি গতকাল ডায়েরীয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।