শুক্রবার ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

পুলিশকে নিয়ে জনগণের ভুল ধারণায় কষ্ট পাই – সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম…

আপডেটঃ ৩:১০ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৭, ২০১৯

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ক্রাইম মোঃ সাইফুল ইসলাম (একা)-: পুলিশ হিসেবে দায়িত্ত্ব পালন করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো সাধারণ মানুষ যখন আমাদের ভুল বোঝে।’ এভাবেই একজন পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-দুঃখের কথা চ্যানেল সেভেন বিডি ডট কম এর – বিশেষ প্রতিনিধিঃ { ক্রাইম} কে জানিয়েছেন সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম । সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে গাজীপুর  মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের  জোনে কর্মরত আছেন। চ্যানেল সেভেন বিডি ডট কম , এর বিশেষ প্রতিনিধিঃ { ক্রাইম} এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই পেশায় কাজের অভিজ্ঞতা-সহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। যখন যেখানে প্রয়োজন ছুটে যাই।

পেশাগত জীবন প্রসঙ্গে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি পুলিশ। জনগণের সেবায় নিজের জীবনকে ঢেলে দিয়েছি। ব্যক্তিগত জীবন আমার কাছে মুখ্য না। জনগণের সাহায্য করাই আমার একান্ত নেশা ও পেশা। যখন যেখানে আমার প্রয়োজন হয় তখন সেখানেই ছুটে যাই। ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে খুব কষ্ট হতো। কিন্তু এখন মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ অভ্যস্ত হয়ে গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদেরকে কঠিন শৃঙ্খলার মধ্যে কাজ করতে হয়। চেইন অব কমান্ড মেনেই প্রতিটি পা ফেলতে হয়। আমরা যেমন নিজেদের ইচ্ছায় ছুটি কাটাতে পারি না, তেমনি কোনো কাজও করতে পারি না।

পুলিশের রুলস-রেগুলেশন যা আছে তা মেনেই কাজ করতে হয়।’পুলিশ সদস্যকে গড়ে ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয় কর্মঘণ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট কোনো কর্ম ঘণ্টা নাই। আমাদেরকে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই ডিউটি করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। কখন কোথায় কী ঘটবে, তা তো আগে থেকে বলা সম্ভব না।

তাই আমরা প্রয়োজনে যে কোনো সময় সাড়া দেয়ার মানসিকতা নিয়ে থাকি। তবে গড়ে আমাদের প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে কমপক্ষে ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়।’

বেতন-ভাতা ও ছুটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের বেতন কাঠামোতে যা আছে তা আমরা ঠিক-ঠাক মতোই পাই। বেতন নিয়ে কোনো সমস্যা নাই। অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেমন ছুটি পায়, আমরা কিন্তু তা পাই না। সারাবছর পহেলা বৈশাখ,
স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ ঈদ সহ জাতীয় দিবসগুলোতে অন্যরা বন্ধ পেলেও আমরা তা পাই না । বরং সেসময় আরও বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হয়। পুলিশে চাকরি করলে এগুলো তো মেনে নিতেই হবে।’ সামনে ঈদ  নিয়ে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম  বলেন, ‘কোরবানির ঈদে  ঢাকায় ও গাজীপুর  একটু বাড়তি চাপ থাকে।

ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কারণে ঢাকার বাহির থেকেও লোকজন এসে ভিড় করে। আর এখন তো রোজার ঈদ শেষ সবাই কোরবানির ঈদের কেনাকাটা করতে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। সে কারণে রাস্তায় গাড়ির একটা বাড়তি চাপ শুরু হবে। তাছাড়া ঈদের গরু ছাগলের হাট নিরাপত্তা দিতে স্বাবাভিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিতে আমাদের পুলিশ সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।’ দায়িত্ব পালনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে , ‘আমরা পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় ইফতারি করি।

ঈদ প্রসঙ্গে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম   বলেন, ‘আমার চার বছরের কর্মজীবনে এ পর্যন্ত ১ টা ঈদে বাবা মাকে নিয়ে পালন করতে পারিনি। পুলিশ সদস্যরা কখনো পরিবারের সাথে আবার কখনো কর্মক্ষেত্রে। এক ঈদে যারা ছুটি পেয়ে বাড়িতে ঈদ করে, পরের ঈদে তারা ডিউটি করে। তখন অন্যরা পরিবারের সাথে ঈদ করে। বাবা-মা প্রতি ঈদেই আশা করে থাকে আমি বাড়িতে গিয়ে তাদের সাথে ঈদ করব। সেটা সবসময় সম্ভব হয় না। আব্বা-আম্মার জন্য কাপড়- কিনে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই।

মা আমার জন্য তাকিয়ে থাকে আসবে কখন সোনার মানিক সন্তান আমারা।’ সুখ প্রসঙ্গে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আপনাকে মন থেকে একটা কথা বলি। সবচেয়ে বেশি খুশি লাগে যখন আমি সাধারণ মানুষের জন্য ব্যক্তি গত টাকায় কিছু করতে পারি যেমন গত ১৫/০৭/২০১৯ তারিখ টঙী গাজীপুর হোসেন মার্কেট ডিউটি করা কালিন দেখি আমার সামনে রাস্তায় একটি মাইক্রো বাস আটকা পরে গাড়ী টি উদ্ধার করার কিছুক্ষণ পর দুটি মেয়ে একি গড়তে পরে  মহাসড়কের উপর এমন গড়ত দেখে  পরে আমি ও আমার সাথি ভাইয়েরা মিলে  ইটা এনে রাস্তায় পেলি। জেনো সাধারণ মানুষ ভালো ভাবে গন্তব্যে জেতে পারে।

আরো ভালো লাগে যখন দেখতে পাই আমার দেশের মানুষ যখন খুব ধুমধাম করে সকল উৎসবে মেতে থাকে। ডিউটি করার সময় যখন দেখি ছোট বড় ছেলে-মেয়েরা তাদের বাবা-মায়ের সাথে � বেড়াচ্ছে তখন আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হই আর ভাবি আমার মা আমায়…. তাছাড়া কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে আমরা যখন এসব অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারি তখন পুলিশ সদস্য হিসেবে গর্ব বোধ করি।’

আরো বলেন সাধারণ মানুষের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন জনগণ প্রসঙ্গে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের দেশের অধিকাংশ জনগণ অসাবধান ও অসচেতন। তারা কোটি কোটি টাকা দিয়ে বানানো ওভারব্রিজ থাকা সত্বেও ব্যবহার করে না। তারা ইশারা দিয়ে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়েই রাস্তা পার হন। এতে যেমন তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পরে, তেমনি আমাদেরও ট্রাফিক কন্ট্রোলে সমস্যা হয়। তারা হয়তো একটি চলন্ত গাড়িকে ২/৩ সেকেন্ড দাঁড় করিয়ে রাস্তা পার হয়ে যান। কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডে ওই গাড়ির পেছনে আরও এক-দেড়শ’ গাড়ি থেমে যায়।

ঢাকার ও গাজীপুরের  রাস্তার প্রতিটা মোড়ে যদি একজন মানুষও এভাবে রাস্তা পার হন তাহলে হিসাব করে দেখেন রাস্তায় কী পরিমাণ যানজট তৈরি হতে পারে।’ পুলিশ বাহিনীকে ঢালাওভাবে খারাপ বলা অন্যায় তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা কাজ করে। তাদের অনেকেই ভাবেন পুলিশ মানেই খারাপ। এ বিষয়টা আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।এত বড় পুলিশ ডিপার্টমেন্টের হয়তো কিছু সংখ্যক সদস্য আছে খারাপ। তাই বলে পুরো পুলিশ বাহিনীকে ঢালাওভাবে খারাপ বলা অন্যায়। এমন কোনো পেশা আছে যেখানে অল্প সংখ্যক লোকও খারাপ নেই? কই তাদের ক্ষেত্রে তো কেউ ঢালাওভাবে মন্তব্য করে না। আমি জোর গলায় বলতে পারি কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি পুলিশ সদস্য রয়েছেন যারা ভাল জারা দেশের জন্য ও জনগনের জন্য নিজের জীবন দিতে পারে।

আমি যেহেতু দীর্ঘদিন যাবৎ এ পেশায় আছি, বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সাধারণ পুলিশ সদস্যদের সাথে কাজ করেছি। তাদের মধ্যে হয়তো এক দুই জনকে দুর্নীতিগ্রস্থ পেয়েছি, তাই বলে সবাইকে তো আমরা  দুর্নীতিবাজ বলতে পারি না। অন্যরা অপরাধ করলে যেমন শাস্তি হয় তেমনি পুলিশ সদস্যরা অন্যায় করলেও শাস্তি হয়।’ অপরাধীর শাস্তি দাবি করুন, ভালো কাজের প্রশংসা করুন -সংবাদ  পাঠকদের উদ্দেশ্যে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম  বলেন, ‘যে অপরাধী তার শাস্তি দাবি করুন। সে হতে পারে পুলিশ সদস্য, হতে পারে ডাক্তার এমনকি হতে পারে শিক্ষক,ও নামধারী  সাংবাদিকও  একজনের ভুলে ওই পেশার সাথে জড়িত সবাইকে খারাপ বলবেন না। আপনারা জানেন আমাদের কাজটা কতটা ঝটিল-ঝামেলার, সেটা করতে গেলে হয়তো অনেক সময় ভুল-ভ্রান্তি কিছু হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের সফলতা রয়েছে অনেক।

সমালোচনার পাশাপাশি আমাদের ভাল কাজগুলোরও প্রশংসা করুন। তাহলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হবে এবং আমরা উৎসাহিত হব।’ বাসে বশে আপনি গাম মোছেন ট্রাফিক হিসেবে আমরা কষ্ট পাই।