সোমবার ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

চিলমারীতে বানভাসিদের খোলা আকাশের নিচে বসবাস ! দুর্বিষহ জীবন -অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন !

আপডেটঃ ২:১৫ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ২৫, ২০১৯

এম.জি.ছরওয়ার:চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। শতভাগ মানুষ পানিবন্দি হওয়ায় বানভাসিদের আশ্রয় মিলছে না বাঁধেও। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে বুরুজের পাড়, রাজারঘাট সড়ক, রমনা রেল স্টেশনের উত্তরে রেল সড়ক ও ভরট্টপাড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

চিলমারী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় বন্যার্তরা উপায়ান্ত না পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বাড়ির আসবাবপত্র প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে বাঁধেও জায়গা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে দুর্গতরা।

উপজেলার কাঁচকোল বুরুজের পাড় সড়ক ও রাজারঘাট ব্রীজের দু’পাশ ধসে যাওয়ায় প্রায় ৫০হাজার মানুষের যাতাযাত বন্ধসহ উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা শহরের প্রতিটি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদেও তীব্র স্রোতে খামার বাঁশপাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খামার বাঁশপাকতারী গ্রামের ৬গটি বাড়ীঘর নদীতে ভেসে গেছে।

ঐ ৬০টি পরিবারের মানুষজন কোন রকমে  সাঁততিরিয়ে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে গতকাল চিলমারী ইউনিয়নের পশ্চিম মনতোলা গ্রামের ৩০টি বাড়ী, কড়াই বরিশাল প্রামের নদী তীরবর্তী ২টি দোকান, রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ পুরাতন বাজারের ৪টি বাড়ী ও ৩টি দোকান নদীতে ভেসে গেছে বলে জানান চিলমারী ও রমনা ইউনিয়নের ইউপিচেয়ারম্যানদ্বয়।

এসব পরিবারের লোকজন কোথাও জায়গা না পেয়ে খোলা আকাশের নীচে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকেই নিজের বাড়িতে কোমর পানিতেই অবস্থান করছে। এসব এলাকার বানভাসী মানুষ থাকার জায়গা না পাওয়ার পাশাপশি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং জ্বালানি তীব্র সংকটে আছেন। উপজেলা সদরের হাসপাতাল গেট হতে এলএসডি মোড় পর্যন্ত মাত্র ২‘শ মিটার রাস্তা শুকনা আছে।

বাকী সকল রাস্তার উপর দিয়ে নৌকা চলাচল করছে। এ পর্যন্ত সরকারি ভাবে মাত্র ১‘শ ১০ মেট্রিক টল চাল ও নগদ ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ৩ শিশুর পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা সহায়তা করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোহাম্মদ কোহিনুর রহমান জানান। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, এলএসডি গোডাউল থেকে মাল উত্তোলন করে ইউনিয়ন পরিষদে নেয়ার মতো রাস্তা নেই। সব রাস্তায় পানি আর পানি।

এদিকে চিলমারী উপজেলাকে দূর্গত এলাকা ঘোষনার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জরুরী ভিত্তিত্বে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী বন্যার্তদের মাঝে পৌঁছানো উচিত বলে তারা মনে করেন।