সোমবার ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বাহে মোক একনা রিলিফের স্লিপ দেওরে বাপ !

আপডেটঃ ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ৩০, ২০১৯

এম.জি.ছরওয়ার:- চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:-কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলাতে  বন্যা আর নদী ভাঙনে ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন। হাজারো মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে ব্রহ্মপুত্রের পাড়। উপজেলার রমনা মাস্টার পাড়ার নুর জাহান (৯০) স্বামী মৃত সাবান মিয়া গ্রামঃ রমনা মাস্টার পাড়া বাঁধের মোড়। রোগাক্রান্ত শরীর, বয়সের ভারে চলতেও পারেন না। ঠিকমতো নামও বলতে পারে না। তার নাম নূর জাহান (৯০) এসেছিলেন মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ত্রাণ বিতরণ স্থানে ভেবেছিলেন বড় স্যারেরা আসবেন তাকে কিছু দেবেন অপেক্ষা করেছিলেন বিতরণ শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬ ঘণ্টা কিন্তু অবশেষে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। কথা হয় তার সঙ্গে কয়েক বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। জমি বলতে যা ছিলো তার সবই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তার নেই কোন সন্তান উপায়ন্ত না দেখে শেষ বয়সে এসে তিনি এখন আছেন দূর্সম্পকের বাতিজা জলিল পরিবারদের কাছে। জলিলের বাড়িভিটা ঘরে কোমর পানি, উঠানে বুকপানি তাই বাধ্য হয়ে রমনা মাষ্টার পাড়া বাঁধের উপর ঝুপড়ি ঘরে সবার সাথে দিন-রাত কাটে এই বৃদ্ধার।  অনেক কষ্ট করে এসেছিলেন কিছু পাওয়ার আশায়। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাহে মোক একনা রিলিফের স্লিপ নিয়ে দেতো বাপ। এ সময় নাই শব্দ শুনে তার চোখ ছল ছল করছিল আর বলছিলেন বড় বড় স্যারেরা আসবেন শুনে মুই আইছিনু কিন্তু তারাও মোক দিলে না। মঙ্গলবার বিকালে চিলমারী উপজেলা ফায়ার স্টেশন চত্বরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কেএম তারিকুল ইসলাম ত্রাণ বিতরণের চলমান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং প্রায় ২ শতাধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। শুধু নূর জাহান (৯০) নন, এ রকম শ’ শ’ অসহায় বন্যার্ত মানুষ এসেছিলেন কিন্তু না পেয়ে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে ভারাক্রান্ত মনে। চলমান এই বন্যায় হাজার হাজার পরিবারকে দিয়েছে অসহায় করে। শ’ শ’ মানুষ হয়ে পড়েছেন নিঃস্ব। নেই থাকার জায়গা, নেই ঘর তোলার আসবাবপত্র। হয়ে পড়েছেন পথের ফকির। পরিবার-পরিজন নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। অনেকে বউ বাচ্চাদেরকে অন্যের জায়গায় খোলা আকাশের নিচে রেখেই আয়-রোজগারের আশায় পাড়ি দিয়েছেন অজানার উদ্দেশে। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, সবাই খালি চরে যায় কিন্তু চিলমারী সদরের আশপাশে শ’ শ’ গ্রাম এখন পানিবন্দি থাকলেও তাদের খোঁজ নিতে কেউ নেই।  চলমান ভাঙন ও বন্যাকে কেন্দ্র করে চিলমারী উপজেলার চরাঞ্চলে সরকারি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ (রিলিফ) বিতরণ শুরু হলেও রয়েছে অনিয়ম আর স্বজনপ্রাীতির অভিযোগ। আবার অনেকে ত্রাণের চাল পেয়েও তাঁদের চোখের পানি থামছে না কারণ থাকার জায়গা নেই। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায় হতদরিদ্র এই মানুষগুলোর পুষ্টিহীন শরীর তাদের কর্মক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলেছে। রোগে তাদের শরীর আরো বেশি বয়স্ক করেছে। এদের প্রত্যেকের সন্তান বড় হয়ে আলাদা সংসার করছে। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের খোঁজ তারা রাখে না। বাধ্য হয়ে ভিক্ষা, অন্যের বাড়ি অথবা জমিতে কাজ করেই তাদের একমুঠ ভাতের জোগাড় করতে হয়। এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্‌ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, বর্তমানে আমরা তাদের মাঝে বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী (রিলিফ)  বিতরণ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পেলে তাদেরকেও সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।