সোমবার ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

চিলমারীতে বানভাসিদের ঘরে না ফেরা নিয়ে উদ্বিগ্ন! যুবতী কন্যা ও নারীদের নিয়ে আতঙ্কে কাটে প্রতিটা রাত !

আপডেটঃ ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ৩০, ২০১৯

এম.জি.ছরওয়ার:- চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ ঘরে ফিরতে পারছে না কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার বানভাসিরা। বাড়ছে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে খাদ্যের জন্য  হাহাকার। চোখের জলে বুক ভিজে যাচ্ছে ঘরে না ফেরা বানভাসিদের। আতঙ্কে প্রতিটি রাত কাটাতে হচ্ছে যুবতী মেয়ে ও নারীদের নিয়ে। এর উপর চোর, ডাকাত, সাপসহ পোকা মাকড়ের ভয়।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলাতে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও তা রয়েছে বাড়া আর কমার মধ্যেই। বন্যার পানি কখনো বাড়ছে আবার কখনো কমছে এর মধ্যে আবার বন্যা আসার আতঙ্কে রাস্তা, বাঁধ, কেসি সড়ক, রেল লাইন, আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া বানভাসি মানুষজন ফিরতে পারছে না নিজেদের বসত ঘরে।

ফলে বিভিন্ন বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়া ভানবাসিরা রোদ- বৃষ্টিতে রয়েছে নিদারুণ কষ্টে। দিনে দিনে বেড়েই চলছে এই সব ভানবাসিদের জনদুর্ভোগ। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। এ ছাড়াও বউ-বাচ্চা এবং বৃদ্ধা মা-বাবাদেরকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাড়িঘর ছেড়ে আসা মানুষজন। বাড়ছে উদ্বিগ্ন। প্রতিটি রাত আতঙ্কে কাটছে যুবতী মেয়েদের নিয়ে, ভয়ে আছে শূন্য বাড়িতে চুরি হওয়ার আশংকায়, তার উপর আবার ভয় সাপ বিচ্ছু সহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণের। কথা হলে চিলমারী নৌ বন্দর সড়কে আশ্রয় নেয়া রহিম বাদশা বলেন, ‘মুই আর কি কইম প্রায় ১০/১২  দিন থেকে বাড়িছাড়া এখনো পানি নেমে না যাওয়ায় বাড়িতে যাওয়ার উপায় পাওছি না, ফির এলাও শুনছি পানি বাড়বে বন্যা ফির হইবে। বাঁধে আশ্রয় নেয়া করিমন, ছলিমন বলেন, ‘১২ দিন হয় বাড়ি ছাড়বার খেয়ে না খেয়েই বাঁধে পড়ে থাকলেও তার ভাগ্যে জোটেনি ত্রাণের এক ছটাক চালও। খড়খড়িয়া বেড়ি বাঁধে আশ্রিত আমেনা বেগম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘হঠাৎ আসে বানের পানি মোর হাড়ি পাতিলও ভাসি নেয় এহন রাস্তায় আছোং খবর নিলে না কেউ, দিলে না মোক এহনো কিছুই।

রমনা ভট্ট পাড়া বাঁধ এলাকার বুলেট বলেন, রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে রাতে যুবতী মেয়েদের নিয়ে চিন্তায় ঘুমাতে পারছেন না অভিভাবকগণ। সব সময় ভয়ে থাকতে হয় তাদের কারণ নেই কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর টহল বা ব্যবস্থা। তাই কে কখন কি করে বসে এই চিন্তায় সময় কাটছে না এসব বানভাসিদের। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বন্যার্ত মানুষদের চিন্তার কোন কারন নেই। ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সকল অসহায় বন্যার্ত মানুষ ত্রাণ পাবেন এছাড়াও ভিজিএফের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সকল বিষয়ে আমাদের নজরদারী আছে।