সোমবার ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

ঘরের মাঠে ‘অতিথি’ বাংলাদেশ

আপডেটঃ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

ক্রীড়া ডেস্ক:প্রস্তাবটা সাকিবের কাছে দিয়েছিল টিম ম্যানেজম্যান্ট।  চট্টগ্রামে কেমন উইকেটে খেলতে চান? মাঠে খেলবেন তারা। টিম ম্যানেজম্যান্ট তাই সাকিবের ওপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিয়েছিল।  সাকিবের কাছে অপশন ছিল চারটি-  ন্যাড়া উইকেট, ট্রু উইকেট, ঘাসের উইকেট ও ঘূর্ণি উইকেট।

সাকিব বেছে নেন ঘূর্ণি উইকেট।  ঘরের মাঠে শেষ দুই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে যেভাবে দল হারিয়েছিল ঠিক সেভাবেই হারাতে চান আফগানিস্তানকে। সাকিবের বিশ্বাস ছিল স্পিনাররা ঘূর্ণির উইকেটে কাজের কাজটা করে দেবেন।  ব্যাটসম্যানদের নিতে হবে দায়িত্ব।  তাই ম্যাচের আগের দিনই বলে দিয়েছিলেন,‘পার্থক্য গড়ে দেবেন ব্যাটসম্যানরা।’

সাকিবের কথায় মিলও আছে। এখন পর্যন্ত দুই দলের স্পিনাররা ভালো করেছে। আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা ভালো করায় তাদের হাতেই এখন ম্যাচের নাটাই।  ওদের প্রথম ইনিংসের করা ৩৪২ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৮ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ১৯৮ রান।  তবে নিজেদের পারফরম্যান্সের ঘাটতির থেকেও সাকিব খুশি নন চট্টগ্রামের ২২ গজ নিয়ে।

যেরকম উইকেটের প্রত্যাশা করেছিলেন তেমন উইকেট পাননি। তাইতো হতাশ বাংলাদেশর অধিনায়ক, ‘আমরা আসলে সবাই বেশ অবাক হয়েছি। কারণ আমরা এমন কিছুই আশা করিনি। আমরা যেটি আশা করেছিলাম তার পুরোই বিপরীত হয়েছে।’- শুক্রবার দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন সাকিব।

বিমর্ষ হয়ে সাকিব যা বললেন তাতে স্পষ্ট, ঘরের মাঠে বাংলাদেশ খেলছে অতিথি হয়ে।  আর এমন উইকেট আফগানিস্তান এগিয়ে সেই ধারণাও দিয়েছেন, ‘এমন ফ্ল্যাট উইকেটগুলোতে রিস্ট স্পিনার না থাকলে কঠিন হয়ে যায়। আর যেহেতু আমরা এই ধরণের উইকেট আশা করিনি তাই আমাদের জন্য পরিস্থিতিটা কঠিন।  হোম কন্ডিশনের কোনো সুবিধাই নিতে পারছে না তার দল।  তাই উইকেটের আচরণ সাকিবের কাছে লাগছে বিস্ময়কর, ‘আমরা যে প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলাম তেমন কিছু হয়নি।  যে উইকেট ছিল, আমরা বিস্মিত হয়েছিলাম প্রথম দিন মাত্র পাঁচ উইকেট পেয়ে।  কারণ এমন ফ্ল্যাট উইকেটে অনেকদিন পর আমরা আসলে খেলেছি বলে মনে হয়।’

গতকাল প্রথম সেশনের প্রথম ঘন্টায় বল খানিকটা টার্ন করলেও যত সময় গড়িয়েছে উইকেট ততটাই ফ্ল্যাট হচ্ছিল। সাকিবের ধারণা ছিল বল শুরু থেকেই স্পিনারদের সাহায্য করবে।  কিন্তু উইকেট সম্পূর্ণ উল্টো ব্যবহার করেছে।  নিজেদের চাওয়া গণমাধ্যমে আসুক তা চান না সাকিব। তবে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা মেটাতে না পারায় সাকিবের হতাশা ঝরল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে,‘আমি চাওয়া পাওয়াগুলো কখনোই চাই না যে বাইরে আসুক।  খুবই গোপনীয়তার সঙ্গে মিটিংগুলো হয় এবং পরিকল্পনাগুলো হয়।  আমি কখনোই চাইব না যে এই পরিকল্পনাগুলো জানাজানি হোক। ’

‘এসব নিয়ে আলোচনা করে কিংবা চিন্তা করে লাভ হবে না।  আমরা যেভাবে দলটি সাজিয়েছি বা তৈরি করেছি,  আপনারা সবাই হয়তো বুঝছেন কি ধরণের উইকেট চেয়েছিলাম কিংবা কি ধরণের উইকেট আমরা প্রত্যাশা করছিলাম।’ – যোগ করেন সাকিব।

প্রত্যাশা মেটেনি বলে সহজেই হার মানতে রাজী নন সাকিব।  জানালেন ‘আউট অব বক্স’ পারফর্ম করে যেভাবেই হোক জবাব দেবেন তারা, ‘উইকেট প্রত্যাশা মতো মেলেনি বলে যে আমরা ভালো কিছু করতে পারব না তেমনটা নয়। অনেক সময় আসে ওই সময়ে পরিকল্পনা, প্রত্যাশা তেমনভাবে কাজ করে না।  বড় দলগুলো এখানেই প্রমাণ করে যে, যখন বক্সের বাইরেও তাদের কোনো প্রশ্ন আসে সেটার উত্তর তাদের কাছে জানা থাকে।  আমরা চেষ্টা করব সেই উত্তরগুলো আমরা যাতে দিতে পারি। তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে। তবে অবশ্যই আমরা আমাদের প্রত্যাশার বাইরে ছিলাম।