সোমবার ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

সিদ্ধিরগঞ্জে সনদ জাল করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে শিক্ষকতা করার অভিযোগে ভূয়া শিক্ষককে ছেড়ে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ….

আপডেটঃ ৯:১০ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টারঃ সিদ্ধিরগঞ্জে ভূয়া শিক্ষককে আটক করে ছেড়ে দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সে দীর্ঘ ২’বছর যাবৎ সনদ জাল করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে শিক্ষকতা করে। সনদ জাল ধরা পরার কারনে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে স্কুল থেতে অপষারন করে। গত শনিবার দুপুরে নাসিক ১নং ওয়ার্ডের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার হাজী সামছুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটে। এবিষয়ে হাজী সামছুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসাইন আহমেদ জানায়, অভিযুক্ত ঐ শিক্ষক এর আগে নাসিক ৩নং ওয়ার্ডের আলী আকবর স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। কিছুদিন আগে আমাদের বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দেওয়ার জন্য তাগিদ দেয়া হলেও তিনি জমা দেননি। কয়েকদিন আগে সে তার এসএসসি, এইচএসসি, বিএসসি এবং মাষ্টার্সের সনদ জমা দেন। অত্র বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো: হাবিবুর রহমান ঐ সনদগুলো অনলাইনে যাচাই করলে এর কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। গত শনিবার দুপুরে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং এ তাকে অপসারণ করা হয়েছে। এ মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাসরিন হক, সদস্য এড. আব্দুল বাতেন, এড. আব্দুল লতিফ ও এড. এম এ লিয়াকতসহ স্কুলের শিক্ষকরা। এছাড়াও তারা সবাই হাজী সামছুদ্দিন ফাউন্ডেশনের সদস্য। এদিকে এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিবাবক মহলে ব্যাপক অসন্তোষ দেখাদিয়েছে। তাদের দাবি ঐ শিক্ষকের সবকিছু জেনেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের ভর্তি ফি, টিউশন ফি, বার্ষিক ও বোর্ড পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থও হাতিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। তারা আরো বলেন, প্রতিটি শিক্ষক নিয়োগের পূর্বে তাদের অতিত ও বর্তমান কর্মকান্ডের উপর বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে চুড়ান্ত করে নির্বাচিত করা উচিত। বিশেষ করে সম্প্রতি নিয়োগ প্রাপ্তদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়ার দাবি করেন তারা। বিদ্যালয় অধ্যক্ষ মো: হাবিবুর রহমান জানায়, ঐ শিক্ষকের সনদগুলো অনলাইনে যাচাই করে কোন তথ্য প্রমান খুঁজে না পাওয়ায় প্রতিয়মান হয় যে সে এগুলো জাল ভাবে তৈরী করেছে। তার পরেই গত শনিবার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি মিটিং ডাকে। মিটিংয়ে উপস্থিত সকলের সামনে সে তার অপরাধ স্বীকার করার পর তাকে বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনী কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি জানায়, সে অকপটে স্বীকার করেছে যে তার পারিবারিক দুরবস্থার কারণে সে এই কাজ করেছে। সে আর এই ধরনের কোন কর্মকান্ড করবে না মর্মে অঙ্গীকার করলে মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা তোকে ছেড়ে দেই। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এড. আব্দুল লতিফ জানায়, বিষয়টি আমরা জানার পর মিটিং করে তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছি। তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা তাকে পুলিশে দেইনি। উল্লেখ্য, হাজী সামছুদ্দিন ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় এ বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়ে আসছে। ভূয়া শিক্ষক মো: অমিত ফয়সাল বগুড়া জেলা সদরের মো: আজিজার রহমানের ছেলে।