সোমবার ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

১লক্ষ টাকা ঘুষ না পেয়ে নিরাপরাধ ৬০ বছরের বৃদ্ধা মহিলাকে নির্যাতন ও তার ২ছেলেকে ক্রসফায়ারের হুমকি….

আপডেটঃ ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টারঃ নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার থানার পুলিশের উপ- পরিদর্শক (এস আই) ফায়জুর রহমানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে আটক করে টাকা দাবীএবং হযরানির অভিযোগ পুরোনো । তবে তার এই সব অপকর্মের বিরুদ্ধে চাঁপা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সাধারন মানুষ । ইতিমধ্যে ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এলাকার ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে । আড়াইহাজার থানার, ছনপাড়া এলাকার মৃত ছানা উল­াহ মিয়ার ছেলে ভুক্তভোগী মোঃ শাহ আলম অভিযোগ করে এই প্রতিবেদককে জানান, তার ছোট ভাই সাজ্জাত হোসেন (২৩), প্রায় ১ বছর প‚র্বে তাদের এলাকায় ঘরজামাই হিসেবে বসবাসকারী নরসিংদী জেলা সদরের দামের ভাওলা এলাকার জৈনক মোঃ নাসির উদ্দিনের মেয়ে মোসাঃ লিনা আক্তার (১৯)কে প্রেম ভালোবাসার স‚ত্র ধরিয়া পরিবারের কাউকে না জানিয়ে কোর্ট এভিডেভিটের মাধ্যমে গত ৩/৭/২০১৮ইং তারিখে বিবাহ করেন । বিবাহের প্রায় ৬মাস পরে আমার ছোট ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমার ভাইয়ের স্ত্রী মোসাঃ লিনা আক্তারকে ফুঁসলিয়ে এবং জোর প‚র্বক নিজেদের কব্জায় নিয়ে গত ১/৬/২০১৯ইং তারিখে আমার ছোট ভাইয়ের শাশুড়ি লিপি আক্তার, বাদী হয়ে আমার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে আড়াই হাজার থানায় ধর্ষণ আইনে ১টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং- ১ । উক্ত মামলাটি হওয়ার পর থেকে আমার ছোট ভাই আমাদের না জানিয়ে অজ্ঞাত পলাতক রয়েছে । মামলাটি দায়েরের মাস খানেক পরে আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মোসাঃ লিনা আক্তারকে তার পরিবারের লোকজন জোরপ‚র্বক পার্শ্ববর্তী পাচবাইরা গ্রামের, জৈনক হোসেন মীরের ছেলে মোঃ ওমর ফারুকের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয় । এদিকে আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলার, তদন্ত কর্মকর্তা আড়াই হাজার থানার এস আই মোঃ ফায়জুর রহমান মামলাটি হওয়ার পর থেকেই আমার পরিবারের নিকট ১লক্ষ টাকা দাবী করে আসছে । আমরা গরিব হওয়ায় উক্ত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, গত ১৫/৭/২০১৯ইং দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ফায়জুর রহমান কয়েকজন সোর্স ও পুরুষ পুলিশ সদস্য সাথে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে আমার ছোট ভাইকে না পাইয়া ক্ষিপ্ত হইয়া উক্ত কর্মকর্তা আমাদের বাড়িতে থাকা মহিলাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে । এক পর্যায় আমার বৃদ্ধ মা লায়লা বেগম (৬০) কে চড় থাপ্পড় মেরে টেনে- হিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায় । এ সময় আমার মা পানি খাইতে চাইলে এস আই ফায়জুর রহমান আমার মাকে প্রসাব করে খাইতে বলে । পরবর্তী আমার মাকে প্রায় ১২ ঘণ্টা থানায় আটক রেখে রাত ১২টার দিকে ছেড়ে দেয় এবং বলে কয়েক দিনের মধ্যেই ১লক্ষ টাকা দিবি তা না হলে তোর ২ ছেলেকেই ধরে এনে ক্রসফায়ার করবো ও তোদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ধরে এনে বিভিন্ন মামলায় জেলে পাঠাবো । তারপর থেকে উক্ত কর্মকর্তা টাকার জন্য আমাদের ধারাবাহিক ভাবে হুমকি দিতে থাকে । এরই ধারাবাহিকতায় গত ১/৯/২০১৯ইং তারিখ দুপর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঐ কর্মকর্তা আমাদের বাড়িতে এসে তার চাহিদা মত ১লক্ষ টাকা দাবী করেন । এ সময় আমার মা টাকা দিতে অপারকতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হইয়া অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে । যাওয়ার সময় উক্ত কর্মকর্তা আমার মাকে ১সপ্তার সময় বেঁধে দিয়ে যায়, এই সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে পরিবারের সবাইকে ধরে নিয়ে জেলের ভাত খাওয়াইবে এবং আমাদের ২ ভাইকে ক্রসফায়ার দিবে বলিয়া হুমকি দিয়ে চলে যায় । আমি নিরুপায় হয়ে আমার ও পরিবারে নিরাপত্তা চেয়ে এবং আড়াই হাজার থানার এস আই ফায়জুর রহমানের বিচার দাবী করে ইতিমধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি । বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি । এ বিষয় জানতে, এস আই ফাইজুর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্প‚র্ণ মিথ্যা বলে দাবী করেন তিনি । তবে তিনি বৃদ্ধ লায়লা বেগমকে থানায় নেওয়ার কথা শিকার করে বলেন, উক্ত মামলার আসামী সাজ্জাতের বিষয় জিজ্ঞাসা বাদের জন্য তাকে থানায় আনা হয়েছিল । তার সাথে কোন ধরনের খারাপ আচরণ করা হয়নি । বিজ্ঞ আদালতে মামলার ভিকটিম ২২ ধারায় জবান বন্দি দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে, ভিকটিম ২২ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে জবান বন্দি দিয়েছে বলে দাবী করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা ।