শুক্রবার ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

অক্টোবর নাগাদ শুরু হতে যাচ্ছে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ কাজ…..

আপডেটঃ ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক-: দেশে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকা সত্ত্বেও ঢাকায় অবস্থিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী চাপ বরাবরই বেশি। মিনিটে মিনিটে প্লেন উঠা-নামার কারণে বিমানবন্দরে অবস্থিত দুইটি টার্মিনালে যাত্রী চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। নির্বিঘ্নে যাত্রী চাপ সামলাতে ও টার্মিনাল স্বাভাবিক রাখতে আগামী অক্টোবরে শুরু হচ্ছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণ কাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ টার্মিনালের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই টার্মিনালে থাকছে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়ন। এখন ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক চুক্তি সইয়ের পর শুরু হবে নির্মাণ কাজ। এই টার্মিনাল নির্মিত হলে বছরে শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রী সক্ষমতা দাঁড়াবে দুই কোটিতে। ২০২৩ সালে টার্মিনালটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ হবে ২ লাখ ২৬ হাজার বর্গমিটার জমির ওপর। নতুন এ টার্মিনাল ভবন নির্মাণের পাশাপাশি বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ করা হবে। স্থানান্তর ও সম্প্রসারণ করা হবে কার্গো ভিলেজ, ভিভিআইপি কমপ্লেক্স, হ্যাঙ্গার ও পদ্মা ওয়েল ডিপো।
তৃতীয় টার্মিনালের নক্সায় রয়েছে ২৪টি বোর্ডিং ব্রিজ, যদিও প্রথম ধাপে নির্মাণ করা হবে ১২টি। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী বাকি ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ ধাপে-ধাপে নির্মাণ করা হবে। যাত্রীদের তৃতীয় টার্মিনালে চেক ইন বেল্ট থাকবে ১৩টি। আগত যাত্রীদের চাপ সামলাতে ও যানজট এড়াতে বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়কেও আসবে পরিবর্তন। একই সঙ্গে হোটেল লা মেরেডিয়ান কাছেই বিমানবন্দরে ঢোকার মূল সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া বিমানবন্দরের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যুক্ত করতে সাবওয়ে নির্মাণ করা হবে। নতুন কার্গো ভিলেজের আয়তন হবে ৪১ হাজার ২০০ বর্গমিটার। ভিভিআইপি কমপ্লেক্স ৫ হাজার ৯০০ বর্গমিটার। পার্কিং লট হবে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ বর্গমিটার। এছাড়া, র‌্যাপিড এক্সিট এ্যান্ড কানেকটিং ট্যাক্সিওয়ে, তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের সঙ্গে মূল এয়ারপোর্টের সড়কের কানেকটিভিটি তৈরি করা হবে।
২০১৭ সালে ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। এর আগে ২০১৫ সালে বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ ও সম্প্রসারণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন ও খসড়া মাস্টার প্ল্যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে বছরে প্রায় ৯০ হাজার বিমান ওঠানামা করে। গত বছরে (২০১৮) সক্ষমতার চেয়ে বেশি ৯০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেয় প্রধান এই বিমানবন্দর। সে অনুপাতে বাড়েনি বোর্ডিং ব্রিজ, লাগেজ বেল্ট, ইমিগ্রেশন চেকিং পয়েন্ট, পার্কিং-বেসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো সুবিধা। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না যাত্রীরা। এই প্রেক্ষাপটেই শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মূল টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে ২৪ লাখ বর্গফুট জমির ওপর তৃতীয় টার্মিনাল করতে যাচ্ছে সরকার।