বৃহস্পতিবার ৪ঠা মার্চ, ২০২১ ইং ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ফেরি চলাচলে যাত্রীদের ভোগান্তি

আপডেটঃ ২:৪৩ অপরাহ্ণ | জুলাই ২০, ২০১৪

সড়ক বিধ্বস্ত, জোয়ারের পানিতে ঘাট তলিয়ে যাওয়া ও ফেরি সংকটসহ নানা সমস্যায় ভোলা- লক্ষ্মীপুর রুটের ইলিশা ফেরিঘাটে ফেরি চলাচলে মারাত্মক বিঘ্নে সৃষ্টি হচ্ছে।

এতে বিপাকে পড়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা। ঈদে ঘুরমুখো যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন।

ঘাটের সমস্যা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভূক্তভোগীরা।

এদিকে, ফেরির বিধ্বস্ত সড়ক মেরামতসহ বিভিন্ন দাবিতে গত দুই দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে ফেরি বাস্তবায়ন ও স্বার্থরক্ষা উন্নয়ন কমিটি। তারা ইলিশা ঘাটে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদের বরাবরে স্মরকলিপি দিয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে ঘাটের শ্রমিক,পরিবহন চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একদিকে জোয়ারের পানি, অন্যদিকে সড়ক বিধ্বস্ত এ দুই সমস্যায় এখন ভোলা- লক্ষ্মীপুর রুটে ফেরি চলাচলে মারাত্মক বিঘ্নে সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে ঘাটে পরিবহনের দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেনা পরিবহনগুলো। পানির চাপে ফেরি ঘাটের সংযোগ সড়কটির অধিকাংশ এলাকা ভেঙে যাওয়ায় এ সড়ক দিয়ে ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে চলছে যানবাহন।

যে কোনো সময় সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। অন্যদিকে ঘাটের গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় কোনো যানবাহন ফেরিতে উঠা নামা করতে না পারায় ভাটার ওপর নির্ভর করে চলছে ফেরি। ফলে এ রুটের যাতায়াতকারী পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ট্রাক চালক বাশার বলেন, রুটটি অত্যান্ত গুরুপ্তপূর্ণ হলেও কর্তৃপক্ষ খুবই উদাসীন। এ রুটে চলাচলের জন্য ৩/৪টি ফেরি প্রয়োজন হলেও চলছে মাত্র একটি ফেরি। এতে ফেরি ঘাটে দীর্ঘ জট লেগেই থাকে।

আবু কালাম বলেন, তিনদিন ধরে ঘাটে বসে আছি, কিন্তু কোনো সিরিয়াল পাচ্ছিনা, কখন গন্তব্যে যাবো তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চিয়তা।

সেলিম বলেন, জোয়ারের পানিতে ঘাট তলিয়ে গেলে ২/৩ ঘণ্টার জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এতে আস্তে আস্তে যানবাহনের দীর্ঘ জট লেগে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন বলেন, জোয়ারের চাপে ফেরির সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে, ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। টেকশইভাবে সড়কটি মেরামতের জন্য ব্যবস্থা না নিয়ে যে কোনো সময় সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে যেতে পারে, তখন যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে ফেরি চলাচলও বন্ধ হয়ে যাবে।

এদিকে, ভোলার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে যোগাযোগ একমাত্র মাধ্যম ভোলা- লক্ষ্মীপুর রুটের মেঘনার ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পথে মাত্র দু’টি ফেরি চলাচল করায় যানবাহনের চাপ কিছুতেই সামলাতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। এ রুটে আরো ফেরি বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি উঠলেও তা আজও বাস্তাবায়ন হয়নি।

ফলে একের পর এক সমস্যায় ফেরি চলাচল বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যাত্রী সেবা থেকে বঞ্চিত হাজার হাজার যাত্রী। এখনই ফেরির সমস্যা সমাধান না করলে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে আরো বেশি বিড়ম্বনায় মধ্যে পড়তে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি ইলিশা ঘাটের ব্যবস্থাপক আবু আলম ভূঁইয়া বলেন, আরো একটি ফেরির চাহিদার কথা জানানো হয়েছে, তারা খুব দ্রুত ফেরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তখন ঈদে আগে যানবাহন পারাপারে সমস্যার সৃষ্টি হবেনা।

ঘাটের গ্যাংওয়ে ও সংযোগ সড়কের বিষয়ে তিনি বলেন, রুট দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে, সড়কটি মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগকে জানানো হয়েছে, তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

ঘাটের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে,, তারা সংস্কার করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছে।

ফেরি বাস্তবায়ন ও স্বার্থরক্ষা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিতাব অপু বলেন, অতি দ্রুত বিধ্বস্ত সড়ক মেরামতসহ ফেরি সমস্যা সধাধান করা না হলে সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

এদিকে, ঈদের পূবেই ফেরি সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা