সোমবার ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

সততা, ধৈর্য্য, সাহস, বুদ্ধিমত্বা, ভাল ও সুন্দর কর্ম ছাড়া কেউ রাজনীনিতে এগিয়ে যেতে পারেনা তুরাগ থানা আওয়ামী স্বেচছাসেবক লীগের -সভাপতি সাদেকুর রহমান

আপডেটঃ ৫:৫২ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৮, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন ॥ ঢাকা মহানগর উত্তর তুরাগ থানা আওয়ামী স্বেচছাসেবক লীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: সাদেকুর রহমান বলেছেন, সততা, ধৈর্য্য, সাহস, বুদ্ধিমত্বা, ভাল ও সুন্দর কর্ম ছাড়া কেউ রাজনীনিতে এগিয়ে যেতে পারেনা। দলীয় একজন কর্মীকে সবার আগে সেটি প্রমান করতে হবে। তুরাগ থানা স্বেচছাসেবক লীগের ইতিহাসের আরেক নাম সাদেকুর রহমান ্। তার সুদক্ষ নেতৃত্বের ফলে দল দিন দিন এগিয়ে যাচেছ।

তিনি বলেন, যারা রাজনীতি করে তাদের জনগনের কাছে যাওয়ার অধিকার আছে। কাউকে রাজনীতির মাধ্যমে ডিসকোয়ালিফাই করার প্রবণতা আমাদেরকে ত্যাগ করতে হবে। তাহলে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা তৃণমূল পর্যায়ের পরিক্ষিত নেতা কমীদেরকে মূল্যায়ন করবেন।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানী তুরাগে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি এস. এম. মনির হোসেন জীবনের সাথে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।

তুরাগ থানা আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো: সাদেকুর রহমান বলেন, রাজধানীর তুরাগ থানা ও ডিএনসিসি ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড নয়ানগর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা হাজী মো: বশির উদ্দিন টঙ্গীস্থ অলম্পিয়া টেক্রটাইলস মিল্স জাতীয় শ্রমিকলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে আমার পিতা তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছেন। এছাড়া আমি হলাম মুক্তিযোদ্বা পরিবারের সন্তান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে মনেপ্রাণে ভালবেসে এবং তার আদর্শকে বুকে ধারণ করে আজো আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে বিশ্বাসী।

মো: সাদেকুর রহমান আরও বলেন, আমার এক চাচা রমিজ উদ্দিন ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্বোর সময় পাকহানাদার বাহিনীর হাতে গুলিতে শহীদ হয়েছেন। এছাড়া আমার অপর চাচা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচিত কাউন্সিলর বীরমুক্তিযোদ্বা আলহাজ মো: নাছির উদ্দিন।

তিনি বলেন, হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমানে তুরাগ থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্বা মো: আবুল হাসিম চেয়ারম্যানের হাত ধরে আমার রাজনীতিতে আসা হয়। তার হাত ধরে আমার রাজনীতিতে হাতে ঘড়ি ও পথচলা শুরু হয়।
শিক্ষাজীবন থেকে আমি ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে মো: সাদেকুর রহমান বলেন, আমি ১৯৮১ সালে তুরাগের নয়ানগর গ্রামে মাদবর বংশে জন্ম গ্রহন করেন। আমার পিতার নাম হাজী মো: বশির উদ্দিন। তুরাগের হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আমার রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয়। এর পর একই ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। এছাড়া বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী স্বেচছাসেবক লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য করা হয়।

এরপর আমাকে দল মূল্যায় করে পরবর্তী সময়ে তুরাগ থানা স্বেচছাসেবক লীগের সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়।তিনি আরও বলেন, আমি অলোম্পিয়া উচচ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর ১৯৯৬ সালে ঢাকা সরকারী তিতুমীর কলেজ ভর্তি হন। পরে সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে ১৯৯৮ সালে এইচ,এসসি ও ২০০০ সালে বিকম পাস করেন। আমি উক্ত কলেজের বানিজ্য শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। স্কুল ও কলেজ জীবনের ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে আমার আগমন ঘটে।
সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, পরবর্তী সময়ে আমাকে নিজেকে একজন স্বচছরাজনীতি কর্মী, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক দাবী করে সাদেকুর রহমান বলেন, আমি মেসার্স সাফিন এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধীকারী। আমি প্রথম শ্রেনীর একজন ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী। তুরাগের নয়ানগর নেছারিয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার গর্ভনবডি সভাপতি, নয়ানগর দারুলহুদা ওসমানিয়া মাদ্রাসার দাতা সদস্য ও তুরাগ যুব কল্যাণ সংসদদের সভাপতির দায়িত পালন করছি। এছাড়া নয়ানগর চেয়ারম্যান বাড়ি জামে মসজিদের সহসভাপতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলীয় কর্মকান্ড, নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও দলের পারফর্ম দিয়ে একজন দলের কর্মী কিংবা নেতাকে মনে রাখতে হবে তার আগামী দিনের পথচলা। নিজের যোগ্যতা আর রাজনৈতিক অভিঞ্জতার মধ্য দিয়ে একজন সৎ ও ত্যাগী নেতা তৈরী করা। তিনি বলেন, দলের একজন স্বচছ রাজনীতিক কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি নির্ধারকরা আগামী দিনে দলের পরিক্ষিত নেতাদেরকে বেছে নিবেন।

রাজনীতি করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিযোগিতা থাকবে উল্লেখ করে সাদেকুর রহমান বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী স্বেচছাসেবক লীগের সভাপতি মোবাশ্বর চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুর রহমান খান ইরানের নির্দেশক্রমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদের গড়ার প্রত্যয়ে দলের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করছি।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতি করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিযোগিতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমি দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনেই স্বচছ ভাবে রাজনীতি করি। আর রাজনীতিকে রাজনীতি ভাবেই মোকাবেলা করা উচিৎ।
তিনি বলেন, কোনও নোংরা খেলা রাজনীতির অংশ হতে পারে না। আমি আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের একজন স্বচছ কর্মী হিসেবে মানুষের কল্যানের জন্য রাজনীতি করি। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গড়া সোনার বাংলাদেশ ও দেশের আপামর জনগনকেই নিয়েই আমার রাজনীতি।

তুরাগ থানা আওয়ামী স্বেচছাসেবকলীগের সভাপতি সাদেকুর রহমান বলেন, আমি নিজে একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। গত বেশ কয়েক বছরে কয়েক কোটি টাকার কাজ করেছি। নিজের ব্যবসা ও রাজনীতির বাহিরে অন্য কোনও বিষয়ে আমার কোনও মনোযোগ নেই, মানুষের কল্যানের জন্যই আমি নিরলস ভাবে রাজনীতি করি।
তিনি বলেন, রাজনীতি করার ক্ষেত্রে যত ধরনের বাঁধা আসুন না কেন, সকল বাঁধা অতিক্রম করে আমরা ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্বে রাজনৈতিক মাঠে এসব কিছু মোকাবেলা করবো।
আমার পরিবার হল রাজনৈতিদক দলের পরিবার উল্লেখ করে সাদেকুর রহমান বলেন, আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা সহ অহেতুক ভাবে হয়রানীর শিকার হই। আমার পরিবার হল নির্যাতিত পরিবার।

তৃণমূল পর্যায়ের দলের পরিক্ষিত নেতাদের আগামী দিনে দল মূল্যায়ন করবে উল্লেখ কওে সাদেকুর রহমান বলেন, আজকে দল ক্ষতায় আসলে ও নব্য ও হাইব্রিড নেতারা পদে পদে সয়লাব হয়ে গেছে। সেই দিন তো আমার আওয়ামীলীগের দু:সময়ে বিপদের সময় কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেই দিন কোথায় ছিলেন দলের এই সব হাইব্রিড ও নব্য আওয়ামীলীগ নেতারা।তাহলে কি দলের ত্যাগী নেতাদের কি কোন মূল্যায়ন থাকবেনা ?।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তরুণ এই স্বেচছাসেবকলীগ নেতা বলেন, ঢাকা-১৮ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও সাবেকমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (এমপি) একজন স্বচছ রাজনীতিবিদ। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য সাহারা খাতুন (এমপি) একজন সারা দনের মানুষ। আগামী দিনে তার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তুরাগ থানা আওয়ামী স্বেচছাসেবকলীগ বদ্বপরিকর। দেশ উন্নয়নে সাহারা খাতুন এমপি’র কোন বিকল্প নেই।
তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি দাবী করে সাদেকুর রহমান বলেন, তুরাগ থানা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমানে তুরাগ থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্বা মো: আবুল হাসিম চেয়ারম্যানের অবদান সব চেয়ে বেশি। স্বাধীনতার উত্তরসরি হিসেবে তার কথা এলাকাবাসি সারাজীবন সবাই মনে রাখবে। তুরাগ থানা ও হরিরামপুর ইউনিয়নকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিকে পরিণত করতে হাসিম চেয়ারম্যানের কৃতিত্বকে মানুষ মনে রাখবে। তার অগ্রনীর ভুমিকার কথা মানুষ ভুলবেনা।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি বীরমুক্তিযোদ্বা আলহাজ মো: নাছির উদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, কাঁদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি এখন থেকে সবাইকে পরিহার করতে হবে। নিজেকে দলের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে ভালো কাজের সামনে প্রমান করতে হবে।
বীরমুক্তিযোদ্বা আলহাজ মো: নাছির উদ্দিন বলেন, তুরাগ থানা আওয়ামী স্বেচছাসেবকলীগ একটি সুসংগঠিত দল। দলের পরীক্ষিত, ত্যাগী তৃণমূল পর্যায়ের পদ-পদবী প্রাপ্ত স্বেচছাসেবকলীগ নেতারা দলের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করছেন। দলকে শক্তিশালী করার লক্ষে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচেছন। আগামী দিনের দলের পরিক্ষিত নেতাদেরকে অবশ্যই দল মূল্যায়ন করবে।

তিনি আরও বলেন, কাউকে রাজনীতির মাধ্যমে ডিসকোয়ালিফাই করার প্রবণতা ত্যাগ করতে হবে। যারা রাজনীতি করে তাদের জনগনের কাছে যাওয়ার অধিকার আছে। ধৈর্য্য, সাহস, বুদ্ধিমত্বা, ভাল ও সুন্দর কর্ম ছাড়া কেউ রাজনীনিতে এগিয়ে যেতে পারেনা।Share