বৃহস্পতিবার ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

আবরারের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ১৫, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :চ্যানেল সেভেন – : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে আবরারের বাবা-মা ও ছোট ভাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এই আশ্বাস দেন।

বিকাল ৫টার একটু পরে আবরার ফাহাদের বাবা বরকতুল্লাহ, মা রোকেয়া বেগম এবং ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ গণভবনে যান। এ সময় তাদের সান্ত্বনা দেন শেখ হাসিনা।

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আবরারের পরিবারের সদস্যদের বলেন, ‘এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দোষী যে দলেরই হোক তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’ এ সময় আবরারের মা রোকেয়া বেগমকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুকে জড়িয়ে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কোনো সান্ত্বনাই আপনাদের যন্ত্রণা প্রশমন করতে পারবে না। কিন্তু সরকার এজন্য ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। খুনিদের গ্রেপ্তার করেছে। দ্রুত তাদের বিচার শুরু হবে।’

‘আমি ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমি দেখতে চাইনি কে কার লোক। অপরাধী কে বা কোন দল করে সেটা বিবেচনা করিনি। ওই সময় কিছু শিক্ষার্থী ভিডিও ফুটেজ আটকানোর চেষ্টা করেছে। সেটা তারা কেন করেছে তা এখনও আমার বোধগম্য নয়। তা না হলে হয়তো সব অপরাধী আরো আগেই গ্রেপ্তার হতো।’

প্রধানমন্ত্রী আবরারের মায়ের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। শুধু বলবো আমাকে দেখেন। স্বজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি। আমিও এক রাতে সব হারিয়েছিলাম। আমি তখন বিচারও পাইনি।’

এ সময় আবরারের মা রোকেয়া খাতুন প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনি মায়ের আসনে থেকে ঘটনার পর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যে কঠোর ভূমিকা নিয়েছেন, সেজন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই।’

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।

গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আবরার হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত বুয়েট ছাত্রলীগের ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৫ জন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর পুলিশের তদন্তে চারজনের নাম আসায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।