বুধবার ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

শাহরাস্তিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিক আশ্রয়ণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ..

আপডেটঃ ১১:৫৫ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৯, ২০১৯

বিশেষ প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক আশ্রয়ণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ‘জমি আছে ঘর নেই, নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-০২ এর অধীনস্থ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মানা হয়নি যথাযথা নিয়ম। এ প্রকল্প নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানামুখী ক্ষোভ।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্যঃ

১৯৯৭ সালের ১৯ মে কক্সবাজার জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হওয়ায় বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐ এলাকা পরিদর্শনে যান। তিনি মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েন এবং সকল গৃহহীন পরিবারসমূহকে পুনর্বাসনের তাৎক্ষনিক নির্দেশ দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে “আশ্রয়ণ” নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিন (০৩) টি ফেইজে আশ্রয়ণ প্রকল্প (৯১৯৭ – ২০০২), আশ্রয়ণ প্রকল্প (ফেইজ- ২) (২০০২ – ২০১০), আশ্রয়ণ- ২ প্রকল্প (২০১০ – ২০১৯) মোট ২,৯৮,২৪৯টি পরিবার পুনর্বাসন করা হয়, তন্মধ্যে আশ্রয়ণ- ২ প্রকল্পের মাধ্যমে ১,৯২,৩৩৬টি পরিবার পুনর্বাসন করা হয়েছে। বর্ণিত প্রকল্পের সাফল্য ও ধারাবাহিকতায় ২০১০-২০১৯ (সংশোধিত) মেয়াদে ২.৫০ লক্ষ ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে এ অনিয়মের বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গিয়েছে প্রশাসণের চরম দায়িত্বের অবহেলা ও আর্থিক সুবিধা ভোগ ও স্বজনপ্রীতি । 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতাধীন এ ঘর শুধুমাত্র অসহায় ও দুস্থ, যাদের জমি আছে, গৃহ নির্মাণের সামর্থ্য নেই তাদের পাওয়ার কথা। গত ২০১৬-২০১৭ ও ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে শাহরাস্তি উপজেলায় ৪০২টি ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এ প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণকারী ও উপকারভোগীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায়ও রয়েছে অস্বচ্ছতা।

এছাড়া প্রকল্পের যে নির্দেশনা রয়েছে তাও দেখভাল করার দায়িত্বে নিয়োজিতরা হরিলুট করেছেন এ প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা। যারা ঘর পেয়েছেন তাদের অনেকেরই আর্থিক অবস্থা ভালো হওয়ার পরেও কোন তদন্ত ছাড়াই ঘর বিতরণ করছে স্থানীয় প্রশাসন।