মঙ্গলবার ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

খন্দকার মোশররফের জামিন স্থগিত

আপডেটঃ ৩:০০ অপরাহ্ণ | জুলাই ২০, ২০১৪

অর্থপাচারের (মানিলন্ডারিং) মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

হাইকোর্টের দেওয়া স্থায়ী জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আপিল আবেদনের শুনানি শেষে রোববার এ আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

গত ৯ জুলাই তিন শর্তে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে স্থায়ী জামিন দেন বিচারপতি মো. রেজাউল করিম ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ। শর্তগুলো হচ্ছে- খন্দকার মোশাররফকে বিচারিক আদালতে তার পাসপোর্ট জমা দিতে হবে, তিনি বিচারিক আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশে যেতে পারবেন না এবং যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে, সে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে পারবেন না।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান পরদিন ১০ জুলাই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদনটি করেন।

খন্দকার মোশাররফ এখন কেন্দ্রীয় কারাগারের তত্ত্বাবধানে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যে মোট ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা পাচারের অভিযোগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ার বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, খন্দকার মোশাররফ ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ‘Lloyds TSB Offshore Private Bank’ ব্যাংকে তার নিজের ও স্ত্রী বিলকিস আক্তারের যৌথ নামে ৮ লাখ ৪ হাজার ১৪২ ব্রিটিশ পাউন্ড পাচার করেন, যা বাংলাদেশি টাকায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা। এ টাকা তিনি বিভিন্ন সময় ১০৮৪৯২ নম্বরে ফিক্সট টার্ম ডিপোজিট হিসেবে জমা করেন।

দুদকের অনুসন্ধানে মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘিত হওয়ায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন’২০০২ এর ১৩ ধারা এবং ২০০৯ ও ২০১২ এর চার ধারায় মানিলন্ডারিংয়ের মামলা দায়ের করা হয় বিএনপির হেভিওয়েট এ নেতার বিরুদ্ধে।

এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছিলেন খন্দকার মোশাররফ। পরে হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে জামিন বাতিল করে দেন। ওই পর্যবেক্ষণে বলা হয়, যেহেতু ব্রিটেনে টাকা পাওয়া গেছে এবং এ টাকা স্টক মার্কেটে ব্যবহার করা হয়েছে, সেহেতু এ মামলায় জামিন বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

এরপর গত ১২ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় আহসান আলীর নেতৃত্বে দুদকের একটি দল খন্দকার মোশাররফকে গুলশান তার নিজ বাসা থেকে আটক করে। এ অভিযানে গুলশান থানা পুলিশ দুদককে সহযোগিতা করে।

গত ১৩ মার্চ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আরেফিন তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড শেষে ১৬ মার্চ তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন ঢাকার সিএমএম্ আদালত।

ওইদিন আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক আহসান আলী। তবে  এ সময় তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান জামিনের আবেদন নাকচ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এরপর গত ২৩ মার্চ তার জামিন নামঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত।

জেলা ও দায়রা জজ মো. জহুরুল হক ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুহুল আমিনও তার জামিন নামঞ্জুর করেন।

এরপর কয়েকবার হাইকোর্টে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হন খন্দকার মোশাররফ। অবশেষে ৯ জুলাই তিনি স্থায়ী জামিন পান।