রবিবার ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

সরকারকা মাল দরিয়ামে ঢাল ………কুষ্টিয়া গড়াই নদী-তীর ড্রেজিং দূর্নীতি -ড্রেজিং ডিভিশনের প্রধান প্রকৌশলীর ভাগ্নে, এসি’র স্ত্রীর বড় ভাই ও এসডির আত্মিয় দিয়ে চলছে হরিলুট !

আপডেটঃ ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :চ্যানেল সেভেন – :২০১৯-২০ অর্থবছরের গড়াই নদী-তীর রক্ষন ড্রেজিং প্রকল্পে ইজিপি দরপত্র আহ্বানের পূর্বেই ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন-ড্রেজিং ডিভিশনের প্রধান প্রকৌশলীর ভাগ্নে, এসি’র স্ত্রীর বড় ভাই ও এসডি র আত্মিয় দিয়ে চলছে হরিলুট ! দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমা লের জেলাগুলোর মিঠাপানির অন্যতম উৎস গড়াই নদী। এমনকি সুন্দরবনে মিঠাপানির চাহিদার একটি অংশ মেটায় গড়াই। তবে দুই দফা খনন কাজ করেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো ফল আসেনি। বরং শুষ্ক মৌসুমে নদীর চেহারা দেখে বোঝার উপায় থাকেনা এখানে খনন কাজ করা হয়। নদীতে পলি পড়ে প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। মানুষ হেঁটে এমনকি সাইকেল চালিয়ে গড়াই পার হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে খানাখন্দে কিছু পানি আটকে থাকে। বার বার খননে কাংখিত ফল না পাওয়ায় নদীপাড়ের মানুষের মাঝে রয়েছে ক্ষোভ। নদীতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশি মাছ বিলুপ্তির পাশাপাশি জীববৈচিত্র হুমকিতে পড়ছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ও মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা থেকে গড়াইয়ের উৎসমুখ শুরু হয়েছে। নদীটি কুষ্টিয়া ছাড়াও মাগুরা, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, যশোর ও খুলনা হয়ে সুন্দরবনে গিয়ে মিশেছে। সুন্দরবন ছাড়াও দক্ষিণ-পশ্চিমা লের জেলাগুলোতে নোনা পানির আগ্রাসন রুখতে বড় ভূমিকা রাখে গড়াইয়ের মিঠাপানি। সুন্দরবনে জীব-বৈচিত্র রক্ষা ও কৃষি কাজে সেচের জন্য কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর উৎস মুখে খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে হরিপুর এলাকায় গড়াই নদীর উৎস মুখে মূল চ্যানেলে খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, নদীর পাড় সংরক্ষণ, লবণাক্ত দূরীকরণসহ জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় গড়াই নদী ৪৪ কিলোমিটার খননসহ বিভিন্ন স্থানে সংস্কার কাজ এ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিদিন ৫টি ড্রেজার গড়াই নদীর উৎস মুখ থেকে ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে ৫০ হাজার ঘনফুট পলি অপসারণ করবে। গড়াই নদী খনন কাজ বাস্তবায়নের জন্য ১ হাজার ১শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। প্রকল্পে এই অর্থবছরে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে ৩৮ কোটি টাকা।
কিন্তু প্রকল্প শুরুর ১৩ দিনের মাথায় অভিযোগ উঠেছে সীমাহীন দূর্নীতি ও অনিয়মের। প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে অনিয়ম আর দূর্নীতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
পানিউন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজিং ডিভিশনের আওতায় “২০১৯-২০ অর্থবছরের গড়াই নদীতীর রক্ষন ড্রেজিং প্রকল্প” শিরোনামে গড়াই নদীতীর খনন কাজ শুরু হয়েছে গত ২৪ অক্টোবর তারিখে। কিন্তু প্রকল্প ঘিরে দূর্নীতির তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে দেরমাস আগে থেকেই। মূলত এই অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের ড্রেজিং এর এসি সরোয়ার হোসেন, ড্রেজিং এর কুষ্টিয়া অ লের নির্বাহী প্রকৌশলী তাজমীর আহাম্মেদ ও এসডি আলী আফরোজ এর বিরুদ্ধে। মাস দেড়েক আগে প্রকল্পের এসি সরোয়ার জাহান নারায়নগঞ্জ ক্লাবে যান এক দুপুর বেলা। নারায়নগঞ্জের ঠিকাদার সেলিম হোসেনের মাধ্যমে সেদিন দুপুর বেলায় ৫ ছক্কু মিঞা সহ আরও কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে প্রাক টেন্ডার বৈঠক করেন তিনি।অভিযোগ রয়েছে সেখানেই দরকষাকষি চলে ঠিকাদারদের সাথে। এক পর্যায়ে প্রকল্প ব্যায়ের ১০ শতাংশ উৎকোচ হিসেবে দেওয়ার শর্তে ঠিক করা হয় প্রকল্পের ডাইকের কাজ করবেন নারায়নগঞ্জের ঠিকাদার ছক্কু মিঞা। কথামত ছক্কু মিঞা গত ২৩ অক্টোবর (সচিব প্রকল্প উদ্বোধনের আগের দিন) কুষ্টিয়া পানিউন্নয়ন বোর্ডের র‌্যাক অফিসে স্থাপিত ড্রেজিং প্রকল্পের অস্থায়ি অফিসে আসেন এবং সেখানে প্রকল্পের এসি, এক্সেন এবং এসডি আলী আফরোজ এর উপস্থিতিতে উৎকোচের প্রথম কিস্তি ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। এরপর ২৪ তারিখে সচিব কাজ উদ্বোধন করে চলে যাবার পর দুপুরে ড্রেজিং সাইটে গিয়ে এসডি আলী আফরোজ ছক্কু মিঞাকে প্রকল্পের ডাইক অংশের ঠিকাদার বলে পরিচয় করিয়ে দেয়।
এদিকে প্রকল্পের পাইপ অংশের কাজ না পেয়েও ঠিকাদারি করছেন ভেড়ামারার মুকুল। ভেড়ামারার মুকুলের সাথেও ১০ শতাংশ উৎকোচ প্রদানের শর্তে শেষ হয়েছে দেনদরবার। অভিযোগ রয়েছে এসডি আলী আফরোজ মূকুলের সাথে দেনদরবারের দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে প্রকল্পে তেল সরবরাহের কাজ করছেন কুষ্টিয়ার মন্ডল ফিলিং ষ্টেশনের স্বত্বাধিকারী আখতার হোসেন। তবে সূত্রের তথ্য মতে ইজিপি দরপত্রের মাধ্যমে আখতার কাজ পেয়েছেন ১৫-১৮ দিন আগে। কিন্তু সে তেল সরবরাহ করছে আরও ১ মাস আগে থেকে। সূত্রের তত্য মতে প্রকল্পের ৩৮ কোটি টাকার মধ্যে এন্সিলারি অংশের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৭ কোটি টাকা আর তেল বাবদ ধরা হয়েছে ২১ কোটি টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুষ্টিয়ার দুইজন ফিলিং ষ্টেশনের স্বতাধিকারি জানান মন্ডল ফিলিং ষ্টেশন কাজ করছে দেড়মাস আগে থেকেই। তার সাথে প্রকল্প ব্যায়ের ১০ শতাংশ ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করার শর্তে তাকে কাজ প্রদান করা হয়। ইতিমধ্যেই এই টাকার একটি বড় অংশ দুই দফায় (কাজ পাওয়ার আগে ও পরে) প্রদান করেছে তারা। ফিলিং ষ্টেশনের মালিকরা জানান এই ডিলিংস করেছে ড্রেজিং এক্সেন তাজমীর আহাম্মেদ ও এসডি আলী আফরোজ। তারা কুষ্টিয়ার বিভিন্ন ফিলিং ষ্টেশনের মালিকদের সাথে একাধিকবার আলোচনা করেছেন কাজের ব্যাপারে। কিন্তু ১০ শতাংশ মন্ডল ফিলিং ষ্টেশন ছাড়া আর কেউ দিতে রাজি হয়নি। বিগত ১৭ অক্টোবর পূর্ব নির্ধারিত ভাভে ইজপি টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পায় মন্ডল ফিলিং ষ্টেশনের স্বত্বাধিকারী আখতার হোসেন।
এদিকে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সিএসডি পদ্মা, সিএসডি মধুমতি, সিএসডি বাঙালী, সিএসডি তুরাগ এবং সিএসডি গড়াই নামে ২৬ ইি র ৫ টি সরকারী ড্রেজার কাজ করছে বিগত ২৪ অক্টোবর থেকে। এসমস্ত ড্রেজারে তেলের সরকারি বরাদ্দ রয়েছে ৫৪০ লিটার প্রতি ঘন্টা। কিন্তু সরেজমিনে ড্রেজার গুলোতে গিয়ে দেখা যায় কাটিং এর দুইটি ইঞ্জিনে প্রতি ঘন্টায় সর্বনি¤œ ২৩০ থেকে পূর্ন ক্ষমতায় সর্বোচ্চ ৩৫০ লিটার তেল ব্যবহৃত হয়। তবে কোন ড্রেজারেই অরিজিনাল লগশিট পাওয়া যায়নি। ড্রেজার মাষ্টার এবং ড্রাইভারদের সাথে কথা বলে জানা যায় লগশিট রয়েছে অফিসে।তারা জানায় ২৪ তারিখে অফিস থেকে প্রতিটি ড্রেজারে ৯০০০ লিটার করে ডিজেল প্রদান করা হয়েছে। দৈনিক কত ঘন্টা করে কাজ হয় জানতে চাইলে তারা জানায় এক একটি ড্রেজার প্রতিদিন ৮ তেকে ১০ ঘন্টা কাজ করে। কিন্তু কোন ড্রেজারের টেম্পরারি লগশিটে দৈনিক ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টার বেশি কাজের উল্লেখ নাই। এক হিসেবে দেখা যায় সিএসডি পদ্মায় গত ২৪ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্তমোট কাজ হয়েছে ৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট। ৫ টি ড্রেজারেরই একই চিত্র। কোনটাতেই ৫ থেকে ৬ ঘন্টার বেশি কাজ হয়নি। প্রতিটি ড্রেজারের কাজ দেখভালের জন্য ৫ থেকে ৭ জন নিয়োজিত রয়েছে খুলনা অ লের ড্রেজিং এর প্রধান প্রকৌশলী, এক্সেন ও এসডির আত্মিয় এবং মনোনিত লোক। তারা নিজেদেরকে ড্রেজারের লস্কর বলে পরিচয় দেয়। এর মধ্যে সিএসডি পদ্মায় লস্কর হিসাবে কাজ করছেন সফিকুল ইসলাম। সে নিজেকে খুলনা অ লের ড্রেজিং এর প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল ওহাবের ভাস্তে হিসেবে পরিচয় দেয়।এছাড়াও ৫ টি ড্রেজারে ডেইলি বেসিসে কাজ করছে হাসান, মাহাবুব ফকির, সজিব, রানা, সেলিম, সিরাজ, উজ্জল, হারুন, টুটুল সহ আরও অনেকে। এদের কারও কাছেই কোন পরিচয় পত্র নেই এমনকি অফিসে খোঁজ নিয়েও তাদের কোন নিয়োগপত্র এমনকি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতা সনদ কিছুই পাওয়া যায়নি। নিয়ম রয়েছে দৈনিক দিন হাজিরার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৩১ জন দক্ষ শ্রমিক ও সর্বোচ্চ ২ জন অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগ করতে পারবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি হিসেবে এদের প্রতিদিনের হাজিরা ধরা হয়েছে ৪১৬ টাকা ৬৬ পয়সা। কিন্তু এদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা এখানে মাসিক ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজ করছে। ড্রেজারের মাষ্টার এবং ড্রাইভাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে জানা যায় বিভিন্ন সময় এসডি এক্সেন ফোন করে তাদের কাছে ফোন দিয়ে লোক পাঠায় এবং তারা কাজ করছে। নাম পকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ড্রেজারের স্থায়ি লস্কররা জানান অফিস থেকে ফোন করে যে সমস্ত অনভিজ্ঞ লস্করদের ড্রেজারে পাঠানো হয় তারা আসলে কোন কাজই জানেনা কিন্তু অফিসের বলে খবরদারি করে। অস্থায়ি লস্করদের সাথে কথা বলে জনা যায় তারা এখানে বিভিন্ন অফিসারের লোক হিসেবে কাজ করছে নারায়নগঞ্জের ছক্কু মিঞার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে। তাদের কাগজ পত্র সব জমা দেওয়া আছে ড্রেজারের এসডি আলি আফরোজের কাছে এবং তিনিই তাদেও খরচ পত্র দেন। তবে ১ মাস থেকে দেড় মাস ধরে কাজ করলেও এখনো বেতন হয়নি। তারা জানান এসডি সাহেব বলেছেন এই সপ্তাহের মধ্যেই তাদের বেতন দেবেন। শ্রমিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে কাজের এখনও টেন্ডারই হয়নি সেই কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত দৈনিক হাজিরার শ্রমিকদের মাসিক বেতন এসডি দেবেন কোথা থেকে। এই প্রশ্নের উত্তর তারা দিতে পারেনি। তারা শুধু জানে তারা নারায়নগঞ্জের ছক্কু মিঞার লোক।
এদিকে পাইপের কাজের শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা ভেড়ামারার ঠিকাদার মূকুলের লোক। এদিকে অভিযোগ উঠেছে ড্রেজারের তেল পাচার হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে তা এস্কেবেটরে। ড্রেজার থেকে তেল এনে এস্কেবেটরে ব্যবহারের কাজ নিয়ন্ত্রন করছে কুমিল্লার শাহীন। এই শাহীন এসির স্ত্রীর ভাই। শাহীন প্রতিবেদকের কাছে শিকার করেছে ড্রেজার থেকে তেল এনে এস্কেবেটরে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সে এটার লগশিট মেইনন্টেইন করছে। সে এখানে দেড় মাস যাবত কাজ করছে এবং এসডি আলী আফরোজ তাকে সমস্ত খরচ প্রদান করে।
এদিকে এইসব বিষয় নিয়ে খুলনায় অবস্থানরত এসি সরোয়ার হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে টেলিফোনে কথা বলতে রাজি হননি। এরপর ৩ দফায় প্রতিবেদকের সাথে তার মুঠোফোনে কথা হয়। ইজিপি টেন্ডারের আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ করা এবং পরবর্তিতে কা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ শতাংশ উৎকোচ নেওয়ার বিষয়টি অস্বিকার করেন। তবে তিনি বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল ড্রেজিং সাইটেই কাজ চলমান রাখতে ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের আগেই আনঅফিসিয়ালি কিছু দক্ষ জনবল নিয়োগ করা হয়। গড়াই নদী খনন প্রকল্পেও এর ব্যাত্যায় হয়নি। এক্ষেত্রে ড্রেজিং এর দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশরী তাজমীর আহাম্মেদ খুব সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি নিজ দায়িত্বে বেশকিছু লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তাঁর আত্মীয় শাহীন নিয়োগ পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন “আমার একার আত্মীয় শুধু কাজ করছেনা।সব অফিসারেরই কিছু না কিছু গরিব আত্মীয় স্বজন থাকে। তাদেরকে এরকম কাজে কর্ম সংস্থানের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় এটা দোষের কিছু নয়।অনেক অফিসারেরই আত্মিয় এবং পরিচিত জনেরা কাজ করছে গড়াই ড্রেজিং প্রকল্পে। এদিকে এসি সরওয়ার হোসেন দেড় মাস আগে নারায়নগঞ্জ ক্লাবে মিটিং এর ব্যাপারে জানান “ আমি মাস দেড়েক আগে নারায়নগঞ্জ গিয়েছেলাম একটি দাপ্তরিক কাজে। সেখানকার সেলিম নামে একজ ঠিকাদারের আমন্ত্রনে আমি দুপুরের খাবার খেতে নারায়নগঞ্জ ক্লাবে যাই। পরে আমাদের সাথে আরও দুইজন এসে একসাথে খাবার খাই এবং ঢাকাতে ফিরে আসি। এখানে কাজের ব্যাপারে কোন কথা হয়নি”। ছক্কু মিঞা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন “আমি কোন ছক্কু মিঞাকে চিনিনা”। এদিকে ছক্কু মিঞা ২৩ তারিখে কুষ্টিয়ায় এসে তার এবং এক্সেন ও এসডির উপস্থিতিতে ১০ লক্ষ টাকা প্রদান প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান এমন কিছু ঘটেনি।
এদিকে ছক্কু মিঞার ২৩ তারিখে কুষ্টিয়া আসার উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে এক্সেন তাজমির আহাম্মেদ এবং এসডি আরী আফরোজকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা স্বীকার করেন সেদিন সে নারায়নগঞ্জ থেকে কুষ্টিয়া অফিসে এসেছিল দুপুর বেলায়। তবে তিনি কোন টাকাপয়সার লেনদেন করেননি। তাজমির হোসেন এবং আরী আফরোজ জানান ছক্কু মিঞার কাছে কিছু অব্যবহৃত গ্যাসকিট ছিল সেগুলো সে দিতে এসেছিল।
এদিকে নারায়নগঞ্জে অবস্থানরত ছ্ক্কু মিঞার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান “আমি নারায়নগঞ্জ ক্লাবে কখোনো যায়নি।নারায়নগঞ্জ ক্লাবে যাওয়ার মতন আমার যোগ্যতা নেই। সেখানে মেম্বাররা ছাড়া কেউ ঢুকতে পারেনা”। তখন তাকে প্রতিবেদক জিজ্ঞাসা করে “সেদিন আপনি সেলিম কন্টাকটারের গেষ্ট হিসাবে গিয়েছেলেন”। তখন ছক্কু মিঞা বলেন যেটা প্রশ্ন করেছেন সেটার মধ্যেই থাকেন”। এদিকে ২৩ তারিখে কুষ্টিয়া আসা এবং ২৪ তারিখে এসডি আলী আফরোজের সাথে সাইট ভিজিটের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন “আমি ২৩ ও ২৪ তারিখে নারায়নগঞ্জেই ছিলাম কুষ্টিয়াতে যাইনি”। এক্সেন এবং এসডির বক্তব্যের ব্যাপারে তার কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে ছক্কু মিঞা বলেন “এব্যাপারে তারা দুই জনই ভাল বলতে পারবে”।
এদিকে ইজিপি টেন্ডারের আগেই সাইটে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোক নিয়োগের ব্যাপারে এক্সেন তাজমীর আহাম্মেদ বলেন “সাইটে লোক কাজ করছে ঠিকই, তবে তারা কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোক নয় তারা অফিসের নিয়োগ করা লোক”। তবে তার কাছে নিয়োগের পরিপত্র বা কাজ করা শ্রমিকদের কোন কাগজ দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। আর ড্রেজারের তেল এস্কেবেটরে ব্যবহারের প্রসঙ্গে বলেন এই তথ্য ঠিক নয়।

অপরদিকে অভিযোগ রয়েছে ড্রেজিং এর এসডি আলী আফরোজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে এই সব কিছু দেখভাল করছেন। তিনি নিজেকে অফিসে এবং সাইটে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইসটি ইমামের আত্মীয় বলে পরিচয় দেন। তার ভয়ে থাকে সবাই। আর তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ সে অস্বিকার করে। অন্যদিকে এই বিষয়ে বক্তব্য নিতে খুলনা অ লের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল ওহাব এবং পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার এর সাথে যোগাযোগ কওে তাদেরকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর খনন কাজ পরিদর্শন গত (২৬ এপ্রিল) হরিপুরে যান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। কিন্তু খননকাজে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতির অভিযোগ শুনে পদ্মা-গড়াই মোহনায় চলা খনন কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন তিনি। এরপর আবার নতুন কওে কাজ শুরু হয়েছে ২৪ অক্টোবর থেকে।