বৃহস্পতিবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের— প্রেসব্রিফিংয়ে র‌্যাব

আপডেটঃ ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৭, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : রাজধনীতে কাটআউট’ পদ্ধতিতে ‘লোন উলফ’ হামলা সহ বড় ধরনের কোন নাশকতার পরিকল্পনা ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার-আল ইসলামের ৬ জঙ্গি সদস্যদের।আনসার আল ইসলামের সদস্যরা ‘কাট আউট’ পদ্ধতিতে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে থাকে। তারা প্রটেকটিভ অ্যাপস ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে, যেগুলো সাধারণত ইন্টারফেস করা যায় না। তারা ‘কাট আউট’ পদ্ধতিতে চলাফেরা করে।শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দিনগত রাতে রাজধানীর উত্তরা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আনসার-আল ইসলামের ছয় সদস্যকে আটক করে র‌্যাব-৪।শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এলিট ফোর্স র‌্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

র‌্যাবের এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-র‌্যাব-৪ এর মিডিয়া শাখার সিনিয়র এএসপি মো: সাজেদুল ইসলাম সহ র‌্যাবের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
আটককৃত ৬ জঙ্গি সদস্যরা হলেন- মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে সাগর ওরফে সালমান মুক্তাদির (২১), জেলা-নীলফামারী। মোঃ ইলিয়াস হাওলাদার ওরফে খাত্তাব (৩২), জেলা-পিরোজপুর, মোঃ ইকরামুল ইসলাম ওরফে আমীর হামজা (২১), জেলা- সাতক্ষীরা, আমীর হোসাইন ওরফে তাওহীদি জনতার আর্তনাদ (২৬), জেলা-সাতক্ষীরা, মোঃ শিপন মীর ওরফে আব্দুর রব (৩৩), জেলা- ভোলা, মোঃ ওয়ালিউল্লাহ ওরফে আব্দুর রহমান (২৫), জেলা- চাঁদপুর। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে আনসার আল ইসলাম এর বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদী সম্পর্কিত বই, লিফলেটসহ উগ্রবাদী ডিজিটাল কনটেন্ট, মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

প্রেসব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদেরকে বলেন, সম্প্রতি সময়ে রাজধানীতে কোন একটি ‘লোন উলফ’ হামলার পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর উত্তরা এলাকায় তারা একসঙ্গে মিলিত হয়। তবে, তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪) এর সদস্যরা তাদেরকে আটক করে।তিনি আরও বলেন, তারা বিভিন্ন গোপন অ্যাপসের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন তৈরী করে আসছিল। বড় কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া সাধারণত তারা কখনো একসঙ্গে জড়িত হয় না। নিজেদের মধ্যে পরিচিত না হয়েই তারা ‘কাটআউট’ পদ্ধতিতে চলাচল করে সংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আটকদের সবাই ২ থেকে ৫ বছর ধরে আনসার-আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত। আনসার-আল ইসলামের সদস্যরা টার্গেট ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় না। তারা এক্ষেত্রে সাধারণত চাপাতি ব্যবহার করে থাকে। সদস্যরা কোনো বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া কখনো এক হয় না। একে অন্যের সঙ্গে গোপন অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।বড় ধরনের কোনো নাশকতা ‘লোন উলফ’ হামলার পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা উত্তরায় এক হয়েছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের কোনো কর্মকান্ডে তারা জড়িত ছিলো বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে, এসব ঘটনাকে তারা ‘জায়েজ’ বলে মনে করে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আটকদের মধ্যে জঙ্গি সদস্য সালমান মুক্তাদির দেশব্যাপী অনলাইনে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এছাড়া জঙ্গি আব্দুর রহমান ঢাকা বিভাগের এবং আমির হামজা খুলনা বিভাগের সংগঠনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
তিনি আরও জানান, তারা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপক্ষে, তাদের মতে এই ব্যবস্থা তাগুতি বা বাতিল, তারা কথিত ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। এক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় আগ্নেয়াস্ত্রের পরিবর্তে চাপাতি ব্যবহার করে। জঙ্গি তৎপরতা, প্রশিক্ষণ ও করনীয় সম্পর্কে তারা নিজেদের মধ্যে অনলাইনে যোগাযোগ করে। পরিকল্পনা জন্য জঙ্গিরা উত্তরা এলাকায় তাদের পূর্ব নির্ধারিত স্থানে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করছিল।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট কোথায় হামলা করা হতো, এ বিষয়ে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত জানা যাবে।র‌্যাব-৪ এর সিও মো. মোজাম্মেল হক বলেন, উত্তরা, গাজীপুর ও সাতক্ষীরা থেকে ৬ জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতার করে তাদের নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়। এ সময় তাদের দলের আরও বেশ কয়েকজন জঙ্গি সদস্য কৌশলে পালিয়ে যায়। পলাতক জঙ্গিদের সমন্ধে তথ্য সংগ্রহ পূর্বক গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলামান আছে বলে জানান তিনি।