শুক্রবার ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

শাহরাস্তিতে যৌতুকের চাপ সইতে না পেরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

আপডেটঃ ২:১৬ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৯, ২০১৯

বিশেষ প্রতিনিধিঃচাঁদপুরের শাহরাস্তিতে যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পেরে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অসহায় স্ত্রী। যার নং-২২৫/১৯- জানা যায়, উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের সূচীপাড়া গ্রামের করের বাড়ির মৃত রুহুল আমিনের কন্যা নুরজাহান (৫৫) কে একই বাড়ির মৃত আবদুল মুনাফের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬৫) ইসলামি শরা-শরীয়ত মতে স্থানিয় মৌলভীর মাধ্যমে বিয়ে করেন। 

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, জেঠাত ভাই সিরাজুল ইসলাম ১৯৯২ সালের ৮ জুন সোমবার রাতে ২ লক্ষ টাকা দেন মোহরে স্থানিয় এক মৌলভীর মাধ্যমে নুরজাহানকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে উভয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বজায়ে রাখতেন। তখনও তাদের বিয়ের কাবিন সম্পন্ন করেননি সিরাজ। সময় গড়িয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে কাবিনের শর্ত পুরণের চাপ প্রয়োগ করেন নুরজাহান।  সিরাজ তখন দিচ্ছি দিবো বলে কাল ক্ষেপন করেন। এক পর্যায়ে সিরাজের ঔরশে নুরজাহান গর্ভবতী হন। ওই গর্ভে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান। যার নাম রাখা হয় মোঃ হানিফ। সময়ের স্রোতে হানিফ বড় হয়ে উঠে।নুরজাহানের পিতা মোঃ রুহুল আমিনের মৃত্যুর পর আরও অসহায় হয়ে পড়েন নুরজাহান।ইতোমধ্যে নুরজাহানের কাছে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেন সিরাজ। যা দেয়া নুরজাহানের পক্ষে কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। জীবদ্দশায় তার পিতা ভিক্ষা ভিত্তি করে জীবন কাটিয়েছেন। তখন ২ লক্ষ টাকা দেয়া অসম্ভব বলে জানায় নুরজাহান। সিরাজ ক্ষিপ্ত হয় নুরজাহানের উপর। এক পর্যায়ে পিতার রেখে যাওয়া জায়গা বিক্রি করে টাকা দেয়ার জন্য নুরজাহানের উপর চাপ প্রয়োগ করে সিরাজ। নুরজাহানের উপর চলে পাষবিক নির্যাতন, চলে নানান ধরণের হুমকি। সিরাজ বন্ধ করে দেয় খোরপোষ। সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়ে নুরজাহান।      

এবিষয়ে নুরজাহান বেগম বলেন, আমার পিতা অনেক গরীব ও অন্ধ ছিলেন। সিরাজ আমাকে বিয়ে করার পরভরন পোষনে অনেক কষ্ট দিয়েছে। তার ব্যবসার জন্য আমার কাছে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। আমি অসহায় এবং নিরুপায়। কোথা থেকে দিবো এই টাকা। আমি তাকে যতই বুঝিয়ে বলি ততই সে আমার উপর নির্যাতন করতো। তাই অপারগ হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।       

মোঃ হানিফ মিয়া বলেন,  আমার বাবা  সিরাজ মিয়া আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছেন। তিনি বাবা হয়েও আমি সন্তানের ঠিক মত খোঁজ খবর নেননি।   
এবিষয়ে সিরাজুল ইসলামের সাথে আলাপ করতে গেলে তিনি বাড়িতে নেই বলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানান।

এলাকাবাসী বলেন, সিরাজ তার সন্তান হানিফের খোঁজ খরব রাখবেন এটাই স্বাভাবিক। তাদের এই পারিবারিক সমস্যাটি সিরাজুল ইসলাম নিজ দায়িত্বে শেষ করতে পারেন বলে তারা মনে করেন।