সোমবার ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২রা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বশেমুরবিপ্রবি’র ছাত্রের আত্নহনন; সুইসাইড নোটে যা লিখলো…….

আপডেটঃ ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ২৯, ২০১৯

ফয়সাল হাবিব সানি- স্টাফ রিপোর্টার, চ্যানেল সেভেন: গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  (বশেমুরবিপ্রবি) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহনন করেছে। গতকাল বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাত ১১ টার দিকে গোপালগঞ্জস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি এলাকা সোনাকুড়ের মেস থেকে তার এই মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সময় একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়।

সুইসাইড নোটটি প্রকাশ করা না হলেও গোপনীয় সূত্রে তার সুইসাইড নোট থেকে জানা যায়, তার অনাকাঙ্খিত এই মৃত্যুর জন্য সে কাউকেই দায়ি করেনি। তার এমন একটা অসুখ রয়েছে যেইটা সহ্য করতে না পেরেই সে নিজেই এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পথ বেছে নেয়৷ সে তার মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং ছোট ভাইয়ের দিকে খেয়াল রাখতে বলেছে। এছাড়াও সে তার বন্ধুদের উদ্দেশ্য করে অনুরোধ করেছে,  তার পরিধিত পোশাকগুলো যেন বাড়িতে কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দেয় এবং তার ব্যবহৃত আসবাবপত্র যেন বিক্রি করে দেয়। 

প্রসঙ্গত, তার মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা চ্যানেল সেভেনকে জানায়,  নোমান বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিকভাবে পর্যুদস্ত ছিলো। তাকে চিকিৎসাও করানো হয়৷ তবে তার মন আজ ভালো মনে হয়েছে। সে মেসের বাজার করেছে, নামাজও আদায় করেছে৷ তবে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ও সোনাকুড়ের স্থানীয়দের মধ্যেও বিরাজ করছে শোকের মাতম। উল্লেখ্য, নোমানের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় প্রথমও হয়েছিলো সে। 

এদিকে মেসের শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, রাত ১০ টার পরে নোমানের রুম থেকে পানি বের হতে দেখলে রুম ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা৷ এমতাবস্থায় তাকে গলায় ফাঁসরত ঝুলতে দেখা যায়৷ তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টাসহ শিক্ষকমণ্ডলী পুলিশসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নোমানের লাশ উদ্ধার করেন৷ এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান বলেন, ঘটানাটি শুনে আমরা ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহত ছাত্রের পরিবারকে জানায়৷ এই মর্মান্তিক অনাকাঙ্খিত ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক; কী এমন কারণে ছেলেটি এই আত্মহননের পথ বেছে নিলো তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না!