সোমবার ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২রা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

অনলাইনে ছিল চার জঙ্গিদের যোগাযোগ- টার্গেট ছিল তরুণরা ———– জানিয়েছে র‌্যাব

আপডেটঃ ২:৫৩ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন ॥ রাজধানীর খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের চার সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)। আটককৃত চার জঙ্গি সদস্যরা হলেন- মোঃ মাসুম মিয়া ওরফে মাসুম (৩০), জেলা- কুমিল্লা, মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে এমরান (১৯), জেলা-গাজীপুর, মোঃ রাকিবুল হাসান ওরফে সিয়াম (১৮), জেলা-মুন্সিগঞ্জ, ও মোঃ আব্দুল্লাহ আল রোমান ওরফে রোমান খান (২২), জেলা-ঝিনাইদহ।

এসময় তাদের কাছ থেকে জঙ্গিসংগঠনের বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদী সম্পর্কিত বই,লিফলেটসহ উগ্রবাদী ডিজিটাল কনটেন্ট ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।শনিবার (৩০ নভেম্বর) দিনগত রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীরখিলক্ষেতের থানার নিকুঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে (র‌্যাব-৪)।

আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিডিয়া মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জঙ্গি তৎপরতা, প্রশিক্ষণ ও করণীয় নির্ধারণে নিজেদের মধ্যে অনলাইনে যোগাযোগ করছিল জঙ্গিদের একটি গ্রুপ। তবে, তারা যে কোন ধরনের নাশকতামূলক পরিকল্পনা ও জঙ্গি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে মাঝে-মধ্যে তারা একত্রিত হয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেন।

গ্রেফতারকৃত জঙ্গি সদস্য মোঃ মাসুম মিয়া ওরফে মাসুমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। সে বর্তমানে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করে। ফেইসবুকের মাধ্যমে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এর শীর্ষ স্থানীয় নেতার অনুসারী ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত আমির হোসেন এর মাধ্যমে পরিচত হয় এবং তার মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত হয়।

পরবর্তীতে অনলাইনে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী আইডি থেকে জঙ্গি সংক্রান্ত পোস্ট ডাউনলোড করে এবং বিভিন্ন জঙ্গির সাথে পরিচয় হয়। সে জঙ্গি সংগঠনে বিভিন্ন ভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। সাতক্ষীরা অঞ্চলের শীর্ষ স্থানীয় জঙ্গি ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত আমীর হামজা এর কাছ থেকে জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয়তা সম্পর্কে জানতে পারে। পরবর্তীতে সে অনলাইনে শীর্ষ স্থানীয় জঙ্গিদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতো এবং তাদের সাথে নিয়মিত মিটিং এর আয়োজন করে। সে প্রায় ৩ বৎসর যাবত এই সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত জঙ্গি সদস্য মোঃ আবু বক্কার সিদ্দিক ওরফে এমরান র‌্যাবকে জানান, সে বর্তমানে ফাজিল ১ম বর্ষের ছাত্র। সে বাংলাদেশী বীর মুজাহিদ নামক এক ব্যক্তির সাথে এ্যাপস্ এর মাধ্যমে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে এবং তাদের কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ দলে যোগদান করে। সে প্রায় ২ বৎসর যাবত এই সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছে। বিভিন্ন এ্যাপস্ যেমন টেলিগ্রাম, টর, ম্যাসেঞ্জার ও ইমো ব্যাবহার করে বিভিন্ন ছদ্ম নামে আইডি ব্যাবহার করে অনলাইনে বিভিন্ন রকম জঙ্গি বাদী কার্যক্রম পরিচালন করে আসছিলো।

অপর জঙ্গি সদস্য মোঃ রাকিবুল হাসান ওরফে সিয়াম ওরফে মোঃ সিয়াম সরকার ও মোঃ আব্দুল্লাহ আল রোমান জিজ্ঞাসাবাদে জানান, শীর্ষস্থানীয় এক জঙ্গির সাথে ফেইসবুক, ম্যাসেঞ্জার এর মাধ্যমে তার প্রথম পরিচয় হয়। তারা আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের একজন সক্রিয় সদস্য এবং তাদের সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিম পরিচালনা ও ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতি মাসে চাঁদা দিয়ে আসছে। সে প্রায় ২/৩ বৎসর যাবত এই সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছে।

এএসপি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল আরও বলেন, মূলত ধুত জঙ্গিরা অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে দলের অপর জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। এছাড়া তারা এক গ্রুপের সাথে অন্য গ্রুপের সদস্যদের সাথে পরিচিত হওয়াসহ দেশের তরুণদেরকে জঙ্গি সংগঠনের আনার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নির্দেশে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তারা গোপন বৈঠক করার জন্য শনিবার দিবাগত রাতে খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ এলাকায় একত্রিত হয়। তবে, অভিযানে র‌্যাব সদস্যরা ৪ জঙ্গি সদস্যকে আটক করলেও তাদের দলের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য কৌশলে পালিয়ে যায়। পলাতক জঙ্গিদের তথ্য সংগ্রহ করে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

সাজেদুল ইসলাম জানান, আটক জঙ্গিরা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপক্ষে। এক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় আগ্নেয়াস্ত্রের পরিবর্তে চাপাতি ব্যবহার করে থাকে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা বলেও জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।