সোমবার ২০শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং ৭ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

দেশ ওয়ালটনের হাত ধরে আরো এগিয়ে যাবে: অর্থমন্ত্রী

আপডেটঃ ১০:০৬ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯

ডেস্ক নিউজঃ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি ওয়ালটনের হাত ধরে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) অডিটরিয়ামে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ওয়ালটন র‌্যামের উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন আমরা হলাম বীরের জাতী। তাই আমরা কখনো পরাজিত হবো না। আমরা আজ এখানে এসেছি বিজয়ী হওয়ার জন্য। ওয়ালটন সব সময় ডিপ্লোম্যাটিক চিন্তা করে। এটা খুব ভালো। একটা সময় এ দেশে যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আসবে। এদেশের মানুষ ঘরে ঘরে ফ্রিজ, টিভি ব্যবহার করবে। অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। এগুলো কিন্তু চিন্তা করা লাগে। ভবিষ্যৎ চিন্তা করতে হয়। যারা ভবিষ্যৎ দেখতে পারে তাদের জন্য সুবিধা। ওয়ালটন সে কাজটি সঠিকভাবে করতে পেরেছে। আমি বিশ্বাস করি ওয়ালটনের হাত ধরে বাংলাদেশ আরো অনেক দূরে এগিয়ে যাবে। এবং ওয়ালটনকে অনুসরণ করে অনেকেই এগিয়ে আসবে। তারা একা থাকবে না। তাদের আরো প্রতিযোগিতা করতে হবে। নতুন নতুন প্রোডাক্ট তৈরি করতে হবে। নতুন নতুন ধ্যান ধারণায় তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, আমি কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নেইনি। বিষয়টি হল এই যে ওয়ালটন আজকে যাদের অনুষ্ঠান। যারা আমাদের বিশ্বাস আস্থার যায়গা আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা দৃঢ় প্রত্যয়ী। আমিও এক সময় ফ্রিজ, টেলিভিশন তৈরি করতাম। তখন এই ওয়ালটন ছিল আমার প্রতিদ্বন্দ্বি।

তিনি বলেন, এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চলছে আর এটা হলো ডিজিটাল বিপ্লব। আমরা এর সদব্যবহার করবো। প্রথম শিল্প বিপ্লব হয়েছিল ১৭৮৪ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের মাধ্যমে। এরপর ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ ও ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেটের আবিষ্কার শিল্প বিপ্লবের গতিকে বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। আমরা এগুলো মিস করেছি। এবার ডিজিটাল বিপ্লব মিস করতে চাই না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক মুক্তির দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায় উঠবে।

স্মৃতিচারণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি থাকাকালে আমি ওয়ালটনকে স্পন্সর হিসেবে নিয়ে আসি। তাদের বলেছিলাম আপনারা ক্রিকেটকে সাপোর্ট দেন, আপনাদের বিক্রি আর জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে। ক্রিকেটে তাদের সেই বিনিয়োগ বৃথা যায়নি। আশা করি, ইলেকট্রনিক্স বাজারে ওয়ালটন আরো অনেক নতুন নতুন পণ্য নিয়ে আসবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো অনেক এগিয়ে  যাবে।

এ সময় অর্থমন্ত্রী ওয়ালটনের মতো অন্য কোম্পানিকে আইসিটি ক্ষেত্রে অবদার রাখতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইসিটি খাতে উন্নয়নে সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের কাছে আসুন সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আপনাদের সব সহযোগিতা করবো। সরকার ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেবে।  সরকার প্রস্তুত আপনারা এগিয়ে আসুন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশ এখন উৎপাদক দেশে পরিণত হয়েছে। আমরা এখন উৎপাদক দেশের কাতারে অবস্থান করছি। যেখানে আমরা একসময় বিদেশি ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। ইতিমধ্যে ওয়ালটনের ল্যাপটপ রপ্তানিও হচ্ছে। সুতরাং আমাদের এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে। ওয়ালটন নিজেকে একটি সম্মানজনক ব্র্যান্ড হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমাদের আইসিটি খাত উন্নয়নের শক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আমাদের চার বছর আগে নির্দেশনা দিয়েছিলেন কিভাবে আমরা আইসিটি পণ্য রপ্তানিকারক দেশ হতে পারি। সেই থেকে আমরা এ বিষয়ে বিষদ আলোচনা পর্যালোচনা করেছি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে বসে বেশকিছু আইসিটি সরঞ্জামের ওপর ইমপোর্ট ডিউটি কমিয়েছি। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার আইসিটি সেক্টর থেকে রপ্তানির আয় হবে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, স্কুলগুলোতে ডিজিট্যাল ল্যাব করার জন্য ওয়ালটন থেকে ল্যাপটপ কেনা হয়েছে দুই বছর আগে। এখনও একটি ল্যাপটপ নষ্ট হয়নি। আমাদের দেশে উৎপাদিত পণ্য অন্য দেশের পণ্যের চেয়ে ভালো এ বিশ্বাস আমাদের রাখতে হবে। নিজেদের দেশের পণ্য ব্যবহার করতে হবে।

ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম বলেন, আজকে যাদেরকে আমরা এখানে পেয়েছি, বাংলাদেশের শিল্পের ইতিহাসে স্বাক্ষর আজকে হবে এখানে, যেটা এই শিল্পের উদ্ভাবক এবং জন্ম সুদূর আমেরিকায়। আমরা সবাই জানি সিলিকন ভ্যালি সেখানে গবেষণা হয়। সেখান থেকে ডিজাইন হয়। সেই ডিজাইন থেকে প্রোডাক্ট প্রস্তুত হয়। দুইটা বিষয় থাকে একটা প্রোডাক্ট এর ইন্টারনাল, আরেকটা এক্সটার্নাল। আমরা বাইরের দিকটাই সব সময় দেখে থাকি। যে বাইরের জিনিসটা দেখতে কতটুকু চাকচিক্য। কিন্তু সে জিনিসের মধ্যে কতগুলো জিনিস কাজ করে। সেটা মন্ত্রী মহোদয়ের সামনে একটা ল্যাপটপ খোলা আছে সেটা দেখলেই বোঝা যায় যে এটা কি করে সম্ভব বানানো হয় বাংলাদেশে। আমার মনে হয় গত চার বছরের আত্মবিশ্বাসে সবকিছু বানাতে পারবো। আমি আর কিছুই চাই না, আমি শুধু উৎসাহ-উদ্দীপনা চাই।

তিনি বলেন, নিজের দেশে নিজের মাতৃভূমিতে বসে গবেষণা করবে এবং প্রোডাক্ট প্রস্তুত করবে যেটা অ‌্যাপল করেছে, আরো অনেকে করেছে। কিন্তু সেই মানের প্রোডাক্ট আমাদের এই বাংলাদেশ থেকে তৈরি হবে এবং মেড ইন বাংলাদেশ হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যাবে। সেই দিন আর দূরে না। আজকে সেই দিনের একদিন। আমরা একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখানে সাংবাদিক ভাইয়েরা আছেন। আপনারা দেশের বাইরের নিউজ যেভাবে প্রকাশ করেন খুব গুরুত্ব নিয়ে, ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশের প্রযুক্তি নিয়ে কি কাজ হচ্ছে সেই বিষয়েও নিউজের মাধ্যমে আপনারা জাতিকে জানাবেন।

ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক এস এম জাহিদ হাসান বলেন, প্রযুক্তি পণ‌্য বিকাশে আরো একধাপ এগিয়ে গেল ওয়ালটন। আজ যারা এখানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত রয়েছেন- সবাইকে  ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 

অনুষ্ঠানেস উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি।

আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের কম্পিউটার বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রকৌশলী লিয়াকত আলী, ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ফিরোজ আলম, অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর মিলটন আহমেদ প্রমুখ।