শনিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

ইজতেমার জুমার নামাজে লাখো মুসল্লি….

আপডেটঃ ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ১৮, ২০২০

টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা  : আম ও খাস বয়ান, তালিম ও তাশকিল, নামাজ-কালাম ও জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগতীরে কেটেছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন। এদিন জুমার জামাতে শরিক হন কয়েক লাখ মুসল্লি। মাঠে জায়গা না পেয়ে আশপাশের রাস্ত, বাড়িঘর, দোকানপাট এমনকি নদী ও সড়কে বিভিন্ন যানবাহনেও শরিক হন জুমার জামাতে। বেলা ১টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশের মাওলানা মোশারফ হোসেন উত্তরা ১০নং সেক্টরের বেলাল মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে এ জামাতে ইমামতি করেন। এ সময় ইজতেমা ময়দান ও তার আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা জুড়ে পিনপতন নিরবতা নেমে আসে। শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তবে এর আগের দিন বৃহস্পতিবার আসরের পরই শুরু হয়েছিল ইজতেমার কার্যক্রম। সা”দ অনুসারিদের রবিবার আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫৫তম এ আয়োজন। জুমার নামাজে অংশ নিতে সকাল থেকেই ইজতেমা ময়দানমুখী মানুষের ঢল নামে। সময় যত গড়াতে থাকে এ ঢল বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টার মধ্যেই ভরে যায় মাঠ। পরে মাঠে জায়গা না পেয়ে মুসল্লিরা জায়নামাজ, হোগলা-পাটি, পলিথিন, চট ও পলিবস্তা, বাঁশ কাগজ, খবরের কাগজ বিছিয়ে বসে পড়েন মাঠের রাস্তুা, আশপাশের গলি ও ভবনে। ১টার দিকে তাতেও ঠাঁই না হলে মুসল্লিরা ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-আবদুল্লাপুর, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়ক এবং তুরাগ নদে (নৌকাসহ বিভিন্ন বাহন) বসে পড়েন। এ ছাড়া আবহাওয়া ভালো থাকায় মুসল্লিরাও বয়ান-তাশকিলে মনোযোগ দিতে পারছেন। ভিআইপিদের অংশ গ্রহণ: ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া,মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেদ হক, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আনোয়ার হোসেন প্রমুখ ময়দানে জুমার জামাতে অংশ নেন। প্রথম দিনে যারা বয়ান করলেন : বাদ ফজর আম বয়ান করেন। বাদ জুমা বয়ান করেন ভারতের মাওলানা চেরাগ উদ্দিন। বাদ আসর বয়ান করেন মাওলানা খান মোহাম্মদ নাসিম ও বাদ মাগরিব ভারতের মাওলানা আব্দুস সাত্তার । মূল বয়ান আরবি ও উর্দুতে হলেও সঙ্গে সঙ্গেই তা অনুবাদ করা হচ্ছে বাংলা, ইংরেজি, আরবি, উর্দু তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসিসহ ২৪ ভাষায়। এসব বয়ানে ইমান ও আমলের গুরুত্ব, মুসলমান হিসেবে করণীয় ও দ্বীনের পথে চলার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। মুসল্লির মৃত্যু : ইজতেমায় আগত এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তিনি হলেন সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার থানার লক্ষীপুর চাঁনপুর গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে। তিনি বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিজ খিত্তায অসুস্থ হয়ে পড়লে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.মাসুদ রানা তাকে মৃত ঘোষনা করেন।  যৌতুক বিহিন বিয়ে: ইজতেমায় গত পর্বের ন্যায় এ পর্বেও অনুষ্ঠীত হতে পারে যৌতুক বিহীন বিয়ে। তবে যৌতুক বিহীন বিয়ের বিষয়ে কোন সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয় নি বলে জানিয়েছেন ইজতেমা আয়োজক কমিটির আশরাফ আলী। নামাজে নারীর অংশ গ্রহন: ইজতেমায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও জুমার নামাজ আদায় করেন। ময়দানের আশপাশের দালানের ছাদে অসংখ নারীদের নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। হকার ও পকেটমার গ্রেফতার : ময়দানের চারপাশের রাস্তায় ভিক্ষুকের কারণে ময়দানে আসা দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের চলাচলে বিব্রত হতে হচ্ছে। ময়দানের ভেতরে হকারদের উৎপাতও ভালোই ভোগাচ্ছে মুসল্লিদের। এছাড়া পকেটমারের দৌরাত্ব নেহায়েত কম নয়। বিভিন্ন অপরাধে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত  ৫৮জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো.কামাল হোসেন। বিদেশী মেহমান: প্রতিবছরের মতো এবারও ইজতেমা ময়দানে শতাধিক দেশের বিদেশি মুসল্লিরা বিদেশি খিত্তায় অবস্থান করছেন। ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরব্বি মনির হোসেন জানান,  শুক্রবার সন্ধা পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ৭০টি দেশের প্রায় ৩ হাজার বিদেশি মেহমান এসেছেন। তীব্র যানজট: ইজতেমাকে ঘিরে ঢাকা –ময়মনসিংহ,টঙ্গী-সিলেট,আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ময়দানে আগত লাখো মুসল্লি। তবে যানজাট স্বাভাবিক করতে হিমসিম খেতে হয় ট্রাফিক বিভাগকে। গণমাধ্যমের অনুমোতি: ইজতেমায় গণমাধ্যম কর্মীদের সংবাদ সংগ্রহে ময়দানের ভেতরে অনুমোতি দিয়েছে সা”দ পন্থি ইজতেমা আয়োজক কমিটি। এছাড়া ময়দানের ভেতরে ক্যামেরা প্রবেশে কোন বাধা দেওয়া হয় নি। হেলিকপ্টার ও ড্রোন:  পাঁচ স্তরের নিরাপত্তার পাশাপাশি র‌্যাবের দুটি হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে আকাশ পথে টহল অব্যাহত রয়েছে। দ্রব্য মূল্যে বৃদ্ধি: ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের ঘিরে টঙ্গীর ও তার আশপাশের এলাকা গুলোতে বসেছে অস্থায়ী বাজার। এসব বাজারে কাঁচা শাক-সবাজ,মাছ-মাংস,ডিমসহ প্রায় সকল পন্যেই কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা বেশিতে বিক্রয় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিষ্টেট শাহিনুল ইসলাম জানান, বাজার গুলোতে দুটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী কাল রবিবার বেলা ১১টার মধ্যেই  দিল্লীর নিজামুদ্দিনের মাওলানা জামশেদ আখেরী মোনাজাত করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন আয়োজক কমিটির মুরব্বি মাওলানা আশরাফ আলী।