শুক্রবার ৩রা জুলাই, ২০২০ ইং ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

‘’স্যালুট ক্যাপ্টেন আকবর আলী’’ ”চেরি অন দ্য কেক”

আপডেটঃ ২:১৬ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

এস.এম.মনির হোসেন জীবন : যুদ্ধের ময়দানে শত্রুপক্ষের আক্রমণে যখন নিজ শিবির ছিন্নভিন্ন, তখন সবার সামনে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করেন যিনি, প্রকৃত নেতা তো তিনিই। সেই নেতা যখন নিজ শিবিরের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে অটল পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে যান, শতচ্ছিন্ন দলও ঘুরে দাঁড়ায়, ছিনিয়ে আনে বিজয়। ঠিক তেমনেই আরেক নেতার দেখা পেল বিশ্ব। জুনিয়র টাইগারদের ঠিক তেমনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন, বুক চিতিয়ে লড়াই করলেন ভারতীয় বোলার-ফিল্ডারদের পেতে রাখা মাইনফিল্ডের সামনে। সারথীদের সঙ্গী করে ছিনিয়ে আনলেন বিজয়। তিনি আকবর আলী, অনূর্ধ্ব-১৯ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, যার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্ব শিরোপা এখন বাংলাদেশের ঘরে।আকবর আলী যেভাবে নেতৃত্ব দিলেন, তার স্বীকৃতিও পেলেন তাৎক্ষণিকভাবেই। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটিও জিতে নিলেন তিনি। বিশ্বমঞ্চের শিরোপার পর আকবর আলীর ম্যান অব ম্যাচ পুরস্কার জয় যেন ঠিক ‘চেরি অন দ্য কেক’। যুবাদের বিশ্বমঞ্চের শিরোপাটিও যেন তার হাতেই সবচেয়ে বেশি মানানসই।ম্যাচের পঞ্চদশ ওভারে ক্রিজে এসেছিলেন। তখন রবি বিষ্ণয়ের স্পিন ঘূর্ণিতে রীতিমতো ধুঁকছেন টাইগারা। এর মধ্যে  ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ওই যে অধিনায়কের যে গুণ, সঙ্গীদের নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন ক্রিজে। ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেবো সূচাগ্র মেদিনি’ কাকে বলে, সেটাই— যেন দেখালেন আকবর আলী। সব ঝড়-ঝঞ্ঝাকে অতিক্রম করে এনে দিলেন সেই স্বপ্নের মুহূর্ত।এদিন দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে বোলিংয়ের মতো যুবা টাইগারদের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুটাও হয়েছিল দারুণ। স্বল্প রান তাড়া করতে নেমে আস্কিং রান রেট সাড়ে তিনের সামান্য কিছুটা বেশি থাকলেও ৯ ওভারের মধ্যেই অর্ধ শতকের জুটি গড়েন উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যান। এরপর বিষ্ণয় ঝড়ে এলোমেলো বাংলাদেশের ইনিংস। ১৫তম ওভারে তৌহিদ হৃদয় আউট হয়ে গেলে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক আকবর আলী। এরপরই আকবর আলীর নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।অধিনায়ক যখন পথ দেখান, কিন্তু ক্রিজে থাকলেই জয় নিশ্চিত— জুনিয়র টাইগার অধিনায়ক আকবরের সে সূত্রটি প্রমাণ করে দিলেন ভারতীয় বোলাররাই। আকাশ সিং এক ওভারে দিলেন তিন ওয়াইড।নতুন লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ৪৬ ওভারে ১৭০ রান। অর্থাৎ ৫৪ রানে ১৫ রানের লক্ষ্য মাঠে নামার পর হয়ে যায় ৩০ বলে ৭। এভাবেই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে লেখা হলো  সবকিছু ছাপিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটিও জিতে নিলেন অধিনায়ক আকবরই।উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আকবার আলীর ক্রিকেট মস্তিষ্কের প্রশংসা করে থাকেন অনেকেই। একসময়ের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের উত্তরসূরী হিসেবেও তার নাম ঘুরেফিরে আলোচনায় উঠে আসে আকবর আলী। আর টানটান উত্তেজনার ফাইনাল ম্যাচে যখন দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নির্ভরতার, ঠিক সেটিই  দিলেন  আকবর আলী, তাই আজকের দিনে আমরা ক্রিকেটপ্রেমীরা বলতেই পারি, ‘স্যালুট ক্যাপ্টেন।