রবিবার ৩১শে মে, ২০২০ ইং ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

পুলিশের বেতন-রেশনের টাকায় প্রতিদিন ৫শ ছিন্নমূল ও দুস্থ মানুষকে খাবার দিচ্ছে ডিএমপির উত্তরা বিভাগ……….

আপডেটঃ ৬:৪৪ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৪, ২০২০

এস, এম, মনির হোসেন জীবন : রাজধানীতে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রার্দুভাবের কারণে সমাজে অসহায় হয়ে পড়া মানুষের মধ্যে তালিকা করে প্রতিদিন ৫শ ছিন্নমূল ও দুস্থ মানুষকে পুলিশের বেতন ও রেশনের টাকায় খাবার পৌঁছে দিচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপির) উত্তরা বিভাগ।আজ শনিবার পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ- পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, করোনা দুর্যোগের সময় মানুষ হিসেবে আমরা সমাজের অসহায় মানুষের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়াবার চেষ্টা করছি। খাবারে অভাবে অনেকেই ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। ছিন্নমূল মানুষের জন্য একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করছি। যাতে তাদের উপকার হয় এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও এটা কাজ করছে। এতে করে অপরাধ কর্মকান্ড অনেকটা কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, নিজেদের রেশন এবং বেতনের অর্থের মাধ্যমে এই খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুস্থ ও অসহায় মানুষকে নির্বাচিত করে প্রত্যেককে টোকেন দেওয়া হয়েছে। সামাজিক দূরুত্ব নিশ্চিত করতে টোকেনের ঠিকানা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। ডিএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম পিপিএম. বার (স্যারের) পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই ধারা চলমান থাকবে।

উত্তরা বিভাগের পুলিশের ডিসি আরও বলেন, মধ্যবিত্তরা অনেকে ত্রানের জন্য জনসম্মুখে না এসে তারা অনেকে সাহার্য্যের জন্য পুলিশকে ফোন করছেন। পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ৫ কেজি চাউল, ডাল, তেল, চিনি, আলু ও সাবান সামগ্রি বাড়িতে গিয়ে পৌছে দিচেছ পুলিশ।

এছাড়া ডিএমপি পুলিশ কমিশনার স্যারের নির্দেশক্রমে ৫০টি থানায় প্রতিদিন ৫০জন হারে প্রায় আড়াই হাজার দুস্থ, অসহায়, গরিব ও মেহনতি মানুষের মাঝে খাবার পৌছে দেয়া হচেছ বলে জানিয়েছে উত্তরা বিভাগের ডিসি নাবিদ কামাল শৈবাল।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের এয়ারপোর্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) খন্দকার রেজাউল হাসান পিপিএম. বার জানান, উত্তরা বিভাগের ৬টি থানা উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও বিমানবন্দর থানা এলাকায় ১শ ৮০জন প্রকৃত অসহায় মানুষের তালিকা করা হয়েছে। প্রতিদিন রান্না করে ৬টি থানায় একশ জনের খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। থানা থেকে সেই খাবার তালিভুক্তদের কাছে পৌঁছানো হয়। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার জন্য অনুরোধ করছি।

উত্তারা পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি )নুরে আলম সিদ্দিকি পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, নিজেদের রেশন এবং বেতনের অর্থের মাধ্যমে এই খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুস্থ ও অসহায় মানুষকে নির্বাচিত করে প্রত্যেককে টোকেন দেওয়া হয়েছে। সামাজিক দূরুত্ব নিশ্চিত করতে টোকেনের ঠিকানা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হচেছ।

দক্ষিণখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিকদার মোহাম্মদ শামীম আজ বলেন, প্রতিদিন ডিএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম পিপিএম. বার (স্যারের) নির্দেশক্রমে দক্ষিণখানে ডিএমপির পক্ষ থেকে ১০০ জন ও থানার পক্ষ থেকে ৮০জন সহ মোট ১৮০ জন গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হচেছ।

ডিএমপির উত্তরা বিভাগের পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এই দুর্যোগের সময়ে সবারই গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষ হিসেবে আমরা তাদের পাশে থেকে নিজেদের সাধ্য মতে সাহার্য্য ও সহযোগিতা করছি।
তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নুরুল মোত্তকিন আজ বলেন, তুরাগ থানা এলাকায় প্রতিদিন ১৮০জন গরিব, ছিন্নমূল, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার পৌঁছে দিচেছন। ডিএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম পিপিএম বার (স্যারের) পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই ধারা চলমান থাকবে।

এদিকে, উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা জানান, শনিবার সাড়ে ১১টার দিকে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে প্রায় ৭০জন হিজড়ার মধ্যে ত্রান সামগ্রি বিতরণ করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম ও পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআরজি মো: হাবিবুর রহমান, ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ শরীফুর রহমান সহ পুলিশ কর্মকর্তারা সাথে ছিলেন।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা শহরে প্রায় ৫শতাধিক হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে। বাকীদের তালিকা মতে তাদের বাড়ি বাড়ি ত্রান সামগ্রি পৌছে দেয়া হবে।