রবিবার ৩১শে মে, ২০২০ ইং ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

চিলমারীর নৌ বন্দরের কুলি, মাঝি ও শ্রমিকদের কষ্টে কাঁটে দিন !

আপডেটঃ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৬, ২০২০

এম.জি.ছরওয়ার:চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি-:করোনায় আটকে গেছে নৌকা, বন্ধ হয়ে গেছে জেলে, মাঝি ও কুলি-শ্রমিকদের আয়ের উৎস। জনজীবন থামিয়ে দিয়েছে করোনা। করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। থেমে গেছে শ্রমিক, কুলি, মাঝি ও জেলেদের চলার গতি। করোনা থামিয়ে দিয়েছে রোজগারের পথগুলো। ওদের মুখ এখন হয়ে গেছে মলিন, ঝড়ছে ওদের চোখের জল। বাড়ছে পেটের খিদা। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীর  নৌ বন্দরের কুলি, মাঝি সহ শ্রমিকরা। দিনের পর দিন বাড়ছে করোনার আতঙ্ক সেই সাথে কুলি, মাঝিদের কষ্ট বেড়েই চলছে। ত্রাণ বিতরণ শুরু হলেও এখনো তাদের ভাগ্যে জোটেনি এক মুঠো চাল। জানা গেছে, সারাবিশ্ব এখন করোনা ভাইরাসের ভয়ে আতঙ্ক। একের পর এক শহর হচ্ছে লগডাউন। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে শহর গুলো। গ্রামের রাস্তা গুলোও এখন ফাঁকা। সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ভিবিন্ন বাজার গুলোতে নজর রেখেছে প্রশাসন। প্রয়োজনীয় দোকানপাট ছাড়া সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যদিও হাট বাজারে ভিড় বেড়েই চলছে। তবে রাস্তা-ঘাট প্রায় ফাঁকা। খুব প্রয়োজন ছাড়া ছেড়ে যাচ্ছেনা নৌকা। উপজেলার রমনা ঘাট প্রায় মানুষ শুন্য হয়ে পড়েছে। মালামাল উঠানামাও বন্ধ হয়ে গেছে প্রায়। ঘাটের কুলি, মাঝি ও শ্রমিকরা হাত পা গুটিয়ে বসে অলস সময় পাড় করছে। কাজ না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের রোজগারের পথ। দিন খেটে খাওয়া এই মানুষগুলো হয়ে পড়েছে অসহায়। পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়েই পার করছে বিপদের সময় গুলো, করছে মানবেতর জীবন যাপন। কষ্টে থাকা মানুষ গুলো করোনার ভয় উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে ঘাটে আসলেও কাজ না থাকায় বসেই একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করছে দুঃখ কষ্টের কথা গুলো। কথা হয় ঘাটের কুলি মুকুল, শাহজামালের সাথে কথা বলতেই বেড়িয়ে আসে চোখের পানি। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন বাবারে কি কইম ভাইরাসের ভয়ে সব বন্ধ হয়ে গেছে বন্ধ হয়ে গেছে হামার কামাই। হামরা দিন আনি দিন খাই এহন কাজ বন্ধ কি যে কষ্টে আছি। নৌকার মাঝি ওবাইদুল বলেন, নৌকা চলে না সাথে হামারও জীবন চলছে না বড় কষ্টে আছি ভাই। কুলি, মাঝি ও ঘাটের শ্রমিকরা কষ্টে দিন পার করছেন তা স্বীকার করে চিলমারী নদী বন্দর নৌকা শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম লিপু বলেন এখানে প্রায় শতাধিক কুলি, মাঝি সহ শ্রমিকরা কাজ করেন তারা দিনে যা রোজগার করে তা দিয়েই সংসার চলে না এখন তো কাজ বন্ধ তাহলে বুঝে নেন কি কষ্টে আছে তারা। তিনি আরো জানান এই শ্রমিকরা প্রায় ২ সপ্তাহ থেকে কষ্টে দিনাতিপাত করলেও এখন পর্যন্ত সরকার কিংবা বে-সরকারীভাবে কোন সাহায্য তাদের দেয়া হয়নি। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ, ডব্লিউ, এম রায়হান শাহ্ বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানগণ তালিকা করছে তালিকা অনুযায়ী সকলকে ত্রাণ দেয়া হবে।