রবিবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

উত্তরখানে জমি দখলের চেষ্টা-ঘরবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট….

আপডেটঃ ৭:৪২ অপরাহ্ণ | জুন ০৮, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক -: বিশ্বব্যাপী মরণঘাতী দেশে চলমান করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর মধ্যে রাজধানীর উত্তরখানে ডিএনসিসি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এর নির্দেশে ও তার মদদে একদল স্থানীয় ও বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে জোরপূবর্ক ভাবে নুরুল ইসলামের বসতবাড়ি ও জমি জবর দখলের চেষ্টাসহ বেআইনি ভাবে বাড়ি ঘর বাউন্ডারী দেয়াল ভাংচুর, তছনছ, লুটপাট সহ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এঘটনায় সন্ত্রাসীদের হামলায় বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও তার ছেলে আল আমিনকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্বার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা করা হয়েছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার উক্ত সন্ত্রাসীদের নামে উত্তরখান থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ রহস্যজনক কারণে মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে নুরুল ইসলাম। উক্ত ঘটনার পর থেকে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীরা নুরুল ইসলাম সহ তার পরিবারের সদস্যদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে।গত শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

জমির মালিক নুরুল ইসলাম ও তার পরিবার অভিযোগ করে জানান, উত্তরখান থানার রাজাবাড়ি রহমতে আলম ইসলাম মিশন এতিমখানা সংলগ্ন পূর্ব পাশে বিগত ১০ বছর আগে দুই কাঠা জমি ক্রয় করে ঘরবাড়ি তৈরী করে বসবাস করে আসছিল। তার পিতার নাম মৃত ফজর আলী প্রধান ও মাতা হাছানবানু। ৪ ভাই ৪ বোনের মধ্যে নুরুল ইসলাম পরিবারের সবার বড়। পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে গত শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দিনের ছেলে চপল তার জেঠাতো ভাই শাকিল বায়রা মেজবা উদ্দিনের নেতৃত্বে স্থানীয় ও বহিরাগত সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে আমার বাড়িতে অনাধিকারে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাংচুর,তছনছ সহ তান্ডবলীলা চালায়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ির বাউন্ডারী দেয়াল, রান্নাঘর ও আসবারপত্র ভেঙ্গে মাটিতে ফেলে দেয় এবং লুটপাট করে নিয়ে যায়। প্রায় এক ঘন্টা ব্যাপী উক্ত সন্ত্রাসীরা তান্ডবলীলা চালায়। এ হামলার ঘটনার সময় সন্ত্রাসী ও হামলাকারীদের প্রত্যেকের হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দ্য, চাপাতি,ছোরা, রামদা,বটি ও লাঠিসোটা ছিল। এসময় সন্ত্রাসীরা ওই বাড়ির মালিক নুরুল ইসলামকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে বাহির থেকে দরজায় ছিটকানী মেরে দেয়। তখন নুরুল ইসলামের স্ত্রী হারেজা বেগম (৪৫) ও তার ছেলে আল আমিন (৩০) ঘটনার প্রতিবাদ করলে এগিয়ে গেলে তাদেরকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। যাবার বেলায় উক্ত সন্ত্রাসীরা নুরুল ইসলাম ও পরিবারের সদস্যদেরকে প্রাণনাশের হুমকী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরবর্তীরা স্থানীয় লোকজন হামলার ও ভাংচুরের ঘটনাটি দেখে উত্তরখান থানা পুলিশকে খবর দিয়ে থানার এসআই সামিউল এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতে দেখে অস্দ্রধারী বহিরাগত সন্ত্রাসীরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় মা ও ছেলেকে উদ্বার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এঘটনার পর একই দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী জমির মালিক নুরুল ইসলাম উক্ত সন্ত্রাসীদের নামে উত্তরখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (মামলা) করতে গেলে পুলিশ রহস্যজনক কারণে মামলা নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেছে।

নুরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়টি নিয়ে আমি পরবর্তীতে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হেলাল উদ্দিনের কাছে গেলে তিনি আমাকে আশ্বস্থ করে বলেন, করোনা পরিস্থিতি ভাল হলে বিষয়টি নিয়ে বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করা হবে।
ওসি আরও বলেন, স্থানীয় এমপি’র ব্যক্তিগত (পিএস) মুজিবুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগী নুরুল ইসলামের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দা সহ একাধিক এলাকাবাসির জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: জাহিদুল ইসলাম মোল্লা নির্দেশ ক্রমে ও তার মদদে এই হামলা ও ভাংচুর করেছে স্থানীয় ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা।

এবিষয়ে জানতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: জাহিদুল ইসলাম মোল্লার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। সে কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে উত্তরখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হেলাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এব্যাপারে প্রতিকার ও ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, ডিএমপি পুলিশ কমিশনার, এলিট ফোর্স র‌্যাব ডিজি সহ সরকারের সংশ্লিস্ট অন্যান্য বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।