বুধবার ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

ট্যুরিস্ট ভিসায় দেশ থেকে লিবিয়ায় মানবপাচার করতো দালাল চক্র—-ডিবি

আপডেটঃ ৮:৩০ অপরাহ্ণ | জুন ০৮, ২০২০

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : স্থানীয় পর্যায় থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা স্ক্যান করে বাংলাদেশ থেকে দুবাই ও লিবিয়ায় পাঠায় স্থানীয় দালাল চক্র। সেখান থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা এবং অন-অ্যারাইভাল মোয়াফাকা সংগ্রহ করে ভিকটিমদের লিবিয়া পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে সংঘবদ্ধ একটি মানবপাচারকারী চক্র।
আজ সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আবদুল বাতেন এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরের ডিসি মো: মশিউর রহমান সহ অন্যান্য নিসিয়র অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, লিবিয়া এবং ইতালিতে অভিবাসী হতে ইচ্ছুক শত শত বাংলাদেশি বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনে আহত, নিহত ও চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন। এসব ঘটনায় ভিকটিমদের আত্মীয়-স্বজনদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ এবং ডিএমপির পল্টন ও তেজগাঁও পৃথক থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়।
ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা প্রেসব্রিফিংয়ে জানান, মানবপাচারের ঘটনায় ভিকটিমদের ভারত, দুবাই, মিশর হয়ে লিবিয়াতে পাচার করার পরিকল্পনা, প্রক্রিয়া করা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ঢাকা বিমানবন্দর ব্যবহার করার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো ছায়া তদন্ত শুরু করে ডিবি।
মানবপাচারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মো. আবদুল বাতেন সাংবাদিকদেরকে বলেন, লিবিয়ার বিভিন্ন এস্টেটে কাজ ও লিবিয়া থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি দালালরা অন-অ্যারাইভাল ও ট্যুরিস্ট ভিসার মাধ্যমে লোকজনকে লিবিয়ায় পাচার করে।
তিনি আরও বলেন, পাচারের পর ভিকটিমদের লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আটক রেখে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করে। ভিকটিমদের কান্নাকাটি, আকুতি-মিনতি করা অডিও অথবা সরাসরি মোবাইলে কথাবর্তা বাংলাদেশে অবস্থানরত ভিকটিমদের স্বজনদের পাঠিয়ে অর্থ আদায় করে।
ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিহত মাদারীপুরের সাতজনকে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়াতে আমির হোসেনের কাছে পাচার করেছিল তার ভাই গ্রেফতার আকবর হোসেন।গ্রেফতার বাদশা মিয়া ১৩ বছর ধরে লিবিয়াতে অবস্থান করছেন। লিবিয়ার বেনগাজী জোয়ারা শহরে তার নিজস্ব ক্যাম্প আছে।
ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ থেকে সে নিয়মিত লিবিয়াতে মানবপাচার করে, এবং পাচার করা বাংলাদেশিদের ক্যাম্পে আটক রেখে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর পরিকল্পনা করে। মাদারীপুরের নিহতদের মধ্যে চারজনকে তার ক্যাম্পে আটক রাখার এক পর্যায়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল বাতেন বলেন, গ্রেফতার জাহাঙ্গীর আলম ঢাকাতে অবস্থান করে স্থানীয় অন্যান্য দালালদের কাছ থেকে প্রাপ্ত পাসপোর্টগুলো স্ক্যান করে দুবাই এবং লিবিয়াতে প্রেরণ করে টুরিস্ট ভিসা, অন-অ্যারাইভাল মোয়াফাকা সংগ্রহ করে।
তিনি জানান, বেনগাজিতে ক্যাম্প নির্ধারণ করে ভিকটিমদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। গ্রেফতার সুজন ভিকটিম ইছার উদ্দিন, বিজয় ও সজলদের লিবিয়ায় পাঠায়।গত ২৮ মে লিবিয়ায় ট্র্যাজেডিতে ভিকটিম মো. সজল আহত হয়ে লিবিয়ায় এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। নিখোঁজ মো. বিজয় ও ইছার উদ্দিনের কোনো সন্ধান এখনও মেলেনি।
ইতোমধ্যে গ্রেফতারদের পল্টন ও তেজগাঁও থানায় মানবপাচার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান আব্দুল বাতেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল বাতেন বলেন, সম্প্রতি লিবিয়ায় মানবপাচারের শিকার ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতাররা হলেন- বাদশা মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, আকবর আলী, সুজন, নাজমুল হাসান ও লিয়াকত শেখ ওরফে লিপু।এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি পাসপোর্ট, দুইটি মোবাইলে ও টাকার হিসাব সংরক্ষিত দু’টি নোট বুক উদ্ধার করা হয়।