শুক্রবার ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

তুরাগে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায়… !

আপডেটঃ ৭:১১ অপরাহ্ণ | জুন ০৯, ২০২০

মোঃ ইলিয়াছ মোল্লাঃ করোনা সংকটে সরকারের নির্দেশে বন্ধ থাকা ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর তুরাগের বিভিন্ন এনজিওর বিরুদ্ধে । কর্মী পাঠিয়ে ও ফোনের মাধ্যমে কিস্তি দেওয়ার জন্য ঋণগ্রহীতাদের তাগাদা দেওয়া হচ্ছে । কোনো কোনো এনজিও ঋণ আদায়ও করছে । কিন্তু পরিস্থিতি এখনো স্বভাবিক না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ঋণগ্রহীতারা । জানা যায়, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং সমবায় সমিতির অনুমোদনে এলাকায় প্রায় অর্ধশত বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে । এদের ঋণগ্রহীতাও অনেক । এরা মূলত রিকশা-ভ্যানচালক, চায়ের দোকানদার, সবজি বিক্রেতা, ফেরিওয়ালা, দিনমজুরের মতো নিম্ন আয়ের লোকজন । প্রতিদিনের আয় থেকে কিছুটা বাঁচিয়ে সপ্তাহের কিস্তি পরিশোধ করেন । করোনা সংকট শুরু হলে অঘোষিত লকডাউনে বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক জীবন ও জীবিকা । এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চ মাসের শেষের দিকে মাইক্রোক্রেডিট অথরিটি ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধের নির্দেশ দেয়। নির্দেশে বলা হয়, কেউ নিজ ইচ্ছায় কিস্তি দিলে আদায় করা হবে । চাপ দেওয়া যাবে না । কিস্তি না দিলে কেউ খেলাপি হবে না । পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঋণ সমন্বয় করা হবে । বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা অভিযোগ করেন, এনজিওর মাঠ কর্মীরা বাড়িতে এসে তাদের কিস্তি দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে । অফিস থেকেও বড় বড় কর্মকর্তা ফোন করছেন । তাঁরা জানান, গত প্রায় ৩ মাস আয়-রোজগারের কোনো পথ ছিল না । সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের ওপর বেঁচে আছেন । এ অবস্থায় তাঁদের কোনোভাবেই কিস্তি দেওয়া সম্ভব নয় । তাঁরা উল্টো প্রশ্ন করেন, পরিস্থিতি কি স্বাভাবিক হয়েছে যে কিস্তির জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে? কিস্তির তাগাদার ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হবে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা । বেশ কয়েকটি এনজিওর মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মীরা বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি কিস্তি পরিশোধ করার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি । কিন্তু কিস্তি আদায় করতে না পারলে আমাদের বেতন আটকে থাকে । এমনকি চাকরিও চলে যায়। তাই কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হই।’ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘কিস্তি আদায়ে কোনো চাপ দেওয়া যাবে না । কেউ ইচ্ছা করে দিলে নেওয়া যাবে । পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী জুলাই থেকে কিস্তি আদায় শুরু হবে । কেউ যদি ঋণ গ্রহীতাদের কিস্তি পরিশোধে কোন রকম চাপ প্রয়োগ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।