রবিবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

সেনবাগের মাহাতাবপুরে ভূয়া ভন্ড কবিরাজ বাবলুর প্রতারণায় নিঃশ্ব হচ্ছে এলাকাবাসী !

আপডেটঃ ৪:৪৮ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৩, ২০২০

এম.জি.ছরওয়ারঃচিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ  -নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের মাহাতাবপুর গ্রামের পূূর্ব পাড়ার দীঘির পাড়ের ভুট্রু মিয়ার ছেলে হাফেজ মোঃ বাবুল (বাবলু) মিয়া নামে কবিরাজী ব্যবসার নামে দীর্ঘ দিন ধরে মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে। বেশ কয়েক বছর যাবত ধরে অত্র এলাকা সহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকাতে বাবলু মিয়া তার প্রতারনার কার্যকলাপ চালাচ্ছে বলে এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাহাতাবপুর এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে ভুয়া কবিরাজ বাবলু মিয়া চিকিৎসার নামে সাধারণ ভূক্তভূগিদের সাথে প্রতারনা করে আসছে। গ্যারান্টি সহকারে স্বামী-স্ত্রী অমিল প্রেমে ব্যার্থতা, ভালবাসার মানুষকে কাছে পাওয়া, জ্বীনের আছর, যে, কোন লোককে বশ করা, জন্ডিস, যৌনরোগ ও ক্যান্সারসহ নানান জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা করে আসছে এই ভুয়া কবিরাজ বাবলু। ওপেন চ্যালেঞ্জ, গ্যারান্টির আশ্বাস প্রদান করে চিকিৎসার মায়াজালে মানুষকে আটকিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই প্রতারক বাবলু কবিরাজ। যদিও তার এসব কবিরাজি চিকিৎসার  প্রতিষ্ঠানিক সরকার অনুমোদিত কোন স্বীকৃতি পত্র তার নেই। এছাড়াও পানিপড়া, তেল পড়া ও তাবিজ-কবজ দিয়ে পরীক্ষায় রেজাল্ট ভাল করারও ব্যবস্থা করে দেন এই ভন্ড কবিরাজ! এলাকাবাসী আরো জানায়, সে মাহাতাবপুর গ্রামের দীঘির পাড় এলাকায় তার বাড়ীতে জ্বীন হাজির করার নামে মানুষের অন্ধবিশ্বাস কে পুঁজি করে কবিরাজি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জ্বীনের এবং তাবিজ-কবজের হাদিয়া বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বেশ কয়েক বছর যাবত ধরে। প্রতারক বাবলু নিজেকে কুরআনে হাফেজ বলে প্রচার করে। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবী প্রতারক বাবলুর হাফেজ হওয়ার বিষয়ে কারো জানা নেই। সে মূলত কুরআনে হাফেজ নয়। এটি নিচক বাটপারি ও প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে মিথ্যা প্রচারনা করে আসছে সে। তার এমন ভন্ডামীর কার্যক্রলাপের মদতদাতা হিসেবে তার পিতা ভুট্রুো মিয়াও জড়িত আছেন বলে এলাকাবাসীর দাবী। তার পিতা ভুট্রো মিয়া এইসব অপকর্মের কোন বাঁধা দেন না। বাবলু’র এই অবৈধ ব্যবসার সাথে স্থানীয় আরো অনেকেই জড়িত আছেন বলে এলাকাবাসীর ধারনা। যাদেরকে বাবলু মিয়া কমিশন দিয়ে থাকে কাষ্টমার সংগ্রহ করে দেওয়ার জন্য। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার এলাকার এক অসুস্থ ব্যক্তির স্ত্রীর কাছ থেকে প্রতারনা করে হাতিয়ে নিয়েছেন ১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা। বিস্তারিত ঘটনা ঐ এলাকাতে (মাহাতাবপুর) গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর নিকট অভিযোগ করেন। তার কাছ থেকে সেবা নিয়ে মূলত কেউ সুস্থ্য হয় নাই এমনটা জানা যায়।এলাকার প্রতারিত জনসাধারনের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, ওই ভুয়া ভন্ড বাবলু কবিরাজ যে সমস্ত রোগের কবিরাজি ও আধ্যাতিকরা জটিল ও কঠির রোগের চিকিৎসা করছে তার কাছে সরকারি কোন স্বীকৃতি পত্র নেই। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন এর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভূয়া ও ভন্ড কবিরাজ বাবলুর  ব্যাপারে আমিও শুনেছি যে, সে নাকি তাবিজ কবজ দিয়ে এবং জ্বীন হাজিরার মাধ্যমে আমাদের গ্রামের ও পাশ্ববর্তী এলাকার সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে প্রতারনা করে আসছে। অসহায় জনগনকে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তবে আমি অচিরেই আমাদের চেয়ারম্যান রহমান সাহের এর সাথে আলাপ আলোচনা করে আইনের সহযোগীতা নিয়ে ব্যবস্থা নিবো। এলাকাবাসীর প্রাণের দাবী সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যেন বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়ে আইনের মাধ্যমে প্রতারক ভূয়া ভন্ড কবিরাজ বাবলু মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়। সবাইকে এইসব প্রতারক থেকে সচেতন থাকার অনুরোধ করেন এলাকাবাসী।