শুক্রবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

রুপালী ইলিশের সয়লাবে কেনাবেচায় মূখরিত বাগেরহাট কেবি মৎস্য আড়ৎ…

আপডেটঃ ১০:৩১ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

সোহেল রানা বাবু, বাগেরহাট থেকেঃ রুপালি ইলিশ সহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের ক্রেতা বিক্রেতার কেনাবেচায় উৎসবমূখর পরিবেশ বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী কেবি মৎস্য আড়ৎ।সকাল ৬ টা ৩০ মিনিটের দিকে গিয়ে দেখা যায় নদীর পাড়ের শহর রক্ষা বাঁধের প্রায় অর্ধ কিলোমিটারেরও বেশী যায়গা জুড়ে সাজানো রয়েছে মাছ পরিবহনের জন্য কয়েক শতাধিক অটো ভ্যান,নসিমন,করিমন,ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল এবং দুরদুরান্তে নেওয়ার জন্য ফ্রিজিং ভ্যান।নদীর ঘাটের দিকে তাকিয়ে দেখা যায় প্রায় অর্ধ শতাধিক ট্রলার থেকে জেলেরা মাছ ঝাঁকায় করে এনে মৎস্য আড়তের নির্ধারিত আড়ৎদারের ঘরের সামনে রাখছে।এখানে মাছ বেশীরভাগ পণ হিসেবে (৮০ পিসে এক পণ) বিক্রি হয়। কেজি ওজনের মাছের পণ ৫০ হাজার, ৬শ’-৭শ’ গ্রাম ওজনের মাছের পণ মাত্র ৩৫ হাজার টাকা।দূরদুরান্ত থেকে আসা পাইকার ও খুচরা ব্যাবসায়ী সহ স্হানীয় ক্রেতারা ডাকের মাধ্যমে এই মাছ কিনে থাকে।অনেক ক্ষেত্রে স্হানীয় কিছু ক্রেতারা খাওয়ার জন্য কম দামে মাছ কেনার উদ্যেশ্যে একসাথে মিলে ডাকে অংশগ্রহন করে মাছ কিনে থাকে। তবে জেলার অন্যতম এ ইলিশের পাইকারি বাজারে করোনা ঝুুঁকির মধ্যে ও স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। বেশির ভাগ মানুষই মাস্ক ছাড়া। সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি যেন কেউ জানেনই না। সরেজমিন বাগেরহাট শহরের দড়াটানা নদীর পাশে অবস্থিত ইলিশ ও সাগরের বিভিন্ন মাছের পাইকারি আড়ত কেবি বাজারে গিয়ে দেখা যায় সহস্রাধিক মানুষের ভিড়। কেউ মাছ দেখছেন, কেউ কিনছেন, কেউ আবার দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন, কেউ বিভিন্ন পরিবহনে মাছ ওঠাচ্ছেন, কেউ আবার ঝুড়িতে বরফ দিয়ে মাছ সাজাচ্ছেন।সবাই মহাব্যস্ত। তবে কারও মুখেই মাস্ক নেই। গেল তিন-চারদিন ধরে কেবি বাজারে ইলিশের আমদানি অনেক বেশি। দাম ও বিক্রি দুই-ই ভালো। ফলে খুশি ক্রেতা, বিক্রেতা, ব্যবসায়ী ও জেলেরা। কেবি বাজারে মাছ বিক্রি করতে আসা জেলে শরণখোলার মনির আকন বলেন “এবার সাগরে ভালো মাছ পেয়েছি। মাছের আকারও বড়। তাই দামও মোটামুটি ভালো পেয়েছি।সব মিলিয়ে চার লক্ষাধিক টাকার মাছ বিক্রি করেছি। তবে আধা কেজি ওজনের ওপরের বেশির ভাগ মাছের পেটে ডিম রয়েছে। ” মাছ ব্যবসায়ী লতিফ খান বলেন, “এবার মাছের চেহারা ও ওজন দু’টোই আগের তুলনায় অনেক ভালো। দুই-তিনদিন ধরে এক কেজি ওজনের একেকটি মাছ ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের মাছ ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মাঝামাঝি গুলো সাড়ে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ” বাগেরহাটের দেপাড়া থেকে আসা মাছ ব্যাবসায়ী নিতাই পাত্র,সুশান্ত মালো সহ কয়েকজন মাছ ক্রেতা বলেন বাজারে এসেছি, মাছ দেখে পছন্দ হয়েছে, কিনেছি। কিন্তু অনেক ভোরে বাজার শুরু হওয়ায় আসতে একটু কষ্ট হয়। কারও মুখে মাস্ক নেই ও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে দুই-একজন ব্যবসায়ী বলেন,বাজারে অনেক ভিড়। দাঁড়িয়ে থাকাই দায়। এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি আর মাস্ক এসব মেনে চলাই দুষ্কর!! বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. মো. খালেদ কনক বলেন, “ইলিশ রক্ষার জন্য সরকার নানামূখী পদক্ষেপ নিয়েছে, এর অংশ হিসেবে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ রাখা হয়। জাটকা নিধন রোধেও সরকারী নির্দেশনায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছি আমরা। মাছ আহরণের নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের সহায়তা ও করা হয়েছে। যার ফলে সাগর ও নদীতে ইলিশের আকার ও আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে ড. মো. খালেদ কনক বলেন, করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আমরা মাইকিং করেছি। বাজার কমিটির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সভা করেছি। জেলেদের স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব বুঝিয়েছি তারপরও অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এ বিষয়ে আমরা আরও কঠোর হওয়ার চেষ্টা করছি এবং জেলে ও ব্যাবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যেনো জেলে বা ব্যাবসায়ীরা সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়েও সঠিক নজরদারী রাখা হচ্ছে।