বৃহস্পতিবার ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

মিঠাপুকুরে বালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় হয়রানী ও সভাপতির নিয়োগ বানিজ্যের অফিযোগ

আপডেটঃ ৫:৫১ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি : মিঠাপুকুরে বালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী ও সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বানীজ্যের অফিযোগ উঠেছে। গত ১৯/০৮/২০২০ইং তারিখে বালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি সেলিম সরকার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।মামলার উল্লেখিত বিষয় সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে বেতন ও ঈদ বোনাস উতলোন করা প্রসঙ্গে। বালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সরত্তয়ার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি সেলিম সরকার মধ্যে নিয়োগ বানীজ‍্যে নিয়ে মন মালিন‍্যে হয়। এর সূত্র ধরে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিদ‍্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সরত্তয়ারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ আনেন সভাপতি। কিন্তু মূল বিষয় হলো নিয়োগ বানীজ‍্যে। ২০২০ইং জুন মাসে করোনা ভাইরাসের সময়ে বেতন ও ঈদ বোনাস তোলার জন‍্য সভাপতি নিজেই রেজুলেশন বিলে স্বাক্ষর দেন এবং বেতন উতলোন করার জন‍্য বলেন।প্রশ্ন হলো কিভাবে তার স্বাক্ষর জাল হয়। উপজেলার সোনালী ব‍্যাংক থেকে বেতন ও ঈদ বোনাস উতলোন করা হয়। শিক্ষকরা জানান যে, প্রধান শিক্ষক বেতন ও ঈদ বোনাসের টাকা জাল স্বাক্ষরের বিনিময়ে উতলোন করেননি। তিনি যেটা করেছে সেটা শিক্ষক ও কর্মচারীর জন‍্য করেছেন। তবে সভাপতি স্বাক্ষর জালিয়াতির যে মামলা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে করেছে তা মিথ্যা ও বনোয়াট এর কোন ভিত্তি নেই। সহকারী শিক্ষক শাহনুর আলম জানান যে, মামলার সাক্ষীর বিষয় আমি কিছুই জানিনা। মেহেদি হাসান পিয়ন পদে নিয়োগের জন‍্য তার কাছ থেকে ৮লক্ষ‍্য টাকা নেয় সভাপতি। লাইব্লেরিয়ান পদে মোত্তালেব আলীর কাছ থেকে ১৬লক্ষ‍্য টাকা নেয় সভাপতি। পরিশেষে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন‍্য ১০লক্ষ‍্য টাকা  হাতিয়ে নেয় সভাপতি সেলিম সরকার। সেলিম সরকার পিতা মৃত‍ আব্দুল হালিম সরকার গ্রাম: পলিপাড়া মাসিমপুর। কিন্ত এই নিয়োগ বানীজ‍্যে করে বিদ‍্যালয়ের কোন প্রকার উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। সব টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিদ‍্যালয়ের সভাপতি সেলিম সরকার। অথচ সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদায়নের জন‍্য যে জমিটুকু ছিল তা বিক্রি করে নিয়োগের জন‍্য সভাপতিকে ১০ লক্ষ‍্য টাকা দেন গোলাম সরত্তয়ার। সেলিম সরকার নিয়োগ বানীজ‍্যের অর্থ দিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল শোরুমের ব‍্যবসা ও এনজিও যার নাম সাফল্য সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতি (সাফল‍্য এন্টারপ্রাইজ) বালুয়া বাজারে প্রধান কার্যালয়। এই এনজিওর পরিচালক সেলিম সরকার। সাফল‍্য এন্টারপ্রাইজ এর তিনটি শাখা আছে তাহলো বালুয় বাজার, পাগলার হাট, রাণীপুকুর এ শাখা গুলো থেকে টাকা আদান প্রদান হয়। উপজেলা সমবায় অফিস সূত্রে জানা যায় যে, সমিতির নিবন্ধন বাতিলের জন‍্য রংপুর অফিসে চিঠি দিয়েছি। সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি নদী থেকে বালু বিক্রির অপরাধে একটি মামলা হয়েছে। বিভিন্ন বালু পয়েন্টে থেকে টাকা পান তিনি। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অন‍্যায়ভাবে দুর্নীতি ও নিয়োগ বানীজ‍্যের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতেন। একান্ত কমিটির নামে জামাত-বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির লোকজনদের অনুপ্রবেশ। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ কৃত মাথা প্রতি ১০টাকা কেজি চাল নামে-বেনামে উত্তোলন এবং তা বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়।এলাকায় দাদন ব‍্যবসায়ী হিসেবে সুপরিচিত। সে ইতিপূর্বে জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিল। এখন আওয়ামিলীগ ১০নং বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরকার। এ বিষয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল ইসলাম জানান যে, একটি অভিযোগ পেয়েছি কিন্তু উর্ধ্বতন কৃতৃপক্ষের আদেশ ছাড়া যাচাই বাছাই সম্ভব না।