বুধবার ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

শিল্পকারখানা কৃষি জমি নষ্ট করে নয় -প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

শিল্প এলাকায় শিল্পকারখানা স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষি জমি ও বসতবাড়িতে নয়, শিল্প এলাকায় শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে। আমাদের কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। আমরা ইকোনোমিক জোন করে দিচ্ছি। এসব স্থানে শিল্পকারখানা নির্মাণের ক্ষেত্রে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। আপনারা ব্যবসা করতে চান বা শিল্প করতে চান, তাহলে শিল্প এলাকায় যান। বাড়ির পাশের ধানের জমি নষ্ট করে শিল্প স্থাপন করবেন কেন?

গতকাল জাতীয় অর্থনেতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমরা উৎসাহ দেব, আপনারা শিল্প এলাকায় এসে শিল্পকারখানা স্থাপন করেন। সেখানে আপনারা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাবেন। গ্যাস, রাস্তা, ব্যাংক সব পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য নির্দেশনা তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, শুধু মেডিক্যাল বর্জ্যই নয়, সব ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বাস, নৌ, বিমানসহ যেকোনো স্টেশনের বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। এ কাজে যেসব সংস্থা দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদেরও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নদীর পাড় দখলমুক্ত করতে হবে। কচুরিপানামুক্ত করে ড্রেজিং করতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, এ প্রকল্পের সব ডকুমেন্ট বাংলায় তৈরি করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারে। ডিজিটাল ভূমি জোনিংয়ের সময় বাংলায় সব তথ্য নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এদিকে একনেক সভায় ৭৯৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত চারটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন প্রায় ৬২৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস্য থেকে প্রাপ্ত ঋণ ১৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো- নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন প্রকল্প-১ (চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌ-পথ খনন এবং টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং’ প্রকল্প এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দু’টি প্রকল্প যথাক্রমে ‘ভৈরব নদ পুনঃখনন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প ও ‘নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, চাটখিল, সেনবাগ ও সোনাইমুড়ি উপজেলার জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে খাল পুনঃখনন শীর্ষক’ প্রকল্প।

সভার কার্যক্রমে অংশ নেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, ভ‚মিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সূত্র: ইনকিলাব