শনিবার ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

ভেজাল মেহেদি থেকে সতর্ক থাকুন

আপডেটঃ ৬:২২ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৭, ২০১৪

প্রথা অনুযায়ী ঈদের দুই একদিন আগে বাড়িতে বাড়িতে শিশু-কিশোরী, তরুণী ও নারীদের মেহেদি লাগানোর উৎসব শুরু হয়। এ উপলক্ষে নগরীতেও আয়োজন করা হয় জমজমাট মেহেদি উৎসবের।

এই তো কিছুদিন আগেও কিশোর-কিশোরীরা গাছ থেকে সরাসরি মেহেদি পাতা তুলে বাড়িতে নিয়ে যেত। মা-খালারা তা মিহি করে বেটে সুন্দর নকশা করে হাতে পরিয়ে দিতেন। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন মানুষ সময় বাঁচাতে বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন কোম্পানির মেহেদির টিউব কিনে হাতে নকশা অাঁকেন।

বিয়ে কিংবা অনুষ্ঠান ছাড়া ঈদের সময়ই বছরে সবচেয়ে বেশি মেহেদির চাহিদা থাকে বলে দোকানিরা জানান। আর এ সুযোগে একশ্রেণির সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী লাভের আশায় নিম্নমানের কেমিক্যাল ও রঙ ব্যবহার করে পরিচিত ব্র্যান্ডের মেহেদি টিউব বলে তা বাজারজাত করেন। এ জন্য ব্যবহারকারীদের যথেষ্ট দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ঈদ উপলক্ষে বাজারে এখন নানা নামের মেহেদি টিউব পাওয়া যাচ্ছে। টিভি খুললেই বাহারি নামে মেহেদির বিজ্ঞাপন দেখা যায়। অবস্থা এমনই যে ক্রেতা কোনটা রেখে কোনটা কিনবেন। কিন্তু বাজারে বিক্রি হওয়া এ মেহেদি টিউবগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জানা যায়, কড়ই পাতার গুঁড়ায় রং ও এসিড মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত নকল মেহেদি। সম্প্রতি র‌্যাবের অভিযানে ঢাকার অদূরেই কেরানীগঞ্জের ব্রাহ্মণকিত্তার নতুন বাজার এলাকায় গড়ে ওঠা একটি প্রসাধন কারখানায় গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

এদিকে বাজারে বিক্রি হওয়া ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো মেহেদির টিউব দিয়ে হাত রাঙিয়ে অনেকেই এখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

জানা যায়, মেহেদি ব্যবহারকারীদের কারও হাতের চামড়ায় ফোসকা, কারও জ্বালাপোড়া, আবার কারও এলার্জি হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ জানান, সম্প্রতি তার কাছে এক তরুণী এসেছিলেন হাতে বড় বড় ফোসকা নিয়ে। ওই তরুণী তাকে জানান, টিভিতে প্রচারিত এক পরিচিত কোম্পানির মেহেদি টিউবের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি মেহেদি কেনেন। এটি লাগানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার হাত জ্বলতে শুরু করলে তিনি মেহেদি তুলে পানি ও সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলেন। কিন্তু এর পরও রক্ষা মেলেনি। তার হাতে চুলকানি শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতে ফোসকা পড়ে এবং এক দিন বাদে সেই ফোসকায় পানি চলে এসে তা বড় হয়ে ওঠে।

বাজারে বিক্রি হওয়া মেহেদির টিউব থেকে হাতে আলপনা এঁকে এ তরুণীর মতো আরও অনেক তরুণী ও কিশোরীকে ভুগতে হচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা ত্বকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে মেহেদির পাতা ও পরীক্ষিত মেহেদির টিউব ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

তাদের মতে, বাজারে বিক্রি হওয়া মেহেদিতে প্রাকৃতিক মেহেদির লেশমাত্র থাকে না। যে উপাদান থাকে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এ জন্য তারা মেহেদি টিউব ক্রয়ের আগে সম্ভব হলে তা হাতের কোথাও সামান্য লাগিয়ে ভালো আছে কি না তা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।