বৃহস্পতিবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

আশুলিয়ায় মিনি ক্যাসিনো থেকে ২১ জুয়াড়ী গ্রেফতার, জুয়ার সরঞ্জামাদি,সদ, বিয়ার ও টাকা জব্দ

আপডেটঃ ৩:৩৫ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৫, ২০২০

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : দেশে চলমান ক্যাসিনোবিরোধী (অনলাইনে জুয়া খেলা) অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকা জেলার আশুলিয়ায থানার কাইচাবাড়ি এলাকায় একটি মিনি ক্যাসিনোর সন্ধান পেয়েছে  (র‍্যাব)। সেখান জুয়ার আসরে গোপনে অভিযান চালিয়ে ২১জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৪)।আজ রোববার দুপুরে র‌্যাব-৪ এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোঃ জিয়াউর রহমান চৌধুরী  ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। র‌্যাব জানিয়েছে, এই ক্যাসিনোতে প্রতিরাতে ১০-১৫ লাখ টাকার জুয়া খেলা হতো। আর এই জুয়ার আসরে খেলতেন অধিকাংশ নিম্নআয়ের মানুষ। যাদের অনেকেই জুয়ায় আসক্ত হয়ে হারিয়েছেন তাদের নিত্যদিনের আয়।অবৈধভাবে আশুলিয়া থানার বাইপাইল এলাকায় কিছু অসাধু লোকজন ক্যারাম খেলার আড়ালে ক্যাসিনোসহ মাদক দ্রব্য সেবন করে এলাকার যুব সমাজকে নষ্ট করছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার  সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর অদূরে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার কাইচাবাড়ি এলাকায় জুয়ার আসর থেকে মাদকসহ তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। আর এ চলমান ক্যাসিনোবিরোধী  অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিছুর রহমান ও র‌্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. সাজেদুল ইসলাম সজল। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মোঃ বিল্লাল (৩৮) জেলাঃ- জামালপুর, মোঃ জুয়েল (২৮) জেলাঃ- ঢাকা, মোঃ মইদুল ইসলাম (৩২) জেলাঃ- ঢাকা, মোঃ সবুজ মিয়া (২৮) জেলাঃ- জামালপুর, মোঃ শরিফ (২৮) জেলাঃ- ঢাকা, মোঃ লিটন (৪৫) জেলাঃ- টাঙ্গাইল, মোঃ রবিউল মোল্ল্যা (২৪) জেলাঃ- ফরিদপুর. মোঃ আবু তালেব (২০) জেলাঃ- গাইবান্ধা. মোঃ দিয়াজুল ইসলাম (২০) জেলাঃ- ঢাকা, মোঃ শিপন (২০) জেলাঃ- জামালপুর, মোঃ আব্দুল আলিম (৩৫) জেলাঃ- রংপুর, মোঃ আজাদুল ইসলাম (৫০) জেলাঃ- জয়পুরহাট, মোঃ সোহেল মোল্ল্যা (৩২) জেলাঃ- রাজবাড়ী, মোঃ আসাদুল ইসলাম (৩০) জেলাঃ- গাইবান্ধা, মোঃ এখলাছ (৩৫) জেলাঃ- ঢাকা, মোঃ মঈন মিয়া (২৮) জেলাঃ-ঢাকা, মোঃ মাসুদ রানা (২০) জেলাঃ- নাটোর, মোঃ হাবিবুর রহমান (৪৭) জেলাঃ- গাইবান্ধা, মোঃ রুবেল মিয়া (৩৩) জেলাঃ- ময়মনসিংহ, মোঃ ফজলে রাব্বি (২২) জেলাঃ- বরিশাল ও মোঃ রনি ভূঁইয়া (২৫) জেলাঃ- নোয়াখালি।অভিযানকালে ওই জুয়ার আসর থেকে  প্লেয়িং কার্ডসহ ১ টি ইলেক্ট্রিক ক্যাসিনো বোর্ড, ১০০ পিস ইয়াবা, ১২ ক্যান বিদেশী বিয়ার, ২২ টি মোবাইল এবং নগদ ৩৮ হাজার টাকাসহ ২১ জন জুয়াড়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর পাইকপাড়ায় র‌্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।এসময় র‌্যাব-৪ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।প্রেস ব্রিফিংয়ে মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদেরকে জানান,  গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানিয়েছেন, এই মিনি ক্যাসিনো চলছিল গত দেড় বছর ধরে। এখানে প্রতিরাতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার জুয়া খেলা হতো। এ ক্যাসিনোতে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত খেলতেন। রাত যত গভীর হতো ক্যাসিনো তত জমে উঠত।র‌্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার আরো বলেন, এই ক্যাসিনো ব্যবসার মালিকানায় রয়েছেন প্লাবন হোসাইন ও ওমর ফারুক নামে দু’জন ব্যক্তি। যদিও তাদেরকে আমরা এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হইনি। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে এই মিনি ক্যাসিনো সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা জানতে পারবো বলে জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোজাম্মেল হক বলেন, এটা বলা খুব মুশকিল, কারণ বাইরে প্রদর্শন করা হয় ক্যারাম বোর্ড আর এর আড়ালে চলে এরকম জুয়ার আসর কিংবা মিনি ক্যাসিনো। আমরা যখনই গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পেরেছি তখনই অভিযান করে মিনি ক্যাসিনো থেকে ২১ জনকে গ্রেফতার করেছি।এই মিনি ক্যাসিনোর বোর্ড কীভাবে দেশে আমদানি করা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো  বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, এই বোর্ড আমদানি করা হয়েছে মালয়েশিয়া থেকে। তবে, দেখে মনে হচ্ছে- সম্প্রতি আমদানি করা হয়নি। অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন,  গ্রেফতাররা প্রাথমিকভাবে এই মিনি ক্যাসিনোয় খেলায় জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত জুয়া ও মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হবে।অপর এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব-৪ এর সিও বলেন, আপনারা জানেন, অনেক বড় বড় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব। সমাজের খুব বড় বড় তথাকথিত গ্যাংস্টারকে আটক করা হয়েছে। তারা কে কীভাবে এই ক্যাসিনো বোর্ড আমদানি করেছে সেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। অবৈধভাবে যারাই এই বোর্ড আমদানি করুক না কেন, খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।