শুক্রবার ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

আমেরিকার নির্বাচন : গণতন্ত্রের বেহাল দশা -এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান..

আপডেটঃ ২:৪৭ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১০, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চ্যানেল সেভেন বিডি -: গণতন্ত্র বলতে কোনও জাতিরাষ্ট্রের (অথবা কোনও সংগঠনের) এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে নীতিনির্ধারণ বা সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিক বা সদস্যের সমান ভোটাধিকার থাকে। গণতন্ত্রে আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন ও তৈরির ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ রয়েছে, যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হয়ে থাকে। গ্রিক ‘ডেমস’ অর্থাৎ জনগণ, আর ‘ক্র্যাসি’ বা তন্ত্র -এ দুই শব্দ নিয়ে গণতন্ত্রের উদ্ভব। গণতন্ত্রের অর্থ দাঁড়াচ্ছে- জনগণ পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এক কথায় বলা যায়, ‘জনগণতন্ত্র’। আব্রাহাম লিঙ্কনের চিরায়ত সেই সংজ্ঞায় ‘ডেমোক্র্যাসি অব দ্য পিপল বাই দ্য পিপল ফর দ্য পিপল’-এ জনগণকেই এই তন্ত্রের মালিক-মোক্তার বলা হয়েছে।
আজকে বিশ^ব্যাপী স্বীকৃত সত্য এই, ‘সম্মতি ছাড়া শাসন নয়’। স্বীকৃত নির্বাচনব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে এই সম্মতির প্রকাশ ঘটে। অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত আছে। এখন এতটাই অনিবার্য এই ব্যবস্থা যে, নিকৃষ্ট স্বৈরতন্ত্র থেকে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের দাবি করে থাকেন। এখন রাষ্ট্রের নামের আগে গণতন্ত্র শব্দটি আরোপ করা হয়। যেমন- জার্মান ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক, ডেমোক্র্যাটিক কম্পুচিয়া, ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপবিলিক অব কোরিয়া এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।
বিশ্বের দেশে দেশে গণতন্ত্রের মান নিচের দিকে নামছে এবং তা চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণ, জরিপ ও গবেষণায় একই কথা বলা হচ্ছে। এই তথ্য নতুন কিছু নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, নামতে নামতে গণতন্ত্র কোথায় গিয়ে ঠেকবে? বিপন্ন হিসেবে তকমা পাওয়া অনেক প্রাণী শেষ পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে অনেক প্রাণী রক্ষাও করা গেছে। গণতন্ত্রের জন্য তবে কী পরিণতি অপেক্ষা করছে? রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞানীরা এ নিয়ে নানা গবেষণা করছেন।
এখন পরিস্থিতি যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে তা নাকি ‘বিপজ্জনক’ অধঃপতন। মার্কিন চিন্তনশালা (থিংকট্যাংক) ফ্রিডম হাউস অন্তত তাই মনে করে। গত ১৩ বছর ধরে গণতন্ত্রের মানের যে সূচক তারা করছে তাতে ধারাবাহিকভাবে পতনই ধরা পড়ছে।
রাজনীতি বরাবরই ক্ষমতার খেলা, তা আমেরিকাতেই হোক অথবা ভিন্ন কোন দেশে। সবাই চায় ক্ষমতায় টিকে থাকতে। কিন্তু সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্ধিতার বদলে ক্ষমতায় টিকে থাকার এই লড়াই যখন ভোট ডাকাতিতে পরিণত হয়, তখন পিছু হটে গণতন্ত্র, ফাঁকিতে পড়ে সাধারণ নাগরিক। তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে এই ফাঁকি অপরিচিত অভিজ্ঞতা নয়। কিন্তু অগ্রসর গণতন্ত্রের দেশ আমেরিকা, যার বৈদেশিক নীতির অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য বিশ্বে গণতন্ত্রের প্রসার, সেখানে যখন সেই একই কারচুপি দেখি, তখন বিস্মিত না হয়ে পারা
যায় না।
সম্প্রতি নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বাংলাদেশি সংগঠনের আমন্ত্রণে কথা বলতে এসেছিলেন উড্রো উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান। বাংলাদেশের চলতি গণতান্ত্রিক হালচালে অসন্তুষ্ট একদল বাংলাদেশি তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিল, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমেরিকা তাদের কীভাবে সাহায্য করতে পারে। মৃদু হেসে কুগেলম্যান জবাব দিলেন, ‘আমেরিকা তোমাদের সাহায্য করবে কি, এখন তো আমেরিকার গণতন্ত্র উদ্ধারে তার নিজেরই সাহায্য দরকার। আর যা-ই হোক, গণতন্ত্র উদ্ধারে আমেরিকার কাছে সাহায্য চাইতে এসো না।’ ভদ্রলোক ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে মার্কিন প্রশাসনের যে দুরবস্থা, সেদিকেই ইঙ্গিত করছিলেন।
আমেরিকার ২০২০ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সহজে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাননি। তিনি যে নির্বাচনে পরাজিত হলেও ক্ষমতা ছাড়তে চাইবেন না, সে কথা আগেই বলে রেখেছিলেন। নির্বাচনে কারসাজির বহু ব্যবস্থা তিনি করে রেখেছিলেন। হোয়াইট সুপ্রিমেসিতে বিশ্বাসী সন্ত্রাসীরা আগেই তাদের সমাবেশ থেকে ঘোষণা দিয়েছিল, ট্রাম্পকে তারা সশস্ত্র ক্ষমতাবলে হোয়াইট হাউসে রাখবে। অর্থাৎ, দেশে সিভিল ওয়ার বাধাবে।
ট্রাম্প শিবির চারটি রাজ্যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে অভিযোগ করে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো রাজ্যে তাদের পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এই সঙ্গে আরও নানা অভিযোগ।
যে আমেরিকা গণতান্ত্রিক বিশ্বের অভিভাবক বলে পরিচয় দেয়, অন্য দেশে গণতন্ত্র কীভাবে চলবে তার ‘ছবক’ দেয়, অন্য দেশে নির্বাচন স্বচ্ছ হয়েছে, না হয়নি তার সার্টিফিকেট দেয়, তাদের অনুগত রেজিম কোনো দেশে নির্বাচনে ক্ষমতায় না এলে জনগণের পছন্দের সরকারকে উৎখাতের জন্য তাদের পোষা সুশীল সমাজ ও সিআইএ এজেন্টদের উস্কে দেয়, আজ সেই আমেরিকাতেই অস্বচ্ছ নির্বাচন, নির্বাচনে কারচুপি এবং ভোটকেন্দ্রে একটি দলের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী হাঙ্গামায় পুলিশ এশিয়া-আফ্রিকার দেশগুলোর মতো হাঙ্গামাকারীদেরও গ্রেপ্তার করেছে।
সবচাইতে মজার ব্যাপার, ট্রাম্প তার নিজের প্রশাসনের বিরুদ্ধেই ভোটে কারসাজি করার অভিযোগ তুলছেন। এমন ঘটনা একবার ঘটেছিল পাকিস্তান আমলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রাদেশিক নির্বাচনে। ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের নূরুল আমিন সরকার হক-ভাসানীর যুক্তফ্রন্টের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়। যুক্তফ্রন্টের কাছে পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন তার নিজের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারা নির্বাচনে কারসাজি করে তার পরাজয় ঘটিয়েছে। এটা যেন নিজের বিরুদ্ধে নিজের অভিযোগ। দীর্ঘকাল পর আমেরিকার মতো একটি সুপারপাওয়ারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন এবং নিজের প্রশাসনের বিরুদ্ধেই নিজে অসত্য অভিযোগ তুলেছেন এবং দুনিয়ার মানুষকে হাসাচ্ছেন।
নানা ধরনের নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা জো বাইডেন। ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী শপথ গ্রহণের পর দায়িত্ব নেবেন জো বাইডেন। তবে বর্তমানে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা ধারনা করছে দু’শো বছর আগের ঘটে যাওয়া দশা ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়ার সম্ভবানা রয়েছে।
১৮০১ সালের ৪ মার্চ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস ১৮০০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী টমাস জেফারসনকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্ধীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেছিলেন।
অ্যাডামস ট্রাম্পের মতোই একগুঁয়েমি করেছিলেন। দৃশ্যটি ছিল এরকম- জেফারসন শপথ নিচ্ছিলেন। কিন্তু সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন অ্যাডামস। তিনি বয়কট করেছিলেন। সেই মুহূর্তে যারা দায়িত্বরত ছিলেন হোয়াইট হাউসে, মানে সেখানকার কর্মচারীরা। তারা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তারা বেয়াড়া ভাড়াটেকে উচ্ছদের মতোই হোয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্টের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন। অ্যাডামসই ছিলেন প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি নতুন সরকারি বাসভবন অর্থাৎ হোয়াইট হাউসের প্রথম বাসিন্দা ছিলেন। প্রেসিডেন্টের জন্য চলমান সমস্ত সুরক্ষা তুলে নেওয়া হলো। সমস্ত অফিশিয়াল যোগাযোগ কেটে দেওয়া হলো। প্রেসিডেন্টের সমস্ত কর্মচারীরা অ্যাডামসের নির্দেশনা গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এভাবেই অ্যাডামস পরে টের পেলেন, তিনি থেকেও নেই’’। পর্যবেক্ষকরা কৌতূহলী হচ্ছেন এটা ভেবে যে, প্রায় সোয়া দু’শো বছর পরে সেই একই ঘটনার কিংবা একই নাটক পুনরায় মঞ্চস্থ হতে চলেছে কিনা!

ফরাসী অর্থনীতিবিদ থমাস পিকেতির ‘একবিংশ শতাব্দীতে পুঁজি’ প্রকাশের পর বইটির বক্তব্যের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ ই. স্তিগলিৎজ ‘একবিংশ শতাব্দীতে গণতন্ত্র’ শীর্ষক একটি লেখায় (প্রোজেক্ট সিন্ডিকেট, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪) বলেন, ‘আজ আমরা যে মূল প্রশ্নের মুখোমুখি তা একবিংশ শতাব্দীতে পুঁজি নয়। একবিংশ শতাব্দীর প্রশ্ন গণতন্ত্র নিয়ে।’ যতই দিন যাচ্ছে সমাজে বৈষম্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন আরো বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। দেশে দেশে গণতন্ত্রের দশা খারাপ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রেও।
গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা মার্কিন জনগণের মজ্জাগত। দেড়শ বছর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের একটি উক্তিই আজো গণতন্ত্রের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সংজ্ঞা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু আজকাল ‘জনগণের জন্য জনগণের নির্বাচিত জনগণের সরকার’ কথাটা সেদেশেই তাৎপর্যহীন হয়ে পড়ছে। একশভাগ তাৎপর্যপূর্ণ অবশ্য কোনোকালেই ছিল না। তবে বর্তমানে মার্কিন দেশে গণতন্ত্রের হাল যে আরো খারাপ আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্টেট অব দি ইউনিয়ন ভাষণে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বারাক ওবামা শিকাগো শহরে দেওয়া তার ভাষণে ‘গণতন্ত্র হুমকির মুখে’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জনগণের প্রতি ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ আহ্বানও জানিয়েছেন।
বহু মার্কিন সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিক ট্রাম্পের রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি-কৌশলে দারুণভাবে বিব্রতবোধ করেছেন এবং বলেছেন যে, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার প্রশ্নে ‘আমরা দেশে দেশে যে নসিহত করে ফিরি তা যে লোক দেখানো ও কেবলই নিজ স্বার্থ উদ্ধারের পায়ঁতারাবিশেষ এমনটাই মনে করা স্বাভাবিক এখন’।
আমেরিকায় অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যা যেমন বর্ণবাদ, চরম ডানপন্থা এবং শ্বেতাঙ্গ চরমপন্থীবাদের উত্থান, ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার আন্দোলন, করোনা সমস্যার অব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আন্দোলন, তর্কবিতর্ক চলছে এবং বিশ্বায়ন-বিরোধী আমেরিকার কর্মকাণ্ড, আমেরিকার একলা চলো নীতি, বাণিজ্যযুদ্ধ, অভিবাসন বিরোধী নীতিমালা দেশে ও বিদেশে জনমতকে অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় দ্বিধাবিভক্ত করছে।
যুক্তরাষ্ট্র তার মোড়লীপনা বজায় রাখতে দেশে দেশে রাজনৈতিক নেতাদের নির্মমভাবে হত্যা ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে উৎখাতের জন্য সেখানে অরাজকতা সৃষ্টির এমন কোনো জঘন্য ও গণবিরোধী ভূমিকা নেই যাতে কিনা শামিল হয়নি বা হয় না। এর ভুরি ভুরি প্রমাণ ছড়িয়ে আছে বিগত সাত/আট দশকের ইতিহাসের পাতায় পাতায়। চিলিতে আলেন্দে, ঘানায় নক্রুমা, তুরস্কে মেন্দেরেজ, ইরাকে বাদশাহ ফয়সাল, ফিলিপাইনসে একিউনো, কংগোতে প্যাট্রিস লুমুম্বা, ইন্দোনেশিয়ায় সুকর্ন, আফগানিস্তানে জহির শাহ, বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু, আর্জেন্টিনায় পেরোন, নিকারাগুয়ায় চে গুয়েভারা এমন অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হতভাগ্যের মধ্যে গুটিকয় মাত্র! আর সাম্প্রতিক কালে ইরাকের সাদ্দাম হোসেন ও লিবিয়ার গাদ্দাফিকে উৎখাত, হত্যা ও তাদের সাজানো বাগানরূপী দেশ দু’টিকে কি জঘন্য মিথ্যাচার ও বর্বরোচিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হলো তা তো আমরা জগৎবাসী প্রত্যক্ষ করলাম। ফিলিস্তিনিদেরকে নিজ বাসভূমি থেকে কি নির্মম-নৃশংসতায় উচ্ছেদ করা হয়েছে তাও কারও দৃষ্টি এড়ায়নি!
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসে প্রথম পদক্ষেপেই যে কাজটি করেছেন, তা হল মুসলিমদের সেখানে নিষিদ্ধ করা। তার এসব কর্মকাণ্ডে ইসরাইলও উৎসাহিত হয়েছে এবং এ ধারাবাহিকতায় মুসলমানদের তীর্থস্থান পবিত্র জেরুজালেম থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। ২০০০ সালে নাইন-ইলেভেনের ঘটনার পর কিছুটা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ালেও ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর মানুষের মাঝে ঘৃণা, আতঙ্ক, বিভেদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুধু ট্রাম্পের অপরিপক্ব রাজনীতির কারণে আজ বিশ্ব রাজনীতিও চ্যালেঞ্জের মুখে।
বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা বাইডেন আমেরিকানদের মধ্যে একতা ও বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করে আমেরিকার গণতন্ত্রের হারানো ভাবমূর্তি আবারও ফিরিয়ে আনবেন।
লেখক : প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক