শুক্রবার ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

টঙ্গীতে মাউশি’র নির্দেশনা অমান্য করে বেতন শোধে চাপে দিচ্ছে শিক্ষার্থীদের…

আপডেটঃ ২:০২ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৪, ২০২০

টঙ্গী(গাজীপুর)প্রতিনিধি: –রাজধানীর উপকন্ঠে শিল্পশহর টঙ্গীতে নিম্ন আয়ের ( শ্রমজীবী )মানুষের বসবাস । শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)’র নির্দেশনা অমান্য করে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের চাপ দিচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো।
করোনা মহামারীর কারণে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে পরীক্ষার বদলে শিক্ষার্থীদের নেওয়া হচ্ছে অ্যাসাইনমেন্ট। কিন্তু এ অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের চাপ দিচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে সন্তানের বেতনের টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগে বেতনের টাকা দিতে বলা হচ্ছে। তারপর অ্যাসাইনমেন্ট দিতে বলা হয়। তবে, প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার সময় টাকা পরিশোধ না থাকলে দ্বিতীয় অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার আগে অবশ্যই বেতন দিতে বলা হচ্ছে। এ জন্য অভিভাবকের মোবাইল ফোনে দেওয়া হচ্ছে খুদে বার্তা। টঙ্গীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বেতন পরিশোধের জন্য মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের প্রত্যেককে বেতন পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানায়, মোবাইলে বার্তা পেয়ে তাদের অভিভাবকরা কষ্ট করে হলেও টাকা জমা দিয়েছেন। যারা প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার দিন টাকা পরিশোধ করতে পারেনি তাদের দ্বিতীয় অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়ার আগে টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে।গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ।
এ সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের জনপ্রতি বেতন তিন থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া পড়েছে। ছুটির আগেও যাদের কয়েক মাস বকেয়া ছিল তাদের মোট বকেয়ার পরিমাণ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়ার আগে অভিভাবকদের একসঙ্গে এত টাকা পরিশোধ করা চাপ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পশহর টঙ্গীতে নিম্ন আয়ের ( শ্রমজীবী )মানুষের বসবাস। করোনা মহামারীর কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠান / কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেকেই চাকরিচ্যুত,বেকার হয়ে পড়েছে,বাসাভাড়া দিতে পারছেনা।
বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য খুদে বার্তা দেওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর কর্মকর্তারা বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন হয় শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায়। শিক্ষকদের ও বাসাভাড়া দিয়ে সংসার চালাতে হয়। তাই আমাদের টাকা আদায় করতে হচ্ছে। ‘টাকার জন্য এসএমএস দেওয়া হয়েছে সেটা ঠিক। তবে আমরা অনুরোধ করেছি। টাকা না দিলে যে অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ করা হবে না ব্যাপারটি এ রকম নয়। তাছাড়া অনেক অভিভাবকই এসে তাদের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, করোনায় চাকরি হারিয়েছেন। এ রকম অনেক আবেদন আমরা পেয়েছি। প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু বেতন মওকুফ করা হয়েছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টঙ্গীসহ গাজীপুর জেলার প্রতিটি স্কুলই এখন শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। শিক্ষকরা বলছেন, তারাও অসহায়। বেতন আদায় না করলে তাদের নিজেদেরই বেতন হবে না। তারা শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের বোঝাচ্ছেন, স্কুল বন্ধ থাকার কারণে তাদেরই কারও কারও তিন মাস বেতন হয়নি। তারাও বেকায়দায় আছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের করোনাকালের বেতনের কী হবে তা ঠিক করতে আমরা সভা করেছি। আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানিয়েছে। সেটাও জানানো হয়নি। তাই স্কুলে বেতন আদায় করতে কোনো বাধা নেই।’ অনেক শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজ ও টাইমলাইনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির একটি ভিডিও লিংক দেখিয়ে বলা হচ্ছে, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন শিক্ষার্থীদের বেতন দিতে হবে। ( ভিডিও লিংক দেয়া হল )

করোনাকালে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধকালীন সময়ে বিদ্যালয়ে বেতন-ভাতা প্রদানের নোটিস দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবকরা। অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, স্কুল বন্ধে টিউশন ফি, কম্পিউটার চার্জ, অত্যাবশকীয় চার্জ এগুলো হয় কী করে। এসব দেখিয়ে নানা ছলচাতুরি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই করোনায় নিজেরাই চলতে পারছেন না। সেখানে স্কুলের বেতন- ভাতা কোথা থেকে দেবেন। অনেক অভিভাবক কাজের জন্য অথবা স্কুল বন্ধের জন্য রয়েছেন দূর-দূরান্তে। এই অল্প সময়ে তারা কী করে আসবেন। টাকা দেবেন। এই খরচ, সেই খরচ দেখান। আনলাইনেও সঠিকভাবে ক্লাস নিচ্ছেন না।