শনিবার ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

সিলেট বিমান বন্দরের রানওয়ে ওভারলে কাজে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়ম উদঘাটন….

আপডেটঃ ১:০০ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ২৭, ২০২১

ইমরান সিদ্দিকী রুবেল : ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের রানওয়ে ওভারলে কাজে সরকারি অডিট টিম (এজি অফিস) কর্তৃক ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়ম বেরিয়ে এসেছে। প্রকৃত ঘটনা ধামা-চাপা দিয়ে পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। এজন্য বড় অংকের চাঁদা সংগ্রহ করতে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তার আশীর্বাদপুষ্ট প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। যিনি ছুরিকাহত প্রাক্তন একজন ছাত্রদল নেতা ছিলেন। তাকে এ কাজে সার্বিক সহায়তা করছেন ‘জ’ ও ‘ম’ আদ্যোক্ষর বিশিষ্ট বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। কারন এলাকার সোনার ছেলে বলে কথা!

জানা গেছে যে, সরকার সিলেট-লন্ডন-সিলেট সরাসরি ফ্লাইট চালুর নিমিত্তে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যায়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের রানওয়ে শক্তিশালীকরণের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন করেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা। প্রকল্পকাজ বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় কোরিয়ান ঠিকাদার মেসার্স হাল্লা কর্পোরেশনকে। প্রকল্প কাজের শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়ম এবং অনৈতিক সুবিধা দেয়া-নেয়ার অভিযোগ ওঠে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৩ আগষ্ট সিলেট প্রবাসীরা প্রকল্প কাজে দূর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রীর কাছে যা আইএমইডি কর্তৃক তদন্তনাধীন। বিষয়ের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে চতুর হাবিবুর রহমান ও তার পৃষ্ঠপোষক সদ্য অবসরে যাওয়া শীর্ষকর্তা তড়িঘড়ি করে অসম্পূর্ণ প্রকল্প কাজের সমাপ্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের ফন্দি আটেন এবং সেভাবে উদ্বোধনও অনুষ্ঠানও হয়ে যায়। কিন্তু তাতে কি আর দুর্নীতির প্রতি জিরো টলারেন্স প্রদর্শনকারী সরকারের কাছ থেকে রেহাই পাওয়া যায়? ফেঁসে গেলেন এ জি’র অডিট টিমের কাছে! এবার দেখা যাক কি অঘটন ঘটিয়েছেন সোনার ছেলে এই হাবিবুর রহমান।

চুক্তিপত্র অনুযায়ী ঠিকাদার কর্তৃক সুপারভিশন কাজে কোন বৈদেশিক জনবল না আনা সত্ত্বেও পরিশোধ করা হয়েছে ১০ শতাংশ  থেকে ১৪ শতাংশ টাকা তথা এ খাত হতে ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা – চুক্তিপত্র ও ঠিকাদারের কারিগরী প্রস্তাব অনুযায়ী সাত থেকে আট জন কোরিয়ান অথবা বিদেশী প্রকৌশলী ও ১০ থেকে ১২ জন স্থানীয় প্রকৌশলীদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে কাজটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা। কিন্তু চুক্তিপত্র ও ঠিকাদারের কারিগরী প্রস্তাবনা অনুযায়ী কোরিয়ান কোম্পানী কোন কোরিয়ান অথবা বিদেশী প্রকৌশলী ও বৈদেশিক অন্যান্য কারিগরী জনবল এ প্রকল্প কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়নি। একই প্রতিষ্ঠানের কক্সবাজার বিমানবন্দরে কর্মরত এক থেকে দুই জন কোরিয়ান প্রকৌশলীকে কাজ সুপারভিশনের জন্য মাঝে মাঝে সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরে পাঠানো হত। তাদের ভিডিও ও স্থির চিত্র দেখিয়ে কর্মরত হিসেবে দেখানো হয়। অর্থাৎ ঠিকাদার কারিগরী প্রস্তাব অনুযায়ী ওসমানী বিমান বন্দর প্রকল্প কাজের জন্য পৃথকভাবে সাত জন সিনিয়র কোরিয়ান অথবা বিদেশি প্রকৌশলীসহ অন্যান্য বৈদেশিক কারিগরী জনবল আনা হয়নি। অডিট টিম উদঘাটন করেছেন যে ঠিকাদার তাদের আর্থিক প্রস্তাবে প্রতিটি কাজের আইটেমের জন্য Unit Price এর যে Breakup দিয়েছেন, সেখানে বৈদেশিক জনবলের হেতু Overhead দেখানো হয়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত। অপরদিকে দেশীয় প্রকৌশলী ও কারিগরী জনবলের জন্য PWD STANDARD OVERHEAD PRACTICE সর্বোচ্চ ৩.৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ । সে হিসেবে ৩৮৭ কোটি টাকার কার্যাদেশ মূল্যের মধ্যে ১০ শতাংশ থেকে ১৪ শতাংশ অর্থ (৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা) বৈদেশিক জনবল খাতে ঠিকাদার তার দাখিলকৃত দর বিশ্লেষণে যে খরচের প্রস্তাব করেছেন বা খরচের হিসেবে দেখিয়েছেন এবং টেন্ডারের প্রতিটি আইটেমের দর বিভাজনে নিজেই যা উল্লেখ করেছেন বাস্তবে সাইটে সেটা করেননি।

এ প্রকল্প কাজের জন্য ঠিকাদারকর্তৃক দাখিলকৃত কারিগরী প্রস্তাবের আলোকে যথাযথ ডিগ্রী ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বৈদেশিক প্রকৌশলী ও কারিগরী জনবল নিয়োগের কোন দালিলিক প্রমাণ অডিট টিমের কাছে দেখাতে পারেননি প্রকল্প পরিচালক হাবিবুর রহমান। অডিট টিমের চাহিদা অনুযায়ী ভিসা, বৈদেশিক জনবলকে ভিসা পাওয়ার জন্যে সিএএবি-এর ইনভাইটেশন, তাদের পাসপোর্ট ও ভিসার কপি কোন কিছুই তিনি প্রদর্শণ করতে পারেননি। টেন্ডার অনুযায়ী ওসমানী বিমান বন্দরের রানওয়ের কাজের জন্যে কোন বৈদেশিক অথবা কোরিয়ান প্রকৌশলী ও কারিগরী জনবল যে ভিসা নেয়নি তা সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানা যায়। অডিট টিম যথার্থ বলেছেন যে, দুই থেকে একজন যদিও অন্য প্রকল্প হতে ওসমানী বিমান বন্দরের রানওয়ের কাজে হাজিরা দিয়েও থাকে তাহলে চুক্তি অনুযায়ি সেটা হবে আরও বড় অনিয়ম। জানা যায়, স্থানীয় দরপত্রের ক্ষেত্রে পিডব্লিউডি-এর স্ট্যান্ডার্ড ওভারহেড তিন শতাংশ থেকে চার শতাংশ । কিন্তু আন্তর্জাতিক দরপত্রে বৈদেশিক জনবল ও রাত্রিকালীন কাজ বিবেচনায় ওভারহেড ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কাজ ঠিকাদার স্থানীয় জনবল দ্বারা সুপারভিশন করিয়েছেন বিধায় ভেরিয়েশনের মাধ্যমে নতুন একক দর অনুমোদন করতে হবে যেখানে ওভারহেড তিন শতাংশ থেকে চার শতাংশ হওয়া বাঞ্চনীয়। অধিকন্তু চুক্তিপত্রের ভয়াবহ লংঘণ ও এ খাতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা অনিয়মের কারণে অবিলম্বে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে এ কর্মকর্তার অধীনে চলমান চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরের অনুরুপ কাজেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।

চুক্তিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেশিনারী ও ইক্যুইপমেন্ট না আনিয়ে এ খাতে আত্মসাৎ করা হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা – এ প্রকল্প কাজের টেন্ডারে ৩টি ASPHALT BATCHING PLANT , ২টি CONCRETE/BOULDER CRUSHER MACHINE, ৫টি ASPHALT LAYING PAVER MACHINE, ১০ থেকে ১২টি ROLLER-সহ প্রায় ৩২ প্রকারের অসংখ্য মেশিনারিজ এ প্রকল্প কাজে ডেপ্লয় করার কথা। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, এ ধরনের কাজের টেন্ডারে বিপুল সংখ্যক ব্যয়বহুল মেশিনারিজ ও ইক্যুইপমেন্ট ঠিকাদারকে অবশ্যই সাইটে DEPLOY করতে হবে বলে শর্ত দেয়ার মূল উদ্দেশ্য থাকে যে, প্রতি রাতে রানওয়ের ২০০ফুট চওড়ায় ও ১৫০ফুট থেকে ২০০ফুট লম্বায় যে কাজ শুরু করা হবে তা যেন অবশ্যই নির্বিঘ্নে শেষ করা যায়। দুইটি করে ইক্যুইপমেন্ট ও মেশিনারি একসাথে চলবে, কমপক্ষে একটি করে STANDBY থাকবে যেন কোন একটি ইক্যুইপমেন্ট ও মেশিনারি BREAKDOWN হলেও STANDBY ইক্যুইপমেন্ট ও মেশিনারি দিয়ে কাজটি শেষ করে আসা যায়। অন্যথায় পরদিন সকাল থেকেই উক্ত বিমান বন্দরে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। অডিট টিম নিশ্চিত করেছেন যে, কারিগরী প্রস্তাব ও অনুমোদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী ঠিকাদারকর্তৃক একটি  ASPHALT BATCHING PLANT,একটি CONCRETE/BOULDER CRUSHER MACHINE , ২টি ASPHALT LAYING PAVER MACHINE,কয়েকটি ষ্টীল টায়ার রোলার সহ অসংখ্য ইক্যুইপমেন্ট ও মেশিনারি সাইটে DEPLOY করা হয়নি। যার মূল্যমান প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা। অনিয়মের এ বিষয়টি চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে চলমান অনুরুপ প্রকল্প কাজের সাথে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ও দলিলাদির সাথে তুলনা করলে সহজেই ধরে ফেলা যায়। সিএএবি-এর রানওয়ে ওভারলে-এর কাজের দলিলাদি স্ট্যান্ডার্ডাইয়েশনের সাথে সম্পৃক্ত থাকতেন এমন একজন বয়োবৃদ্ধ প্রকৌশলী বলেন যে প্রকল্পের গুরুত্ব বা সংবেদনশীলতার কারনে সুপারভিশনে নিয়োজিতব্য দেশী-বিদেশী জনবল ও মেশিনারী ইক্যুইপমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়গুলো ঠিকাদারের CONTRACT AGREEMENT এর PARTICULAR CONDITION OF CONTRACT(PCC) এর ভিতরেও সংযুক্ত করা হয়েছে যেন কোনক্রমেই DEVIATE করা না যায়। চুক্তিপত্রের PRORITY OF CONTRACT DOCUMENT অনুচ্ছেদে চুক্তির সকল শর্তাবলীর উপরে PCC-কে স্থান দেয়া হয়েছে এবং PCC-কে লংঘণ বা পরিবর্তন করার কোন সুযোগ নেই। অথচ হাবিবুর রহমান এ সবকিছুই নির্বিকারে লংঘণ করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, রানওয়ে ওভারলে-এর কাজে এ ধরনের ঘটনা কল্পনাও করা যায় না। কারণ চুক্তিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেশিনারীজ ও ইক্যুইপমেন্ট ছাড়া কাজ শুরু করা হলে মেশিনারীজ ও ইক্যুইপমেন্ট -এর ব্রেকডাউনজনিত কারণে কোন এক রাতে কাজ যদি অসম্পূর্ণ থাকে তাহলে পরদিন বিমান চলাচল ব্যহত হওয়া সহ যেকোন ধরণের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। একটি দুর্ঘটনা বৈশি^ক এভিয়েশন সেক্টরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ধ্বংস করে দিবে। তারা বলেন যে, ১৯৯৪-৯৬ সালে ঢাকার অনুরুপ প্রকল্প কাজে তৎকালিন ঠিকাদারের একটি মেশিনারী কম ছিল বিধায় তাকে কাজ শুরু করার জন্যে সিএএবি এক বছর পর্যন্ত কাজের অনুমতি দেয়নি। অডিট টিম আরও উদঘাটন করেছেন যে, প্রকল্প কাজে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন সময় ব্যয় হয়েছে। যার প্রধান কারণ BOULDER CRUSHER MACHINE দুইটির স্থলে একটি স্থাপন। এতে CRUSHED AGGREGATE তৈরি করতে স্বাভাবিকভাবেই দ্বিগুণ সময় লেগেছে অর্থাৎ পাথর তৈরী করতে দ্বিগুণ সময় লেগেছে বিধায় ওভারলে করতেও দ্বিগুণ সময় লেগেছে। এদিকে ঠিকাদারকে কোন ডেমারেজ আরোপ ছাড়াই বারংবার নির্বিচারে টাইম এক্সটেসশন দেয়া হয়েছে। তারা আরও দেখতে পান যে, প্রকল্প পরিচালক প্রকল্প কাজের APPROVED ESTIMATE এর DETAILED MEASUREMENT ও DRAWING DESIGN অংশ অনুসরণ না করে ইচ্ছেমত পরিবর্তনপূর্বক রানওয়ের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন THICKNESS-এর কাজ করিয়েছেন।

কে এই প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানঃ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও রাজশাহী  বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমে সংগৃহীত তথ্য ভান্ডার থেকে জানা যায় যে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অন্ধকার দশকে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের যে অংশকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে যে কয়েকটি পরিবার পদ্মার অপর পার থেকে রাজশাহী শহরে এসে এক রাতে কিছু বাড়ি-ঘর দখল করেছিলেন তাদেরই একজনের বংশধর এই হাবিবুর রহমান। মরহুম এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক-এর চরম বেয়াদব ও মেধাবী ছেলে হিসেবে মহল্লায় এবং স্কুল-কলেজে যথেষ্ট পরিচিতি! ছিল তার। এডভোকেট সাহেব ছিলেন কুলাঙ্গার খন্দকার মোশতাক-এর রাজনৈতিক অনুসারি। বিয়োগান্তক ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে খন্দকার মোশতাক যতবার রাজশাহী শহরে গেছেন ততবারই এডভোকেট সাহেবের আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন। কুলাঙ্গার সাহেবের কোলে চড়ে ছোট হাবিবুর রহমানের একটি আদরমাখা সাদা-কালো ছবি তাদের ড্রয়িং রুমে সবসময় শোভা পেত যা ১৯৯৬ সালে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সাবেক মেয়র মিনু সহ রাজশাহী শহর বিএনপি-এর সকল নেতা কর্মীদের সাথে এখনও রয়েছে তাদের বেশ সখ্যতা।

ছাত্রদল ক্যাডারদের নেতৃত্বে হাবিবঃ কলেজ গন্ডি পেরিয়ে যখন কুয়েটে (তৎকালীন খুলনা ইঞ্জিঃ কলেজ বা খুলনা বিআইটি) অধ্যয়ণরত তখন সেখানে ছাত্রদলের ক্যাডার অংশ নিজ হাতে গড়ে তোলেন এই হাবিবুর রহমান। ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের মান সম্মান ধূলোয় মিশিয়ে দিয়ে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মত দৌলতপুর-খালিশপুর স্থানীয়দের সাথে ছাত্রদলের যে গ্রুপ সশস্ত্র সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল সেই সংঘর্ষে খুলনা প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় ছাত্রদলের বৃহৎ অংশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হাবিবুর রহমান। সেই সংঘর্ষের জেরে ছাত্রদলেরই অপর এক গ্রুপ দ্বারা এলোপাতাড়ি ছুরির আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হয়ে তিনি বেশ কয়েকদিন মূমুর্ষ অবস্থায় ছিলেন। দীর্ঘ ২ বছর চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে রাজশাহী প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়ে বদলী হয়ে পাশ করে বেরিয়ে আসেন। ছাত্রদল ক্যাডারের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে হারিয়ে যায় শিক্ষাজীবনের ২টি বছর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে (কারণ হাবিবুর রহমানের স্ত্রীর সহকর্মী) ‘খ’ আদ্যোক্ষর সম্বলিত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী যিনি সে সময়ে খুলনা প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন, তিনি বলেন যে-  হাবিবের সেদিনকার সশস্ত্র অবস্থায় অগ্নিমূর্তিরুপ ও ঘটনা প্রবাহ মনে হলে আজও গা শিউরে উঠে। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন ছাত্রদলের এই দুর্ধর্ষ ক্যাডারের কিভাবে চাকুরীতে নিয়োগপূর্ব গোপনীয় চারিত্রিক যোগ্যতা প্রতিবেদন ক্লিয়ার হয়ে গেল?

চুড়ান্তভাবে চাকুরী হারানো থেকে ৪বার পার পেয়েছেন হাবিবঃ কক্সবাজার বিমান বন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ টেন্ডারে ব্যাপক দুর্নীতি, উর্ধ্বতনদের সাথে ঔদ্ধত আচরণ, দর্শনার্থীদের সঙ্গে STUBBORN আচরণ ইত্যাদি নানান অভিযোগে ৪ বার চুড়ান্তভাবে চাকুরী হারানো থেকে সুকৌশলে বেঁচে যান হাবিবুর রহমান। প্রশ্ন উঠেছে যে ছাত্রদল ক্যাডারের নেতৃত্ব দেয়ার গুনেই কি তিনি বারংবার চাকুরী হারানো থেকে বেঁচে যান। তবে সর্বদাই নাকি ছত্রছায়া পেয়েছেন বিপম-এর দুই থেকে একজন শীর্ষ কর্তার।

চতুর হাবিবঃ চতুর হাবিব বিপম ও সিএএবি-এর শীর্ষ পদের পরিবর্তনে আগাম খবরের বিষয়ে সব সময়ই আপডেট থাকেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পূর্বেই তিনি নেমে যান তার কাজে। প্রথমে খুঁজে নেন তাদের আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের। সফলও হয়ে যান তিনি। পেয়ে যান বাবু, সানি, কামরুলদের মত লোকজন যারা শুরু করে দেয় নতুন কর্মকর্তাদের কাছে তাদের গুণকীর্তন। প্রতিদানে তিনিও তাদেরকে ব্যবস্থ্া করে দেন নামে-বেনামে মেরামত,উন্নয়ন ও স্থান বরাদ্দ পাওয়ার কাজ। এটা স্বাভাবিক যে নবাগত শীর্ষপদের কোন কর্মকর্তা তার অধীনস্থ দপ্তর ও কর্মকর্তাদের সম্বন্ধে দ্রুত অবহিত হওয়ার জন্য উদ্বেলিত থাকেন। আর সেই সুবাদে হাবিব হয়ে যান তাদের কাছের লোক। এভাবে বার বার তিনি তৈরি করেন তার সোনালী দিন। বিগত দুই থেকে তিন বছর যেন ছিল তার স্বর্ণযুগ। সিএএবি-তে দূর্মুখদের মুখে মুখে আলোচিত হয় যে ২০২০ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির বিরুদ্ধে সংঘটিত ক্যু-এর নেতৃত্ব ও কলা-কৌশল নির্ধারণের মুখ্য ভুমিকায় ছিলেন হাবিবুর রহমান এবং এখনও দুর্দন্ড প্রতাপে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির সহকর্মীদের। আর এসব কাজে ব্যবহার করছেন বিপম-এর ‘জ’ ও ‘ম’-দের। যেখানে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীসহ হাবিবুর রহমানের সহকর্মীগন ‘জ’ ও ‘ম’-দেরকে স্যার বলে সম্বোধন করেন সেখানে ‘জ’ ও ‘ম’ -রা তাকে ভাই বলে সম্বোধন করেন। কারণ তিনি যে, শীর্ষ কর্তাদের কাছের লোক।  

বিশ্বস্ত হাবিব ! স্এিএবি-এর ব্যবসায়ী মহলে শোনা যায় যে, সিলেট ওসমানী বিমান বন্দর ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরের রানওয়ে ওভার লে কাজের মূল চুক্তি ও কক্সবাজার বিমান বন্দরের রানওয়ে কাজের সংশোধিত চুক্তির বিপরীতে যথাক্রমে ১০ কোটি ও ২ কোটি টাকা, রাজশাহী বিমান বন্দরের টার্মিনাল নির্মাণ কাজে ৪ কোটি টাকা, সিলেট বিমান বন্দরের প্রথম পর্যায়ের উন্নয়নে ২৫ কোটি টাকা, কক্সবাজার বিমান বন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজে প্রায় ২০ কোটি টাকা আমেরিকায় স্ত্রী-কন্যাদের নিকট পৌঁছানোর বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন হাবিবুর রহমান। এ সকল ঘটনা প্রবাহের কোন কোনটা শীর্ষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পাওয়া যেতে পারে।