সোমবার ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ ইং ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

গাজীপুরের পূবাইলে কে এই সুন্দরী প্রতারক রেশমা -প্রবাসি স্বামীকে ডিফোর্স দিয়ে কোটি টাকার ঘরবাড়ি সম্পত্তি সর্বত্র লুটে নিয়ে আজ কোটিপতি….

আপডেটঃ ১১:৪৬ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের পূবাইলে কে এই অপরূপা সুন্দরী নারী রেশমা আক্তার ওরফে রেশমা বেগম ? দীর্ঘ ১৮ বছর সৌদি আরব প্রবাসে থাকা স্বামী মো: আওলাদ হোসেনকে ডিফোর্স দিয়ে রাতারাতি রেশমা আঙ্গুল ফুলে কোটিপতি বনে গেছেন। সুন্দরী রেশমা তার প্রবাসি স্বামী আওলাদ হোসেনকে ডিফোর্স দিয়ে তার আড়াই কোটি টাকা মুল্যের ঘরবাড়ি বিষয় সম্পত্তি, বিদেশ থেকে পাঠানো কোটি টাকাসহ  সর্বত্র ছলমা আর প্রতারনা করে লুটে নিয়ে আজ কোটিপতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এছাড়া সব কিছু লুটে নিয়ে প্রতারক রেশমা ও তার সহযোগীরা প্রবাসী স্বামী আওলাদ হোসেনকে ডিফোর্স দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এরপর রেশমার বর্তমান স্বামী, বড় বোন রুমা,তার বর্তমান স্বামী এবং তাদের দুই ভাইসহ একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র জোরপূর্বক ভাবে বাড়ি জবর দখল করে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।জানা গেছে, গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ থানার চুয়ারীখোলা গ্রামের মো: ফজলুল হকের পুত্র মো: আওলাদ হোসেন। ৩ ভাই ৪ বোনের মধ্যে সে পরিবারের সকলের বড়। একমাত্র পরিবার ও বাবা-মা এবং স্ত্রীর সুন্দর জীবনের আশায় দেশ ত্যাগ করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন স্বামী আওলাদ। দীর্ঘ ১৮ বছর বাংলাদেশ থেকে সুদূর সৌদি আরবে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের মাধ্যমে তার কষ্টার্জিত টাকা সময় মতো দেশে পাঠাতেন স্বামী আওলাদ হোসেন। আর সেই প্রবাসি স্বামীর পাঠানোর টাকায় নিজেকে রাতারাতি বদলে ফেলেন স্ত্রী রেশমা। অল্প দিনের ব্যবধানে রেশমা নিজের ইচেছ মতো স্বামীর অজান্তে উঠতি বয়সের বয়ফ্রেন্ডদের সাথে আনন্দে ফুর্তিতে মেতে উঠেন অপরূপা এই সুন্দরী। অবশেষে প্রবাসি স্বামীর অর্জিত বিপুল পরিমান টাকা নিজের হেফাজতে রেখে ঘর সংসার করে খেয়ে দেয়ে উল্টো নিজের স্বামীর সাথেই প্রতারনা করেছেন শীর্ষ প্রতারক রেশমা ।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা, ভুক্তভোগী, মামলা ও জিডি সুত্রে জানা গেছে, প্রবাসির স্ত্রী রেশমা ওরফে রেশমা বেগম এভাবেই  স্বামীর অজান্তে স্থানীয় একাধিক তরুন যুবকদের সাথে পরকিয়া, প্রেম নিবেদনসহ অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন।  প্রেমের ছলনায় রেশমা গাজীপুরের বিভিন্ন রিসোর্ট, নামিদামি আবাসিক হোটেল ও ফ্ল্যাট বাসায় একাধিক বয়ফ্রেন্ডদের সাথে রাত্রি যাপন করতে শুরু করে এই রেশমা। দিন দিন সে স্থানীয় ও বহিরাগত উঠতি বয়সের তরুনদের সাথে প্রেম নিবেদনের মাধ্যমে আড্ডায় মেতে থাকো। আড্ডার ছলনায় রেশমা তার বন্ধুদের সাথে মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ে। মাদক সেবন আর আড্ডাবাজি পরবর্তীতে রেশমার নিত্য দিনের রুটিন হয়ে দাঁড়ায়।অভিযোগে জানা গেছে, গাজীপুরের পূবাইল থানার ছোট কয়ের গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় প্রতিবেশি জৈনক শাহজাহান ভুঁইয়ার নজরে পড়ে যায় সুন্দরী রেশমা। রেশমার বাড়ির পাশে ছোট একটি কাপড়ের দোকান ছিল তার। সেখানে যাতায়াত করতে শাহজাহান। সেখানে প্রতিনিয়তই যাতায়াত করার সুত্র ধরে প্রথমে খোশগল্প ও পরে উভয়ের মধ্যে পরস্পর কথোপকথনের মাধ্যমে প্রথমে প্রেম প্রেম খেলায় মেতে উঠে রেশমা ও শাহজাহান।

ওই সময় রেশমার স্বামী আওলাদ হোসেন সৌদিতে অবস্থান করতেন। এভাবেই দু’জনের মধ্যে মন দেয়া নেয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে অবৈধ কার্যকলাগে জড়িয়ে পড়ে রেশমা। সুন্দরী নারীর বিলাসিতা, আধুনিকতার ছোয়ায় নিজেকে রাতারাতি বদলে ফেলে রেশমা। রেশমাকে হাতের কাছে পেয়ে শাহজালান তার প্রেমে পড়ে হাবুডুবু খেতে থাকে। এভাবেই রাতারাতি বদলে যায় প্রবাসি আওলাদের বিবাহিতা স্ত্রী রেশমা। সে শাহজাহান এর শেল্ডারে নিজের মতো করে অবধাধ চলাফেরা শুরু করে। আর এসুযোগে শাহজাহানের সাথে যুক্ত হন স্থানীয় এলাকার কতিপয় বখাটে তরুন- যুবক। অল্প কিছু দিনের ব্যবধানে রেশশা ওই সব যুবকের সাথে প্রেমের ছলনায় মাদকের নেয়ায় ঢুকে পড়ে। তখন তার চলাফেলা শুরু হয় স্থানীয় মাদকসেবি, বিক্রেতা ও ধনী পরিবারের বয়ফ্রেন্ডদের সাথে। রাত দিন রেশমার অবাধ চলাফেলা স্থানীয় লোকজনের চোখে পড়ে। দিনে দিনে রেশমা প্রবাসি স্বামী সুন্দর সরকার নীতি ও নৈতিকতার সব কিছু ভুলে গিয়ে তরুন যুবকদের কুপ্রস্তারে সাড়া দিয়ে একাধিক যুবকের সাথে পরকিয়া শুরু করে সুন্দরী রেশমা। স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী,মাদকবেসায়ী ও মাদকসেবী এবং গাজীপুর-পূবাইল থানা পুলিশ রেশমাকে কলগার্ল হিসেবে চিনেন। এছাড়া এলাকাবাসিরা তাকে এক সুন্দরী নারী ও খারাপ মহিলা বলে জানে।ভুক্তভোগী প্রবাসি স্বামী আওলাদ হোসেন অভিযোগ করে জানান, আমি প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে আমার পরিবার,আত্নীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানতে পাই যে,আমার বিবাহিত স্ত্রী রেশমা একাধিক পুরুষের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন।

এমন খবর পেয়ে আমি  দীর্ঘ ১৮ বছর প্রবাসে কাটার পর দেশে ফিরে আসি। এরপর আমার পাঠানো কস্টার্জিত টাকা পয়সা স্বী রেশমার কাছে তার হিসেবে জানতে চাইলে রেশমা আমাকে কোন হিসেব না দিয়ে আমার সাথে নানা রংয়ের টালবাহানা ও বিভিন্ন ধরনের ছলচাতুরী শুরু করে। টাকা পয়সার হিসেব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বাকবিতন্ড ও মনোমালিণ্য হয়। এক পর্যায়ে রেশমা তার স্বামী আওলাদকে কোন টাকা পয়সা না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে শুরু করে। পরে স্ত্রী রেশমা আওলাদকে ডিফোর্স দিলে দীর্ঘ দিনের পুরানো সাজানো সংসার মুহুত্বের মধ্যে তছনছ করে দেয়। স্বামীর জমানো টাকা পয়সা সাথে করে নিয়ে হঠাৎ করে রেশমা তার বাবার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরোক্ষণে রেশমা আওলাদ হোসেনকে তালাক দিয়ে তার সমস্ত পাঠানো বিপুল পরিমান টাকা পয়সা সাথে করে নিয়ে চলে যায়। এঘটনায় পরবর্তীতে কোন উপায় না পেয়ে আওলাদ হোসেন গাজীপুর আদালতে স্ত্রী রেশমাসহ কয়েকজনকে আসামী করে একটি (সিআর) মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১২৩। তারিখ-০৫-১–২০২০।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেশমারা ৩ বোন ও ২ ভাই। তার পিতার নাম মো: হেমায়েত মোল্লা। তার বড় বোনের নাম রুমা। তার স্বামীর নাম মো: বেনজীর আহমেদ। তার মধ্যে রুমার স্বামী বেনজীর দীর্ঘ ২৪-২৫ বছর  দুবাই ও মালেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কাটিয়েছেন। রুমা ১ ছেলে ও এক মেয়ের জননী। তার ছেলের নাম রুহান (১৭) ও রাফা আহমেদ (১০)। রুমার স্বামী প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে গোপনে স্ত্রীর পরকিয়ার খবর জানতে পেয়ে গত ৫/৬ মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন।  এরপর স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে টাকা পয়সা নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতন্ত  হয়। এরই মধ্যে স্বামীর অজান্তে রুমা পরকিয়া করে অন্য এক যুবককে গোপনে বিয়ে করে ফেলে।

এর পর রুমা তার প্রবাসি স্বামী বেনজীর আহমেদকে ডিফোর্স দেয়। পরবর্তীতে রুমার স্বামী অনেকটা বাধ্য হয়ে তার দুই সন্তানকে সাথে করে নিয়ে গাজীপুরের নিজের বাড়িতে চলে যান। সুত্রে জানা গেছে, রুমার ছোট বোন রেশমা পরকিয়ার মাধ্যমে প্রবাসি স্বামী আওলাদ হোসেনকে ডিফোর্স দিয়ে ইতিমধ্যে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক স্টাফ (ট্রলিম্যান) মেহেদী হাসান মিশুকে ভালবেসে বিয়ে করে বর্তমানে ঘর সংসার করছেন। দুই বোন মিলে প্রবাসি স্বামী আওলাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক ভাবে বের করে দিয়ে গাজীপুরের পূবাইলের পৌনে তিন কাঠার জমির উপর নির্মিত ৪তলা বিলাসবহুল দুই ইউনিটের বাড়ি জবর দখল করে নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। ওই বাড়িতে ৮টি ইউনিট রয়েছে।

মাসিক ভাড়া উঠে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। উক্ত বাড়ির মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। ওই জবরদখলকৃত রেশমার বাড়িতে বড় বোন রুমা ও একই সাথে বসবাস করছেন। রুমা তার দ্বিতীয় স্বামীকে সাথে নিয়ে তৃতীয় তলায় আর রেশমা তার দ্বিতীয় স্বামী মেহেদী হাসান মিশুকে নিয়ে বসবাস করছেন।অভিযোগে জানা যায়, প্রবাসি আওলাদ হোসেনকে প্রতিনিয়তই রেশমার দুই ভাই শাহজাহান ভুঁইয়া,রূমার স্বামী ও রেশমার বয়ফ্রেন্ডরা মিলে একের পর এক প্রাণনাশের হুমকি,ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলা করে নানা ভাবে অহেতুক হয়রানী করে আসছে। নিজের করা বহুতল বাড়ি থেকে তাকে গলাধাক্কা দিয়ে জোরপূর্বক ভাবে বের করে দিয়েছে রেশমা ও তার সহযোগীরা। এদের ভয়ে আওলাদ এখন নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচেছ। এখন তার হাতে টাকা পয়সা নেই। আত্নীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা ধারকর্য নিয়ে তিনি কোনমতে বর্তমানে অনেকটাই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এছাড়া তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য স্ত্রী রেশমাসহ কতিপয় ব্যক্তিকে আসামী করে গাজীপুর আদালতে মামলা ও স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছেন।এবিষয়ে প্রতারক রেশমা ও তার সহযোগীদের বিভিন্ন তথ্য নিয়ে পরবর্তীতে আরও ধারাবাহিক প্রতিবেদন চলবে—— ?