বৃহস্পতিবার ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

অসহায় জুলেখার ভাগ্যে জুটেনি সরকারী ঘর

আপডেটঃ ৭:০৩ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২১

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ মোঃ হাবিবুর রহমান-: জামাই (স্বামী) আমারে ছাইড়া চইল্লা যাওনের পর টেহা আর খাওনের অভাবে ছেরা-ছেরি লইয়া কোন রহম বাইছা আছি   । এরহরে এক সময়  গেরামের মাইনসের (মানুষের)  বাড়িতে জ্বীয়ের কাজ করছি। অহন (এখন) ভিক্ষা করি। যহন অসুস্থ্য হইবো তহন আমার কিতা হইবো? আমি সাহায্য পাওয়ার লাগি কতবার হরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বরের কাছে গেছি। চেয়ারম্যান মেম্বর কেউই আমারে কিচ্ছু দেয়না। হোনছি শেখের বেটি দুঃখী মাইনষেরে ঘর বানাইয়া দিছে। আমার  ঘর হাইতে আর কত দুঃখী ওঅন লাগবো। আড্ডিভাঙ্গা শীতেও একটা কম্বল হাইলাম না বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান নেত্রকোনার মদন উপজেলার চানগাঁও ইউনিয়নের হাঁসকুড়ি মৈধাম গ্রামের বাসিন্দা জুলেখা।

 জানা গেছে,  ৬ সন্তানের জননী জুলেখা তার স্বামী সিদ্দিক মিয়া কয়েক বছর আগে তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। সংসারের কোনো খোঁজ-খবর না রাখায় জীবন যুদ্ধে পঙ্গু এক সন্তান ও মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে নিয়ে অভাব-অনটনে মধ্যে ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসারের হাল ধরেন জুলেখা। থাকার জায়গা না থাকায় অন্যের বাড়িতে থেকে ভিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি মানুষের কাছ থেকে হাত পেতে কিছু টাকা জমিয়ে তা দিয়ে পাঁচ-ছয় বছর আগে ৫শতক জমি ক্রয় করেন। দিনে ভিক্ষা করে, রাতে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে গড়ে তুলেন, নিজের  থাকার একটি  কুঁড়ে ঘর। কুঁড়ে ঘরটি বানালেও বসবাসের প্রায় অযোগ্য। । অন্যদিকে জীবনে পেটের ক্ষুধা নিবারণ, প্রতিবন্ধী সন্তান, মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে নিয়ে কোন রকমে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে জুলেখার।স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় মানবেতরভাবে জীবন-যাপন করছেন জুলেখা। পাড়ায় ভিক্ষা করতে না  গেলে ঘরের চুলাও জ্বালাতে পারে না জুলেখা । বর্তমানে প্রতিবন্ধী ছেলে ও মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে নিয়ে  অনাহারে জীবন-যাপন করছে । জুলেখার বাড়ী হতে ২শত গজের মধ্যে ভূমিহীনদের জন্য মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ১৮ টি পরিবারের ঘর তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে তবুও তার ভাগ্যে জোটেনি সরকারী অনুদানের ঘর।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল আলম তালুকদার বলেন,  আমার কাছে আবেদন করলে আমি একটি ঘরের ব্যবস্থা করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ এ প্রতিনিধিকে জানান  এই দুরবস্থার কথা আমি আপনাদের কাছ থেকে জেনেছি। আমি তার বাড়িতে যাব সে যদি ঘর পাওয়ার যোগ্য হয় তাহলে তাকে  আগামী বরাদ্দ আসলে তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।এবং এই ফ্যামিলিতে যদি কেহ প্রতিবন্ধী থাকে  তাহলে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয় হবে।