রবিবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

হুন্ডি গডফাদার কামরান থানার পাতা ফাঁদে যেভাবে ধরা পড়ল

আপডেটঃ ৬:১৬ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৯, ২০১৪

ইতালি থেকে হুন্ডির মাধ্যমে মুদ্রা পাচার করে কোটিপতি বনে গেছে কামরান। প্রতিবছরই লাখ লাখ মুদ্রার চালান নিয়ে সে প্রায়ই আসত ঢাকায়। কেউ তাকে স্পর্শ করতে পারতনা। গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও তাকে বিমানবন্দরের কেউ কিছু জিজ্ঞাসাও করত না। সবাইকে প্রাপ্য ভাগবাটোয়ারা ও মাসোহারা দিয়েই দিব্যি হুন্ডি ব্যবসা করছে। শেষ পর্যন্ত এ রকম চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়ে যান বিমানবন্দর থানার এস আই গোলাম কিবরিয়া। তারপরই তিনি ফাঁদ পাতেন। যে করেই হোক তাকে ধরতে হবে। শেষ পর্যন্ত সমর্থ হলেন। তাকে হাতেনাতে ধরতে না পারলেও তার এক সহযোগী নূরুল ইসলামকে আটক করেন। পরে তাকে রিমান্ডে নেয়ার পর মেলে কামরানের আসল পরিচয়। শুক্রবার সকালে তাকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করার আগে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করে পুলিশ। সেদিন ছিল ১৭ মে। বিমানবন্দর থানার দারোগা গোলাম কিববিয়ার কাছে গোপনে খবর আসে, বিপুলসংখ্যক বিদেশী মুদ্রাসহ কামরান হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে আসছে। তাকে ধরার জন্য এসআই গোলাম কিবরিয়া দলবল নিয়ে বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। বিষয়টি ধূর্ত কামরান টের পেয়ে যায়। তিনি টার্মিনাল থেকে বের হয়েই হন্তদন্ত হয়ে চলে যান কারপার্কিং মসজিদের ভেতরে। সেখানে নুরুল ইসলাম নামে এক সহযোগীর কাছে মুদ্রা ভর্তি ব্যাগ হস্তান্তর করে ফেলে। নুরুল ইসলাম দৌড়ে মসজিদে ঢুকে যায়। এমন ভাব দেখায় যাতে মনে হয় নামাজের জন্য তাড়াহুড়ো করে তাকে ছুটে যেতে হচ্ছে। পুলিশও মসজিদের আঙ্গিনায় গিয়ে চারদিকে অবস্থান নেয়। নামাজ শেষে নুরুল ইসলাম বের হওয়ার পরই তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়। সেখানেই তার দেহতল্লাশি করা হয়। তখনই মেলে টাকার থলি। এতে ছিল ৩৯ হাজার ৩৬০ ডলার ও ৫০০ ইউরো। যার মূল্য বাংলাদেশী টাকায় ৩২ লাখ।
এসআই গোলাম কিবরিয়া তাৎক্ষণিক নুরুল ইসলামকে নিয়ে যান থানায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। নুরুল ইসলাম স্বীকার করে, এ সব মুদ্রার মালিক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ইতালির নাগরিক কামরান। সেদিন দুপুরেই কামরান বিমানের ফ্লাইটে ঢাকায় আসে। মসজিদের কাছে গিয়ে এসব বিদেশী মুদ্রা নুরুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ তাকে ধরতে না পারলেও নুরুল ইসলামকে রিমান্ডে নেয়ার পর সেসব ফাঁস করে দেয়। নুরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানতে পারেন, কামরান পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই কেটে পড়ে। তার পাসপোর্ট নম্বর ও ফিরে যাওয়ার টিকেটসহ সব তথ্য জানানো হয় পুলিশকে। তারপর এসআই গোলাম কিবরিয়া ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে কামরানের দেশত্যাগের ছাড়পত্র না দেয়ার আবেদন করেন। এ অবস্থায় সোমবার দুপুরে কামরান ইতালি ফিরে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়ানোর পর তাকে আটক করা হয়। তারপর খবর দেয়া হয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়াকে। তিনি এসে থানায় নিয়ে যান কামরানকে। পরদিন তাকে আদালতে পাঠিয়ে দুদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
গোলাম কিবরিয়া জানান, কামরান হুন্ডি পাচারের গডফাদার। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর। ইতালি থেকে যখনই সে ঢাকায় আসে তখনই এভাবে বিদেশী মুদ্রা নিয়ে আসে। তার সহযোগী নুরুল ইসলামের বাড়ি নোয়াখালী। অপর সহযোগী আবু সাঈদ ইতালিতে আছে। সেখান থেকে পাঠানো হুন্ডির ডলার তার স্ত্রীর মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। আবু সাঈদকেও গ্রেফতারের জন্য ফাঁদ পাতা হয়েছে। এ চক্রের আরও ক’জন পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।
দুদিনের রিমান্ডে থাকার সময় বেশ চাতুর্য্যরে আশ্রয় নেয় কামরান। কোন প্রশ্নের সঠিক জবাব না দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে। তবে নিজেকে পেশাদার হুন্ডি ব্যবসায়ী বলে স্বীকার করেছে।
বিমানবন্দর থানায় কামরানকে হুন্ডি ব্যবসা সম্পর্কে তার সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে জনকণ্ঠকে বলেনÑ কি আর বলব। কপাল মন্দ। আর কিছু বলতে পারব না।