বৃহস্পতিবার ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

তুরাগ থেকে আটক হওয়া স্বাস্থ্যের গাড়িচালক মালেকের বিচার শুরু…

আপডেটঃ ৮:৩৫ অপরাহ্ণ | মার্চ ১১, ২০২১

মোঃ ইলিয়াছ মোল্লাঃ রাজধানীর তুরাগ থেকে র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে বাদলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অস্ত্র মামলার অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত । বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরের এক নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন । রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তাপস কুমার পাল বলেন, অস্ত্র মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। আগামী ৫ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় আসামি আবদুল মালেক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চান। তুরাগ থানার অস্ত্র মামলায় গত ১৮ জানুয়ারি আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় র‌্যাব। গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর আবদুল মালেককে তুরাগের বামনারটেক এলাকার তার নিজস্ব সাততলা ভবন থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১ । এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি গুলি, দেড় লাখ জাল বাংলাদেশি টাকা, একটি ল্যাপটপ ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয় । এ ঘটনায় করা অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুই মামলায় মালেককে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তুরাগ থানা পুলিশ । আবদুল মালেককে গ্রেপ্তার করার পর র‌্যাবের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়, আবদুল মালেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের গাড়িচালক। অষ্টম শ্রেণি পাস আবদুল মালেক ১৯৮২ সালে গাড়িচালক হিসেবে যোগ দেন। বছর চারেক পর অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে যোগ দেন। গ্রেপ্তারের আগপর্যন্ত তিনি প্রেষণে স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের গাড়িচালক ছিলেন। সূত্র জানায়, আবদুল মালেকের স্ত্রী দুজন । প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তারের নামে তুরাগের বামনারটেক রমজান মার্কেটের উত্তর পাশে ছয় কাঠা জায়গার ওপর সাততলার দুটি আবাসিক ভবন আছে। এতে ফ্ল্যাট আছে ২৪টি । ওই ভবনের সামনে আছে ১০ থেকে ১২ কাঠার আরেকটি প্লট। ভবনের তৃতীয় তলায় তিনি সপরিবার থাকেন। বাকি ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া। বড় মেয়ে বেবির নামে কামারপাড়ায় ১৫ কাঠা জায়গার ওপর ইমন ডেইরি ফার্ম নামের একটি গরুর খামার আছে। এর বাইরে হাতিরপুলে পৈতৃক সাড়ে চার কাঠা জায়গার ওপর দশতলা ভবন নির্মাণাধীন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, আবদুল মালেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ চিকিৎসকনেতাদের আনুকূল্য পেয়েছেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া খাতুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইব্রেরিতে কাজ করেন। আবদুল মালেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ড্রাইভারস অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি সংগঠন তৈরি করে নিজেই সংগঠনের সভাপতি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেই তিনি তাঁর পরিবারের সাতজনকে চাকরি দিয়েছেন।