মঙ্গলবার ১৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

ঘোষণাতেই আটকে আছে বিএনপির আন্দোলন

আপডেটঃ ৬:৩৩ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৯, ২০১৪

ঈদপরবর্তী সরকারবিরোধী সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দিলেও বিএনপির সেই আন্দোলন এখন পর্যন্ত ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে কবে নাগাদ আন্দোলন শুরু হবে তা নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। কার্যত আন্দোলনের লক্ষ্যে দল ও জোটের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তুতি, পরিকল্পনা গ্রহণ বা আলোচনা হয়নি। ফলে পরিকল্পনাবিহীন এ ধরনের আন্দোলনের ডাক দেয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েছে শরিক জোট ও দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এ অবস্থায় কবে নাগাদ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বা কর্মসূচি ঘোষিত হলেও তার ভিত্তিতে আন্দোলন কতটা এগিয়ে যাবে সে সংশয় রয়ে গেছে। জোট নেতারা জানান, ২০ দলীয় জোটের নেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রমজান মাসের প্রতিটি ইফতার মাহফিলের বক্তৃতায় ঈদপরবর্তী সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দেন। কিন্তু ঈদের দশদিন পার হয়ে গেলেও বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত জোটের শরিক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণে কোনরূপ আলাপ-আলোচনা করেননি। এমনকি নিজ দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও এরূপ কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে। যদিও আগামী সোমবার শরিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সন বৈঠক করবেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জোটনেতারা জানতে পেরেছেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিক এ বৈঠকের আগে দীর্ঘ দেড় মাসের মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে আন্দোলন নিয়ে কোনোরূপ আলোচনা করা হয়নি। তাই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের ঘোষণা শুধু বিএনপির একক সিদ্ধান্ত বলে তারা মতপ্রকাশ করেন।
এসব বিষয়ে বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, আন্দোলনের জন্য ঈদপরবর্তী সময়কে টার্গেট করা হলেও এবার আন্দোলনকে একটি চূড়ান্ত রূপ দেয়ার জন্য কৌশলগত সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের জন্য একটু বাড়তি দম নেয়ার জন্যই এ কৌশল বলে সূত্র জানায়। এছাড়া দল ও জোটের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর জন্যও একটু সময় নেয়া হচ্ছে। যাতে শরিক দলগুলোর মধ্যে বিশেষ করে জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের বোঝাপড়াকে আরেকটু ঝালিয়ে নেয়া যায়। কারণ বিগত আন্দোলনে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যে অনেক ফারাক ছিল। অপরদিকে জামায়াত ইসলামীও চাচ্ছে, বিগত আন্দোলনের মতো এবার একক ক্ষমতা প্রদর্শন করবে না। তারাও সমভিত্তিতে আন্দোলনে অংশীদার হতে চায় বলে বিএনপিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে জামায়াতের একটি সূত্র জানায়, এবার আন্দোলনে আগে বিএনপিকে মাঠে নামতে হবে। এরপর জামায়াত সর্বশক্তি নিয়ে আন্দোলনকে সফল রূপ দিতে জীবনবাজি রেখে মাঠে নামবে। এজন্য দলের সব নেতাকর্মীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। কিন্তু বিগত আন্দোলনের মতো এবারো বিএনপি একক সিদ্ধান্তে আন্দোলনের কোনো রূপরেখা দিলে তা পর্যালোচনা করে আন্দোলনে শরিক হবে দলটি। একইরকম মনোভাব ব্যক্ত করেছেন জোটের অন্য শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও।
তবে দলের একটি সূত্র জানায়, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় সরকার বিরোধী আন্দোলনে এবার ডু অর ডাই ম্যাচ খেলতে চাচ্ছে বিএনপি। এ কারণে দলকে সাংগঠনিকভাবে দ্রুত শক্তিশালী করার দিকেই নজর বেশি। কেননা, বিগত দিনের আন্দোলনের আগে ছিল নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি। আর এখন যেমন করেই হোক ক্ষমতায় বসে থাকা শাসক দলকে বিদায় করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা। এছাড়া এবার আন্দোলনের নেতৃত্বে খালেদা জিয়া হলেও মূল পরিকল্পনায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান থাকবেন। তার পরিকল্পনায় আগামী দিনের আন্দোলনে গতি আনতে ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া দলের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন। যে কোনো সময়ে এসব অঙ্গসংগঠনের কয়েকটির নতুন কমিটি ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানায়। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে অযাচিতভাবে দলের হাইকমান্ড আন্দোলনের হুঙ্কার ও আল্টিমেটাম দিয়ে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্তিতে ফেলায় এবারো আশান্বিত হতে পারছেন না তারা।
নেতাকর্মীরা জানান, দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা না কাটিয়ে আন্দোলনের ঘোষণার পরও আন্দোলনের ধরন সম্পর্কে তারা এখন পর্যন্ত ওয়াকিবহাল নন। আদৌ আন্দোলন হবে কি না তা নিয়েও তারা সন্দিহান। কারণ হিসেবে তারা জানান, সারাদেশে সাংগঠনিকভাবে দলের অবস্থা এখন অনেকটা হ-য-ব-র-ল। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর বিএনপি চেয়ারপার্সন সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তা মাঝপথেই হোঁচট খেয়েছে। বিএনপির ৭৫টি সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে মাত্র ১৬টি কমিটিকে ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও বাকি কমিটির কোনো সুরাহা এখনো হয়নি। এছাড়া যে কমিটিগুলোকে ভেঙে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছিল তাও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। ওই সব কমিটি এখন পর্যন্ত গঠন করতে পারেনি। বরং এসব এলাকায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাত্রা আরো কয়েকগুণ বেড়েছে। দলের অঙ্গসংগঠনের অবস্থা আরো বেহাল। পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে এমন গুঞ্জন সৃষ্টি হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বর্তমান কমিটির নেতারাও দলের হাল ছেড়ে দিয়েছেন।
দলের ঈদপরবর্তী আন্দোলন, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও পরিকল্পনা বিষয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণায় বিএনপি এখন কোনো নমনীয়তা দেখাচ্ছে না। আমরা একটা টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছি। এর জন্য আমাদের প্রস্তুতির প্রয়োজন। তিনি জানান, সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদে জনসম্পৃক্ততা এখন রাস্তায় না থাকলেও তাদের চিন্তায় রয়েছে। এখন আমাদের তা কাজে লাগাতে হবে। দেশের জনগণ এ সরকারকে শুধু বিরোধিতাই করে না, এখন ঘৃণা করে।